বিজ্ঞাপন

৫ অঞ্চলে বিদেশি মিশন বন্ধ করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

৫ অঞ্চলে বিদেশি মিশন বন্ধ করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন কূটনৈতিক মিশনের কার্যক্রম সীমিত করার অংশ হিসেবে পাঁচটি বৈদেশিক মিশন বন্ধ করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কংগ্রেসকে জানিয়েছে, তারা পাঁচটি বৈদেশিক মিশন বন্ধ করার পরিকল্পনা করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে সোমবার (৩ আগস্ট) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহের শেষের দিকে কংগ্রেসের কয়েকটি কমিটিতে এ-সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে। এতে গ্রানাডার সেন্ট জর্জেস, জাপানের নাগোয়া, ইন্দোনেশিয়ার মেদান, ক্যামেরুনের ডুয়ালা এবং কানাডার উইনিপেগে অবস্থিত মার্কিন মিশনগুলো বন্ধ করার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিটি জনসমক্ষে প্রকাশ করা না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিজেদের নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি।

এর আগে গত বছরের শুরুতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক ডজনের বেশি বিদেশি মিশন বন্ধের প্রস্তুতি শুরু করেছিল। সে সময় বার্তা সংস্থা রয়টার্সসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বিষয়টি তুলে ধরা হয়। রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের প্রশাসন মার্কিন আমলাতন্ত্র ঢেলে সাজানোর বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবে এসব পদক্ষেপ নিয়েছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউসের অফিস অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেট ৩০টি বিদেশি মিশন বন্ধ করার লক্ষ্যে একটি উচ্চাভিলাষী কর্মসূচির পক্ষে মত দিয়েছিল। প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে যুক্তি দিয়ে বলেন, ছোট কিছু বিদেশি মিশন অপরিহার্য নয় এবং ব্যয়সাশ্রয়ীও নয়।

ডেমোক্র্যাটরা এবং কয়েকজন সাবেক পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, মার্কিন কূটনৈতিক উপস্থিতি হ্রাস এবং বিশ্বব্যাপী শত শত কোটি ডলারের সহায়তা প্রদানকারী ইউএস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের (ইউএসআইডি) বিলুপ্তি যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক নেতৃত্বকে দুর্বল করার ঝুঁকি তৈরি করছে। একই সঙ্গে এটি চীন ও রাশিয়ার মতো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর জন্য সেই শূন্যস্থান পূরণের সুযোগ তৈরি করেছে।

গত বছরও মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ব্যাপক আমলাতান্ত্রিক সংস্কার করা হয়েছিল। এর ফলে কয়েক ডজন দপ্তর পুনর্গঠন এবং শত শত কর্মী ছাঁটাই করা হয়। তবে সে সময় কোনো বৈদেশিক মিশন বন্ধ করা হয়নি।

রোববার এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতি দেয়। এতে মিশন বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি। তবে বলা হয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক উপস্থিতি যেন দক্ষ ও কার্যকর হয়, তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, তারা কংগ্রেসের নির্ধারিত বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার প্রক্রিয়া অনুসরণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রানাডার সেন্ট জর্জেসে অবস্থিত মার্কিন মিশনটি একটি দূতাবাস। মেদান, উইনিপেগ এবং নাগোয়ার কেন্দ্রগুলো কনস্যুলেট। আর ডুয়ালার কেন্দ্রটি একটি দূতাবাসের শাখা কার্যালয়। কনস্যুলেট ও শাখা কার্যালয়গুলো সাধারণত কোনো বিদেশি দেশের রাজধানীর বাইরের অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করে।

রয়টার্স জানিয়েছে, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের শাসনামলে মার্কিন সরকার বেশ কয়েকটি নতুন বৈদেশিক মিশন চালু করেছিল। এগুলোর সবই প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত। ওই অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ডুয়ালা বা উইনিপেগে চীনের কোনো কার্যকর বৈদেশিক মিশন নেই। তবে সেন্ট জর্জেস, নাগোয়া এবং মেদানে তাদের কূটনৈতিক উপস্থিতি রয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স 

এমবি