বিরল এক প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মালয়েশিয়া থেকে ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে রাজি হয়েছে মিয়ানমার। মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ কয়েক ডজন শরণার্থীকে আটক করার কয়েক দিন পর মিয়ানমার ওই রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে রাজি হয়েছে বলে বুধবার কুয়ালালামপুর জানিয়েছে।
এই তথ্য জানিয়ে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থায় নিবন্ধিত ২ লাখ ১৫ হাজারেরও বেশি শরণার্থী এবং আশ্রয়প্রার্থী বর্তমানে মালয়েশিয়ায় বসবাস করছেন। তাদের মধ্যে মিয়ানমারের নির্যাতিত সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ১ লাখ ২৬ হাজারের বেশি সদস্য রয়েছে; যা দেশটিতে থাকা সবচেয়ে বড় শরণার্থী সম্প্রদায়।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির রাজধানী কুয়ালালামপুরের পূর্বাঞ্চলীয় একটি শহর সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেছেন, ‘‘মানুষ প্রশ্ন তুলছে, আমরা কেন তাদের স্রেফ ফেরত পাঠিয়ে দিচ্ছি না। কিন্তু ফেরত কোথায় পাঠাব? মিয়ানমার আগে তো তাদের ফিরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল।’’
তিনি বলেছেন, এখন মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্কের কারণে তারা মালয়েশিয়া থেকে ৫ হাজার জনকে ফেরত নিতে রাজি হয়েছে। কুয়ালালামপুরে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক একটি কার্যালয়ের বাইরে থেকে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ ১০০ জনেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আটক করার কয়েক দিন পর ওই মন্তব্য করেছেন তিনি।
রোহিঙ্গা অধিকার রক্ষা বিষয়ক মালয়েশিয়ার একটি সংস্থা বলেছে, দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় পেনাং রাজ্যের একটি অনানুষ্ঠানিক বসতি থেকে উচ্ছেদের হুমকির মুখে পড়ার পর ওই রোহিঙ্গারা সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন।
মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা বারনামা বলেছে, পরবর্তীতে আটক ব্যক্তিদের কাছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনারের (ইউএনএইচসিআর) ইস্যু করা বৈধ কাগজপত্র ছিল বলে নিশ্চিত করেছেন কর্মকর্তারা।
বুধবার দেশটির পুলিশের জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা বলেছেন, চূড়ান্ত যাচাই-বাছাই শেষে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দলটিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। পরে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন স্থানে পাঠিয়ে দেওয়া হয় তাদের।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ এই শরণার্থী গোষ্ঠীকে আশ্রয় দিলেও মালয়েশিয়া ১৯৫১ সালের আন্তর্জাতিক শরণার্থী কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশ নয় এবং আনুষ্ঠানিকভাবে তারা শরণার্থীর আইনি স্বীকৃতি দেয় না।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির ফ্যাক্ট-চেকাররা বলেছেন, মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরণার্থীরা অনলাইনে অপপ্রচারের লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন; যা উগ্র বিদেশিভীতি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন বাড়িয়ে তুলছে বলে মানবাধিকারকর্মীরা জানিয়েছেন।
অধিকাংশ মুসলিম জনগোষ্ঠীর এই রোহিঙ্গাদের অনেকেই ২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নৃশংস দমনপীড়নের সময় দেশ ছেড়ে পালিয়েছিলেন। ওই সময় সামরিক অভিযানে রোহিঙ্গা গ্রামগুলো পুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা করা হয়েছিল। বর্তমানে নেদারল্যান্ডসের রাজধানী হেগে অবস্থিত জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালতে এই বিষয়ে দায়ের করা গণহত্যা মামলার বিচার চলছে।
সূত্র: এএফপি।
এসএস
