ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইন্টারসেপ্টরের মজুত বিপজ্জনক মাত্রায় কমে গেছে। মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের থাড অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার যুদ্ধের আগের সময়ের মজুতের প্রায় ৮০ শতাংশ এবং প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের প্রায় ৫০ শতাংশ ব্যবহার করে ফেলেছে।
এর আগের এক প্রতিবেদনে সিএনএন বলেছিল, যুদ্ধের শুরুর দিকে গত এপ্রিলে মার্কিন সামরিক বাহিনী টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ৩০ শতাংশ ব্যবহার করে ফেলেছে। দেশটির একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন এই সংবাদমাধ্যম বলেছে, প্রতিরক্ষা গোলাবারুদের এই ঘাটতিই ছিল অন্যতম প্রধান কারণ, যার ওপর ভিত্তি করে উপদেষ্টারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে গত সপ্তাহে ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত বড় ধরনের হামলা স্থগিত রাখতে রাজি করান।
তবে হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর চাপের মুখে ট্রাম্প ওই হামলা স্থগিত করেছিলেন।
• মজুতে টান
গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের হিসাব অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে মার্কিন বাহিনীর কাছে প্রায় ২ হাজার ২০০টি প্যাট্রিয়ট এবং ৪৫২টি থাড ক্ষেপণাস্ত্র মজুত ছিল।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধের সময় মার্কিন সেনাবাহিনী তাদের অত্যন্ত নিখুঁত দূরপাল্লার ভূপৃষ্ঠ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য অস্ত্রের প্রায় পুরোটাই ব্যবহার করে ফেলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দূরপাল্লার নিখুঁত লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্রের এই ঘাটতি ও উদ্বেগ নিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সও প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
• হামলা স্থগিতের নেপথ্যে কী?
ওই সূত্র বলেছে, ইরানের বিরুদ্ধে সংঘাত বাড়ানোর বিষয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনার সময় উপসাগরীয় মিত্ররা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করে। তারা বলেন, এই ঘাটতি ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা আক্রমণ প্রতিহত করার সক্ষমতায় বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, যেসব মধ্যপ্রাচ্যের দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, তাদের অধিকাংশই যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। তারা স্বীকার করেছেন, মজুতের এই সংকট ইরান থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ঠেকানোর ক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব সক্ষমতা ব্যাহত করবে; বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো পদক্ষেপের জবাবে তাদের ওপর হামলা চালানো হলে।
সূত্রগুলো বলেছে, গোলাবারুদ ফুরিয়ে যাওয়ার সাম্প্রতিক সতর্কবার্তা, জ্বালানি খাতসহ ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে সামরিক অভিযানের সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাব সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর উদ্বেগ—সব মিলিয়ে ট্রাম্পের সবচেয়ে কট্টরপন্থী উপদেষ্টাদেরও গত সপ্তাহে পরিকল্পিত সামরিক অভিযান স্থগিতের আহ্বান জানাতে বাধ্য করে।
• হোয়াইট হাউসের অস্বীকার
এদিকে, হোয়াইট হাউস গোলাবারুদের ঘাটতির এই খবর আনুষ্ঠানিকভাবে অস্বীকার করেছে। সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যানা কেলি বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমস্ত কৌশলগত লক্ষ্য এবং তার বাইরের প্রয়োজনীয়তা পূরণের জন্য পর্যাপ্তের চেয়েও বেশি গোলাবারুদ ও মজুত রয়েছে।
কেলি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিবাদে জড়ালে কী পরিণতি হয়, তা অপারেশন এপিক ফিউরি স্পষ্ট করে দিয়েছে। তা সত্ত্বেও, প্রেসিডেন্ট আমাদের প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের ক্রমাগত যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন, যা বিশ্বের সেরা।
সূত্র: সিএনএন।
এসএস
