বিজ্ঞাপন

মৃত্যুর আগে বেশিরভাগ রোগী যেসব স্বপ্ন দেখেন

মৃত্যুর আগে বেশিরভাগ রোগী যেসব স্বপ্ন দেখেন

মানুষ মারা যাওয়ার আগে এমন কিছু স্বপ্ন দেখেন যেগুলো শুনে নার্স এবং চিকিৎসকরা প্রায় সময় বুঝতে পারেন এই রোগী হয়ত মারা যাবেন। মৃত্যুর আগে রোগীরা কি ধরনের স্বপ্ন দেখেন সেটি নিজের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে জানিয়েছেন চিকিৎসক ক্রিস কের। তিনি বলেছেন, নার্সিং স্টাফরা জানতে পারেন কখন তাদের রোগীদের মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এসেছে।

সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমসকে যুক্তরাষ্ট্রের বাফেলোর এ চিকিৎসক বলেছেন, এসব স্বপ্নের মাধ্যমে রোগীরা তাদের জীবনের শেষ মুহূর্তে নিজেদের মধ্যে কিছু স্বস্তি পান। আর মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে আসলে রোগীরা স্বপ্নগুলো বারবার দেখতে পান।

এরমধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো তারা তাদের মৃত আত্মীয়দের স্বপ্নে দেখেন।

এই চিকিৎসক বলেছেন, মৃত্যুর আগের স্বপ্নগুলো সাধারণ স্বপ্নের চেয়ে আলাদা। এই স্বপ্নগুলো অনেক বিস্তৃত ও বাস্তবিক হয়। আর রোগীরা তখন মনে করেন তারা বাস্তবেই আছেন।

২০১৪ সালে নিজের চালানো একটি গবেষণায় তিনি পেয়েছেন, মৃত্যুর আগে ১০ জন রোগীর ৯ জনই অন্তত একবার এমন একটি স্বপ্ন দেখেন।

তিনি উদাহরণ হিসেবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের এক সৈনিকের কথা উল্লেখ করেছেন। যার সহকর্মীরা যুদ্ধ চলাকালীন নরমান্দি সৈকতে প্রাণ হারিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি বেঁচে গিয়েছিলেন। আর এই বেঁচে ফেরার বিষয়টি তাকে পীড়া দিত। নিজের মৃত্যুর কিছুদিন আগে তিনি সেই নরমান্দি সৈকত ও তার সহযোদ্ধাদের স্বপ্নে দেখেন। এরমধ্যে এক সহযোদ্ধা তাকে বলেন, ‘তোমাকে আমরা বাড়িতে নিতে এসেছি।’

এসব স্বপ্নে মূলত মৃত আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে তারা একত্রিত হওয়া এবং ক্ষমার বিষয়টি দেখেন। মৃত্যুর আগে যে শান্তি প্রয়োজন হয় এই স্বপ্নগুলো থেকে তারা সেগুলো পেয়ে থাকেন।

আরেকটি অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বলেছেন, ২০ বছর বয়সী এক তরুণী মরণব্যধিতে আক্রান্ত হন। কিন্তু তিনি বিষয়টি কোনোভাবেই মানতে পারছিলেন না। এরমধ্যে তার দাদা তাকে স্বপ্নে দেখা দেন এবং তাকে শান্তনা দেন। এমন স্বপ্ন দেখার পর এ তরুণীর মন শান্ত হয়েছিল এবং শান্তভাব নিয়েই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

ক্রিস কের বলেছেন, "রোগীরা যেভাবে আবেগ আর জীবনের শেষ মুহূর্তে (স্বপ্নের মাধ্যমে) তাদের সবচেয়ে কাছের মানুষগুলোর সঙ্গে আবার এক হতে পারেন, তা আমাকে সত্যিই অবাক করে। অনেক সময়ই এই দেখা পাওয়ার ঘটনাগুলো ঘটে শৈশবে হারিয়ে যাওয়া (মৃত) মানুষদের সাথে। এর মানে হলো, আমরা এই পৃথিবী ছেড়ে একাকী বিদায় নিই না—বরং কোনো বাবা-মা, ভাই-বোন, হারানো সন্তান কিংবা প্রিয় পোষা প্রাণীকে সাথে নিয়েই বিদায় নিই।"

নিজের জীবনেও এমন বাস্তব অভিজ্ঞতা দেখেছেন চিকিৎসক ক্রিস কের। তার যখন ১২ বছর বয়স ছিল তখন তার বাবা মারা যান। আর তার আগে তার বাবা পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে পড়েছিলেন। এবং তিনি এ ঘোরা নিয়ে বেশ আনন্দিত ও উচ্ছ্বসিত ছিলেন।

মৃত্যুর আগে হঠাৎ করে সুস্থ হয়ে যান

চিকিৎসক ক্রিস কের বলেছেন, অনেকে মস্তিষ্কজনিত বিভিন্ন সমস্যা যেমন স্ট্রোক, টিউমার ও স্মৃতিভ্রমে ভোগেন। কিন্তু মৃত্যুর আগে তারা হঠাৎ করে যেন ভালো হয়ে যান। তারা নার্স ও আত্মীয়দের সঙ্গে সুন্দর করে কথা বলেন। আগে স্মৃতিভ্রম থাকলেও তারা হঠাৎ করে আগের কথা বলতে পারেন। তাদের আগের স্মৃতি মনে পড়ে যায়।

সূত্র: দ্য টাইমস

এমটিআই