ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অপরাধে ২ জন নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকার। নাগরিক দু’জনের নাম ওমিদ বেহজাদ এবং পৌরিয়া সাফভাত।
আজ সোমবার তাদের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়েছে। এই দু’জনের বিরুদ্ধে ইরানের সামরিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত স্থাপনাগুলোর তথ্য ইসরায়েলে পাচারের অভিযোগ ছিল।
এই মৃত্যুদণ্ড এমন এক উত্তেজনাকর মুহূর্তে কার্যকর করা হলো, যখন দেশটি জানুয়ারিতে হাজার হাজার বিক্ষোভকারীকে হত্যা করে দেশব্যাপী অস্থিরতা দমন করলেও, ২৮শে ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সামরিক অভিযান শুরুর পর নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়েছে ইরানে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সোমবার ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে ফের শান্তি সংলাপ শুরু হবে; এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়েই সোমবার বলেছেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের কোনো আলোচনা হচ্ছে না।
২০২৫ সালের জুনের মাঝামাঝি সময়ে ইসলায়েলের বিমান বাহিনী ইরানে বিমান অভিযান শুরুর পর ১২ দিনের যুদ্ধ হয়েছিল দু’পক্ষের মধ্যে পরে যুক্তরাষ্ট্রও এতে যোগ দেয় এবং ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে এর অবসান ঘটেছিল ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের।
ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং জানুয়ারির বিক্ষোভ মোকাবেলার পদ্ধতি নিয়ে বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে টানাপোড়েনের পর চলতি ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ফের ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তবে অভিযানের শুরু পর্যায়েই, অর্থাৎ ২ মার্চ ইরানে অভিযান বন্ধ করে লেবাননে সশস্ত্র ইসলামি গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর এ পর্যন্ত দু’দফা যুদ্ধবিরতি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে, গত মে মাসে অপারেশন এপিক ফিউরির আনুষ্ঠানিক সমাপ্তিও ঘোষনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র, কিন্তু এখন পর্যন্ত সংঘাত থামেনি, দু’পক্ষের মধ্যে কোনো শান্তিচুক্তিও হয়নি।
সূত্র : রয়টার্স
এসএমডব্লিউ
