ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনার মাঝে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে টেলিফোন করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। এ সময় তারা মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। একই সাথে ভারত-ইসরায়েল বিশেষ কৌশলগত অংশীদারত্বের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রগতির বিষয়ও পর্যালোচনা করেন।
বৃহস্পতিবার নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনালাপের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে ভারতের প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ফোন পেয়েছিলাম। সময়ের সাথে অধিক সুদৃঢ় হওয়া ভারত-ইসরায়েল বিশেষ কৌশলগত অংশীদারত্বের নানা খাতের অগ্রগতি নিয়ে আমাদের কথা হয়েছে। পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও আমরা মতামত বিনিময় করেছি।
ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ফোনালাপে দুই শীর্ষ নেতা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ধারাবাহিক অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। একই সাথে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থে বিভিন্ন খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তারা।
‘‘দুই নেতাই ভবিষ্যতে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলার বিষয়ে একমত হয়েছেন।’’
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর আমন্ত্রণে গত ফেব্রুয়ারিতে এক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল নিয়ে দুই দিনের সফরে ইসরায়েল গিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি। সফরকালে দুই নেতাই ২০১৭ সালে মোদির ঐতিহাসিক ইসরায়েল সফর এবং ২০১৮ সালে ভারতে নেতানিয়াহুর সফরের স্মৃতিচারণ করেন; যা দুই দেশের সম্পর্কের এক নতুন যুগের সূচনা করেছিল বলে লিখেছে এনডিটিভি।
উদীয়মান প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্য, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে ভারত-ইসরায়েলের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে ফোনালাপে একমত হন ভারত ও ইসরায়েলের ওই দুই প্রধানমন্ত্রী।
টেলিফোনে আলাপকালে দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিতে শান্তি, উদ্ভাবন ও সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়ে তোলার বিষয়ে ঐক্যমতে পৌঁছান মোদি ও নেতানিয়াহু।
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত ভারত-ইসরায়েলের যৌথ এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা গড়ে তোলার মাধ্যমে শান্তি, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির যৌথ লক্ষ্য অর্জনে উভয় প্রধানমন্ত্রী তাদের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এ সময় দুই নেতাই স্বীকার করেন, ভারত ও ইসরায়েলের সক্ষমতা পরস্পরের পরিপূরক। ইসরায়েল প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে বিশ্বে নেতৃত্ব দিচ্ছে, অন্যদিকে মেধা, উন্নত উৎপাদন শিল্প ও উদ্যোক্তা শক্তির অন্যতম বড় কেন্দ্র ভারত।
সূত্র: এনডিটিভি।
এসএস
