স্পেনের উত্তর আফ্রিকার ছিটমহল সেউতায় প্রবেশে ব্যর্থ হওয়ার পর এবার অভিবাসনপ্রত্যাশীরা অপর ছিটমহল মেলিলাতে প্রবেশের জন্য তৎপর হয়ে উঠেছেন। আজ শনিবার মরক্কো-মেলিলা সীমান্তের বেনি আনসার ক্রসিং এলাকায় অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সঙ্গে ব্যাপক সংঘাত হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যে এই সংঘাতের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। মরক্কোভিত্তিক সংবাদমাধ্যম হিবাপ্রেস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, শত শত অভিবাসনপ্রত্যাশী বেনি আনসার সীমান্ত ক্রসিং দিয়ে জোরপূর্বক প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। এ সময় পুলিশের লাঠিচার্জ এবং অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ছোড়া ইট-পাটকেলে উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
পুলিশের ওপর হামলা ও সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে সীমান্ত থেকে কমপক্ষে ৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে হয়েছে বলে জানিয়েছে হিবা প্রেস।
উল্লেখ্য, সেউতা ও মেলিলা— ভূমধ্যসাগরের তীরে অবস্থিত স্পেনের এই দুটি ছিটমহল শহর মিলে আফ্রিকার সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একমাত্র স্থলসংযোগ তৈরি করেছে। ইউরোপে পাড়ি জমাতে চাওয়া মানুষেরা প্রায়ই এই দুই সীমান্ত দিয়ে দলে দলে ঢোকার চেষ্টা করেন।
সেউতায় পৌঁছাতে অভিবাসনপ্রত্যাশীরা অনেক সময় মরক্কোর ফনিদেক শহর থেকে সাঁতার কাটেন। স্প্যানিশ ভূখণ্ডে পৌঁছাতে তাঁদের প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়। আবার অনেকেই কাছের বেলইউনেশ শহর দিয়েও পার হওয়ার চেষ্টা করেন। কারণ, ওই পথে দূরত্ব কিছুটা কম।
গত বৃহস্পতিবার মরক্কো থেকে সাগরপথে থেকে সাঁতরে সেউতায় প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ। স্পেনের সেনাবাহিনী এবং মরক্কো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতায় ইতোমধ্যে তাদের অধিকাংশকে মরক্কোতে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়েছে। সেউতায় প্রবেশের জন্য সাগর পাড়ি দিতে গিয়ে কমপক্ষে ৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সেই ঘটনার রেশ না কাটতেই শনিবার মরক্কো-মেলিলা সীমান্তে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটল।
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি
এসএমডব্লিউ
