জাতীয় নিরাপত্তাকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করে দেশের বাইরে তৈরি হিউম্যানয়েড, অর্থাৎ মানুষের আদলে তৈরি রোবট এবং কোয়াড্রুপেড, অর্থাৎ চার-পা-বিশিষ্ট রোবট আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কমিউনিকেশন্স কমিশন (এফসিসি) এক বিবৃতিতে জানায়, বিদেশে তৈরি উন্নত রোবোটিক ডিভাইস যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ও সাইবার নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। হোয়াইট হাউসের একটি টাস্ক ফোর্সের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়৷ সেখানে বলা হয়, বিদেশে তৈরি রোবট গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং মার্কিন নাগরিকদের ‘নিরাপত্তা ও সুরক্ষার’ জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এফসিসি জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট ‘মোবাইল রোবট' বলতে এমন সব যন্ত্রকে বোঝানো হচ্ছে যার ওজন দুই কেজির বেশি এবং যা সেন্সর, নেটওয়ার্ক সংযোগ ও সফটওয়্যার ব্যবহার করে বাধা এড়িয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলাচল করতে পারে।
হিউম্যানয়েড এবং কোয়াড্রুপেড রোবট প্রযুক্তির উন্নয়নে মার্কিন ও চীনা কোম্পানিগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছে। তবে সেই প্রতিযোগিতায় চীন স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে। বার্কলেস-এর বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে হিউম্যানয়েড রোবটের প্রায় ৮৫ শতাংশই চীনের তৈরি। মরগান স্ট্যানলির বিশেষজ্ঞদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে চীনের হিউম্যানয়েড রোবট বাজারের আকার ১৫ বিলিয়ন ডলারে (১৩.২ বিলিয়ন ইউরো) পৌঁছাতে পারে।
আগামী সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে চীনের প্রধানমন্ত্রী শি জিনপিংয়ের বৈঠক হওয়ার কথা৷ বিশ্লেষকেরা মনে করেন, তার আগে এফসিসির এই নিষেধাজ্ঞার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে চীনের রোবট নির্মাতারা বাদ পড়তে পারেন এবং সে কারণে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে পারে।
এসএমডব্লিউ
