বিজ্ঞাপন

ফ্রান্সে কমেছে বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদন

ফ্রান্সে কমেছে বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদন

ইউরোপের দেশ ফ্রান্সে ২০২৫ সালে মোট এক লাখ ৪৫ হাজার ২৭০টি আন্তর্জাতিক সুরক্ষা আবেদন জমা পড়েছে বলে দেশটির শরণার্থী ও রাষ্ট্রহীন ব্যক্তিদের সুরক্ষাবিষয়ক দপ্তর (অফপ্রা) জানিয়েছে। আগের বছরের তুলনায় আবেদন ৫.৫ শতাংশ কমলেও বাংলাদেশি নাগরিকরা এখনও শীর্ষ আবেদনকারী দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে।

মঙ্গলবার প্রকাশিত অফপ্রার ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে রেকর্ড ১ লাখ ৫৩ হাজার ৭১৫টি আবেদন জমা পড়ার পর ২০২৫ সালে আবেদন কিছুটা কমে আসে। 

তবে প্রথমবারের আশ্রয় আবেদন ১৪.৪ শতাংশ কমলেও আশ্রয় আবেদন পুনর্বিবেচনার আবেদন বেড়েছে ৪৩ শতাংশ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে মোট ১ লাখ ১১ হাজার ৩৪৩টি ছিল প্রথমবারের আশ্রয় আবেদন। একই সময়ে পুনর্বিবেচনার আবেদন ছিল ৩৩ হাজার ৭১৩টি।

• ইউক্রেন শীর্ষে, বাংলাদেশ নবম

অফপ্রার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রথমবারের মতো আশ্রয় আবেদনকারীদের তালিকায় ইউক্রেন শীর্ষে উঠে এসেছে। দেশটি থেকে ১১ হাজার ৯৮৯টি আবেদন জমা পড়েছে। ২০২২ সালে রাশিয়ার হামলার পর থেকেই দেশটি থেকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আশ্রয় আবেদন অব্যাহত রয়েছে। 

দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে আফ্রিকার দেশ ডিআর কঙ্গো। তাদের আবেদন ১১ হাজার ৩৩৮টি। টানা সাত বছর শীর্ষে থাকার পর এশিয়ার দেশ আফগানিস্তান নেমে এসেছে তৃতীয় স্থানে, যেখানে আবেদন হয়েছে ১০ হাজার ৮২২টি।

তালিকায় চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে রয়েছে যথাক্রমে গিনি (৫ হাজার ৯৩৮) এবং আইভরি কোস্ট (৫ হাজার ২১৪)। এরপর রয়েছে হাইতি, তুরস্ক ও সুদান।

বাংলাদেশ ২০২৫ সালে নবম অবস্থানে রয়েছে। দেশটি থেকে প্রথমবারের আশ্রয় আবেদন করেছেন ৩ হাজার ৮১৬ জন। যা আগের বছরের তুলনায় ৩৬.৭ শতাংশ কম। বাংলাদেশিদের মধ্যে নারীর হার ছিল ১৮.৬ শতাংশ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক আবেদনকারীর হার ৭.৩ শতাংশ।

• বাংলাদেশিদের সুরক্ষা পাওয়ার হার কম

অফপ্রার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে মোট ৪ হাজার ৫৩৪টি আবেদন (প্রথম আবেদন, পুনর্বিবেচনা ও পুনরায় খোলা আবেদন) জমা পড়ে। এর মধ্যে অফপ্রা থেকে ৩৯৩ জন রিফিউজি স্ট্যাটাস এবং সহায়ক সুরক্ষা (সাবসিডিয়ারি প্রটেকশন) পেয়েছেন।

অন্যদিকে ৪ হাজার ৯০৭টি আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। এছাড়া অফপ্রা ও ফরাসি জাতীয় আশ্রয় আদালত (সিএনডিএ)-এর সম্মিলিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে মোট সুরক্ষা স্বীকৃতির হার ছিল মাত্র ৭.৪ শতাংশ। যা এশিয়ার অনেক দেশের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

• সার্বিক সুরক্ষার হার বেড়েছে

অফপ্রা বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে অফপ্রা মোট ১ লাখ ৫৬ হাজার ৫০০টির বেশি সিদ্ধান্ত দিয়েছে। যা আগের বছরের তুলনায় ১০.৩ শতাংশ বেশি। 

একই সময়ে আন্তর্জাতিক সুরক্ষা পেয়েছেন ৭৮ হাজার ৭৮৩ জন। অর্থাৎ সামগ্রিক সুরক্ষা স্বীকৃতির হার দাঁড়িয়েছে ৪১.২ শতাংশ। অফপ্রা জানিয়েছে, ২০২৫ সালে আবেদন নিষ্পত্তির গতি বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে অপেক্ষমাণ মামলার সংখ্যা প্রায় ১১ শতাংশ কমেছে। 

পাশাপাশি শরণার্থী ও সুরক্ষা পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য ৭৯ হাজারের বেশি জন্ম সনদ, বিবাহ সনদ ও অন্যান্য নাগরিক নথি ইস্যু করা হয়েছে। এটি আগের বছরের তুলনায় ২.৩ শতাংশ বেশি। ইনফোমাইগ্রেন্টস।

এসএস

বিজ্ঞাপন