বিজ্ঞাপন

কিউবাজুড়ে আবারও লোডশেডিং

কিউবাজুড়ে আবারও লোডশেডিং

কিউবায় আবারও বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। জাতীয় গ্রিড বিকল হয়ে যাওয়ায় পুরো দেশ অন্ধকারে ডুবে গেছে। এমনকি দেশটিতে কখন বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধার হবে, সে বিষয়েও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

সোমবার (৩ আগস্ট) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ইলেকট্রিক ইউনিয়ন (ইউএনই) জানিয়েছে, রোববার গভীর রাতে বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দেয়। তবে প্রতিষ্ঠানটি তাৎক্ষণিকভাবে এর কারণ, বিঘ্নের মাত্রা বা কখন বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধার করা হবে, সে বিষয়ে কিছু জানায়নি।

দেশব্যাপী বিদ্যুৎ বিভ্রাটের আগে হাভানার বিদ্যুৎ কোম্পানি ট্রান্সফরমার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, সার্কিট বিকল হওয়া এবং অপর্যাপ্ত উৎপাদনক্ষমতার কারণে পরিকল্পিত বিদ্যুৎ কর্তনের কথা জানিয়েছিল।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, রোববার ভোরে গুয়ানাবাকোয়া, হাবানা দেল এস্তে, লা লিসা এবং মারিয়ানোসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এসব অভিযোগের কোনো সমাধান করা যায়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষ সাধারণত এমন সম্পূর্ণ বিপর্যয়ের পর পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে প্রথমে হাসপাতাল, পানি সরবরাহব্যবস্থা এবং খাদ্য সরবরাহকেন্দ্রগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করে। এ জন্য ছোট পরিসরে বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক চালু করা হয়। এরপর ধাপে ধাপে বৃহত্তর বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রগুলোকে পুনরায় সংযুক্ত করা হয়।

  • দেশব্যাপী ধারাবাহিক বিদ্যুৎ বিভ্রাট

চলতি বছরে দেশব্যাপী ধারাবাহিক বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মধ্যে রোববারের ঘটনাটি সর্বশেষ। এর আগে গত জুলাই মাসে নয় দিনের মধ্যে তিনবার বিদ্যুৎ গ্রিড বিকল হয়েছিল। এর মধ্যে একই সপ্তাহে দুইবার সারা দেশে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটে। সে সময় প্রায় ১ কোটি মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছিল। এমনকি কর্তৃপক্ষকে বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধারে হিমশিম খেতে হয়েছিল। কারণ, নেটওয়ার্ক পুনরায় চালু করার পরও দেশটি চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছিল না।

জ্বালানি ও যন্ত্রাংশের ঘাটতি এবং পুরোনো তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে বারবার ত্রুটি দেখা দেওয়ার কারণে কিউবার বিদ্যুৎ ব্যবস্থার অবনতি ঘটেছে। দেশটিতে থাকা কিছু বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র ৩০ বছরেরও বেশি পুরোনো। এছাড়া এসব স্থাপনার যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণও করা হয়নি।

কিউবা সরকার লোডশেডিংয়ের জন্য ওয়াশিংটনকে দায়ী করে আসছে। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের কারণে দ্বীপটিতে তেল সরবরাহ, অর্থায়ন এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ মারাত্মকভাবে সীমিত হয়ে গেছে।

চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করে। এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বীপরাষ্ট্রটির ওপর তেল-সংক্রান্ত আবরোধ আরোপ করায় কিউবা জ্বালানির একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হারিয়েছে।

ভেনেজুয়েলা দীর্ঘদিন ধরে কিউবার প্রধান তেল সরবরাহকারী ছিল। এছাড়া ওয়াশিংটনের ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে মেক্সিকো থেকেও তেল আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে।

দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে পরিবহন, পানি সরবরাহ, যোগাযোগ ও চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহে পরিবারগুলো খাদ্য সংরক্ষণ, রান্না এবং স্বাভাবিকভাবে ঘুমানোর মতো দৈনন্দিন কাজেও চরম দুর্ভোগের মুখে পড়ছে।

সূত্র: আল জাজিরা 

এমবি