গত ৫ মাস ধরে ইরানের সামরিক ও প্রতিরক্ষা স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর পর এবার দেশটির জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র; আর সম্ভাব্য এ অভিযানে মার্কিন বাহিনীর সঙ্গী হবে ইসরায়েল।
শুক্রবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ। সেখানে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য অর্থনৈতিক বিপর্যয় এড়াতে ৩ আগস্ট সোমবারে আর্থিক বাজার খোলার আগেই ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে প্রথম দফা হামলা শেষ করতে চায় মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনী; তবে হামলার নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তর পেন্টাগনের সূত্রের বরাত দিয়ে সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে ইসরায়েলকে ইতোমধ্যে এ ব্যাপারে জানানো হয়েছে এবং তেল আবিব হামলার সময়সীমা নির্ধারণে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমন্বয় করতে আগ্রহী। তবে সূত্রের বরাতে আরও জানা গেছে যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনও এ হামলার ব্যাপারে চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কায় সোমবার আর্থিক বাজার খোলার আগেই যেকোনো অভিযান শেষ করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল, যদিও কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি। সূত্রমতে, ইসরায়েলকে বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং তারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমন্বয় করছে, কিন্তু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্যে দিয়ে শুরু হয়েছিল এ যুদ্ধ। তবে দু’দিন পরে অর্থাৎ ২ মার্চ ইসরায়েল এ যুদ্ধ থেকে সরে গিয়ে লেবাননে হিজবুল্লার বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে, আর এদিকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে থাকে যুক্তরাষ্ট্র।
ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলাকে ঘিরে ফের যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য জোট বাঁধা সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানতে ইসরায়েলের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল সিবিএস নিউজ। এক কর্মকর্তা মার্কিন এই সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ইরানে ফের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে হামলার শুরু করার ব্যাপারে তারা এখনও কিছু জানেন না এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকেও এখন পর্যন্ত এ ব্যাপরে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি।
বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মেরিল্যান্ডে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারি অবকাশযাপন কেন্দ্র ক্যাম্প ডেভিডে মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সে বৈঠকে তিনি বলেছেন, “আমরা তাদের খুব কঠোরভাবে আঘাত করব। সেই আঘাত এত কঠিন হবে যে তারা একসময় বলা শুরু করবে, ‘থামুন, আমরা আর নিতে পারছি না।’”
গতকাল এক ব্রিফিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের প্রধান বাসভবন ও দপ্তর হোয়াইট হাউসের মুখাপাত্র ক্যারোলিন লিভিট বলেছেন, “এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র জিতবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নজরদারির আওতায় ইরান কখনও পরমাণু বোমার অধিকারী হতে পারবে না।”
পেন্টাগন সূত্রে জানা গেছে, সম্ভাব্য এ হামলায় ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং তেল শোধানাগারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া রাজধানী তেহরানকে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন করাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এদিদিকে এক প্রতিবেদনে অপর মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল দাবি করেছে, বৃহস্পতিবার ক্যাম্প ডেভিডে মন্ত্রিসভার যে বৈঠক করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, সেই বৈঠকেই তিনি ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার অনুমোদন দিয়ে ফেলেছেন।
সূত্রের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যদি কূটনৈতিকভাবে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়, তাহলে সম্ভাব্য এ হামলা স্থগিত করে আলোচনায় ফিরে আসবেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
তবে শুক্রবার এক প্রতিবেদনে ইরানের আধা সরকারি বার্তাসংস্থা তাসনিম নিউজ দেশটির নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনো সম্ভাব্য হামলার জবাবে বড় মাত্রার পাল্টা হামলা পরিচালনার জন্য তেহরান প্রস্তুত আছে।
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি
এসএমডব্লিউ
