কানাডার দ্বিতীয় বৃহত্তম বিমান পরিষেবা সংস্থা ওয়েস্টজেটের ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট বিভাগের কর্মীদের ধর্মঘটের কারণে গ্রাউন্ডেড বা স্থবির অবস্থায় আছে প্রায় ৬০০ ফ্লাইট। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন কমপক্ষে ২ লাখ ৫০ হাজার জন যাত্রী।
বিমান পরিষেবা সংস্থার যে কর্মীরা উড়োজাহাজের কেবিন অপারেশন অর্থাৎ ফ্লাইটের সময় যাত্রীদের নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও আরাম নিশ্চিত করার দায়িত্বে থাকেন, তারা ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট বিভাগের অন্তর্ভুক্ত। ওয়েস্টজেটের ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট বিভাগে ৪ হাজারেরও বেশি কর্মী আছেন। রোববার থেকে ধর্মঘটে গিয়েছেন ওয়েস্টজেটের ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট বিভাগের কর্মীরা।
এদিকে সোমবার কানাডায় সরকারি ছুটি ছিল। ফলে রোব এবং সোম— দু’দিনের ছুটি কাটাতে অনেকেই ভ্রমণের পরিকল্পনা করে টিকিট বুক করেছিলেন। ধর্মঘটের কারণে তাদের সেই পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে।
অতিরিক্ত কাজের জন্য মজুরি বা ভাতার দাবিই ওয়েস্টজেটের ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট কর্মী বা ক্রুদের ধর্মঘটের প্রধান কারণ। কেবিন অপারেশনের বাইরে গ্রাউন্ড পর্যায়ে কাজ করতে হয় এ বিভাগের কর্মীদের। সম্প্রতি অতিরিক্ত কাজের জন্য কোম্পানি কর্তৃপক্ষের কাছে অতিরিক্ত মজুরি দাবি করেছিলেন ওয়েস্টজেটের ফ্লাইট অ্যাটেডেন্টরা; কিন্তু কর্তৃপক্ষ দাবি পূরণ না করায় ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন তারা।
ওয়েস্টজেটের ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট বিভাগের কর্মীদের এ দাবিকে অযৌক্তিক বলারও তেমন সুযোগ নেই। কারণ কানাডার অন্যান্য বিমান পরিষেবা সংস্থাগুলো তাদের ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের অতিরিক্ত কাজের জন্য বাড়তি মজুরি দিচ্ছে। ২০২২ সালে কানাডার অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বিমান পরিষেবা সংস্থা ডেল্টা এয়ারলাইন্স সর্বপ্রথম গ্রাউন্ড পর্যায়ের কাজের জন্য তাদের ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের অতিরিক্ত পারিশ্রমিক প্রদান করা শুরু করে। চলতি বছর ফেব্রুয়ারির দিকে একই নীতি অনুসরণ করা শুরু করে কানাডার বৃহত্তম বিমান পরিষেবা সংস্থা এয়ার কানাডাও।
ওয়েস্টজেটের কর্মীদের ধর্মঘট ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা এক বার্তায় কানাডার কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মসংস্থান বিষয়ক মন্ত্রী প্যাটি হ্যাজডু জানান, কোম্পানির কর্মীরা ও মালিকপক্ষ কোনো ঐকমত্যে পৌঁছাতে না পারায় তিনি হতাশ।
কানাডার বিমান পরিষেবা সংস্থাগুলোর ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট বিভাগের কর্মীরা দেশটির সরকারি চাকরিজীবীদের ট্রেড ইউনিয়ন কানাডিয়ান ইউনিয়ন অব পাবলিক এমপ্লয়িজের (সিইউপিএম) সদস্য। সিইউপিএমের মুখপাত্র আলিয়া হুসাইন এ ধর্মঘটের জন্য ওয়েস্টজেটের মালিকপক্ষকে সরকারি দায়ী করেছেন।
রোববার এক বিবৃতিতে আলিয়া বলেছেন, “ওয়েস্টজেটে ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টরা গত ১১ মাস ধরে তাদের প্রাপ্য অতিরিক্ত মজুরির দাবি জানিয়ে আসছেন। কর্তৃপক্ষ যদি তাদের দাবিকে আমল দিতেন— তাহলে আজ আমরা এমন অবস্থায় পৌঁছতাম না।”
এদিকে ধর্মঘটের কারণে যেসব যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের কাছে ক্ষমা চেয়েছে ওয়েস্টজেট কর্তৃপক্ষ। টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে।
ওয়েস্টজেটের ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টরা বর্তমানে প্রতি ঘণ্টা ২৮ দশমিক ৮৮ কানাডিয়ান ডলার থেকে ৫৩ দশমিক ৬১ কানাডিয়ান ডলার মজুরি হিসেবে আয় করেন। যদি কর্তৃপক্ষ তাদের দাবি মেনে নেয়, তাহলে শতকরা হিসেবে ঘণ্টাপ্রতি তাদের মজুরি বাড়বে ৭০ শতাংশ।
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি
এসএমডব্লিউ
