বিজ্ঞাপন

ইয়েমেনে কেন আবার লড়াই শুরু হলো?

ইয়েমেনে কেন আবার লড়াই শুরু হলো?

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা দেশটির নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে গত সপ্তাহ থেকে হামলা শুরু করে। এখন পর্যন্ত তাদের হামলায় অন্তত ৩০ ইয়েমেনি সেনা নিহত হয়েছেন। হুতিরা ইয়েমেনের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে থাকা সেনাদের টার্গেট করছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার ইরান সমর্থিত এ বিদ্রোহী গোষ্ঠী ঘোষণা দেয় ইয়েমেনের একাধিক জায়গায় ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোন দিয়ে তারা বড় ধরনের অভিযান শুরু করেছে। 

আর এই হামলার জন্য তারা কারণ দেখিয়েছে— সৌদি আরব উত্তেজনা বৃদ্ধির জন্য এবং তাদের ওপর হামলা চালানোর জন্য এসব জায়গায় সেনা ও যুদ্ধ সরঞ্জাম জড়ো করছে। কিন্তু হুতিরা এই অভিযোগের ব্যাপারে কোনো প্রমাণ হাজির করেনি।

বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, হুতিরা হামলা চালিয়েছে মারিব এবং হারদামাউতে। এ দুটি প্রদেশে ৩০ সেনার মৃত্যু হয়েছে। হারদামাউত ইয়েমেনের সবচেয়ে বড় প্রদেশ। যার পুরোটাই সৌদির সীমান্তের সঙ্গে লাগোয়া।

এদিকে হুতি ও ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বাহিনীর মধ্যে ২০১৪ সাল থেকেই লড়াই হচ্ছে। ওই বছর তারা রাজধানী সানা দখল করে ফেলে। পরের বছর সৌদি ও সংযুক্ত আরব আমিরাত এতে হস্তক্ষেপ করে। তাদের লক্ষ্য ছিল হুতিদের নিশ্চিহ্ন করা। কিন্তু এই হামলার জেরে ইয়েমেনে শুরু হয় গৃহযুদ্ধ। যার প্রভাবে দেশটিতে আধুনিক সময়ে সবচেয়ে বিপর্যয়কর দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়।

হুতিরা অস্ত্র ও গোলাবারুদ পায় ইরান থেকে। ১৯৯০ সালে তারা ছোট গ্রুপ থাকলেও বর্তমানে শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছে এবং ওই অঞ্চলে ইরানের সবচেয়ে বড় সমর্থকও তারা।

২০২২ সালে হুতি ও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়। কিন্তু প্রথম থেকেই এটি ভঙ্গুর ছিল। সৌদি ওই সময় থেকেই হুতি নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে অর্থনৈতিক ও আকাশ অবরোধ আরোপ করে। যা গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ভাঙার চেষ্টা করছে হুতিরা।

সম্প্রতি সৌদি আরবের সঙ্গে হুতিদের উত্তেজনা তৈরির পর আবারও ইয়েমেনে লড়াই শুরু হয়েছে। এরমধ্যে হুতিরা সৌদি আরবেও সরাসরি হামলা চালিয়েছে।

সূত্র: সিএনএন

এমটিআই

বিজ্ঞাপন