মাত্র এক মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয় দফায় নাইজেরিয়ার সেনাবাহিনীর সদস্যদের বেতন সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বুধবার নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা তিনুবু বলেছেন, দেশের ওপর চেপে বসা বিশাল নিরাপত্তাসংকট নিরসনে লড়ে যাওয়া সৈন্যদের প্রতি সরকারের গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার অংশ হিসেবেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
গত জুলাইয়ে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী সর্বনিম্ন পদমর্যাদার সৈন্যদের মাসিক বেতন ৩৬ ডলার (২৭ পাউন্ড) থেকে বাড়িয়ে ৭৩ ডলার নির্ধারণ করেন। এবার প্রেসিডেন্টের সরাসরি হস্তক্ষেপে আগামী সেপ্টেম্বর থেকে তারা মাসে ১৩২ ডলার করে পাবেন।
ইসলামপন্থী জঙ্গি ও স্থানীয়ভাবে দস্যু হিসেবে পরিচিত সন্ত্রাসী অপহরণ চক্রগুলোর সহিংসতা দমনে প্রেসিডেন্ট তিনুবুর নেওয়া ধারাবাহিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দেশটির সরকার জানিয়েছে।
এর আগে, গত মাসে নতুন করে ২৮ হাজার সৈন্য নিয়োগ এবং সেনাবাহিনীতে চারটি নতুন ডিভিশন গঠনের নির্দেশ দেন নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট। দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া চরম নিরাপত্তাহীনতা ২০২৭ সালের সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন নাইজেরিয়ার রাজনীতির অন্যতম মূল ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়ে প্রেসিডেন্ট ‘দস্যুপনা, অপহরণ ও সন্ত্রাসবাদের মতো হুমকি’ মোকাবিলায় নিয়োজিত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের সাহস ও আত্মত্যাগের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, আমাদের ঘরে নিরাপদে রাখার পেছনে যে নারী-পুরুষেরা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তাদের পাশে থাকা ও তাদের কাজের উপযুক্ত মূল্যায়ন করা অত্যন্ত জরুরি।
তিনি বলেন, আমি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের আহ্বান জানাব, দেশের প্রতি তাদের এই অসামান্য সেবাকে সরকার যে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে দেখে; আমাদের এই পদক্ষেপকে তারা যেন সেই বার্তা হিসেবেই গ্রহণ করেন। আমাদের দেশকে ধ্বংস করতে চাওয়া শত্রুদের আমরা একযোগে ধূলিসাৎ করব।
সৈন্যসংখ্যা ও সামরিক বাজেট বৃদ্ধি করা সত্ত্বেও দেশটিতে একের পর এক আসা বিভিন্ন সরকার পুরোপুরি শান্তিশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হিমশিম খাচ্ছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বোকো হারাম ও ইসলামিক স্টেট ওয়েস্ট আফ্রিকা প্রভিন্সের (ইসোয়াপ) মতো জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো টানা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
অন্যদিকে দেশটির উত্তর-পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলজুড়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ভারী অস্ত্রে সজ্জিত দস্যু দল; যাদের প্রধান কাজ লুটপাট চালানো ও মোটা অঙ্কের মুক্তিপণের জন্য সাধারণ মানুষকে অপহরণ করা।
এ ছাড়াও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জমিজমা নিয়ে কৃষক ও রাখালদের মধ্যে প্রাণঘাতী রক্তক্ষয়ী সংঘাত নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র : বিবিসি।
এসএস
