বিজ্ঞাপন

সিজেপির কর্মসূচিতে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিজেপি-কংগ্রেসের মধ্যে উত্তেজনা

সিজেপির কর্মসূচিতে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিজেপি-কংগ্রেসের মধ্যে উত্তেজনা

ভারতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাটফর্ম ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) কর্মসূচিতে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দেশটির বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। অন্যদিকে, ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যের জন্য রাহুল গান্ধীর কাছে ক্ষমা দাবি করেছে।

বুধবার (২৯ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাহুল গান্ধী ছাত্রদের ওপর পুলিশের দমন-পীড়নের ঘটনায় জবাবদিহি দাবি করেছেন। তবে তার এ মন্তব্যকে উপহাস করেছে বিজেপি।

বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের নৃশংসতার অভিযোগ তুলে তিনি প্রশ্ন করেন, পুলিশ এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ বা ধারণা কোথা থেকে পেল? একই সঙ্গে তিনি সংসদে দেওয়া বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইতেও অস্বীকৃতি জানান। এ সময় তার বক্তব্যের কিছু অংশ সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ (এক্সপাঞ্জ) দেওয়া হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, রাহুল গান্ধীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে নিজেদের অবস্থান আরও জোরালো করেছে বিজেপি। দলের মুখপাত্র সম্বিত পাত্র এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, রাহুল গান্ধী এবং সংসদে তার দেওয়া বক্তব্যের বিষয়ে ভারতীয় জনতা পার্টির অবস্থান আমি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিচ্ছি। রাহুল গান্ধীকে অবশ্যই ক্ষমা চাইতে হবে।

পাত্র বলেন, রাহুল গান্ধী দাবি করেছেন, তিনি কোনো বিজেপি নেতার কাছে কখনো ক্ষমা চাইবেন না। অথচ মাত্র কিছুদিন আগেই তিনি শিবরাজ সিং চৌহানের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। অতীতে আদালতের কাছেও তিনি ক্ষমা চেয়েছেন। এসব বিষয় সবারই জানা।

রাহুল গান্ধী বলেন, বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের ওপর পেলেট গান দিয়ে গুলি চালানো হয়েছে। পেলেটের আঘাতে আহত এক শিক্ষার্থীর একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। আমি এইমসের মেডিকেল সার্টিফিকেট দেখেছি। শুধু সাধারণ লাঠি নয়, পেরেক লাগানো লাঠিও ব্যবহার করা হয়েছে। পুলিশ এই ধারণা কোথা থেকে পেল?

সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, তাকে পার্লামেন্টে কথা বলার অনুমতি দেওয়া হয়নি। লোকসভায় বিরোধীদলীয় নেতাকে কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না। আমি একাধিকবার স্পিকারকে সভায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে অনুরোধ করেছি। কিন্তু আমাকে অনুমতি দেওয়া হয়নি।

কংগ্রেস নেতা বলেন, আমি অমিত শাহকে এই নৃশংসতার জন্য দায়ী করে বক্তব্য দিয়েছিলাম। এরপর আমাকে জানানো হয়েছে, ক্ষমা চাইলে তবেই কথা বলতে দেওয়া হবে। কিন্তু আমি বিজেপি, আরএসএস কিংবা তাদের সঙ্গে যুক্ত অন্য কোনো ব্যক্তির কাছে কখনোই ক্ষমা চাইব না।

সংসদে দেওয়া ভাষণে রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, পুলিশ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকে নির্দেশনা পাচ্ছিল। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, আমি শুধু বলেছি, দুটি সম্ভাবনা থাকতে পারে। একটি হলো, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছিলেন। দ্বিতীয়টি হলো, তিনি বিষয়টি জানতেন না। প্রথম ক্ষেত্রে তিনি দায়ী, দ্বিতীয় ক্ষেত্রে তিনি অযোগ্য। এই দুটির মধ্যে একটিই সত্য হতে পারে; তৃতীয় কোনো সম্ভাবনা নেই।

সূত্র: এনডিটিভি

এমবি