বিজ্ঞাপন

থাইল্যান্ডে টাকা নিয়ে বিবাদ

সরকারি কর্মকর্তাকে গুলি চালিয়ে হত্যা করলেন সাবেক এমপি

সরকারি কর্মকর্তাকে গুলি চালিয়ে হত্যা করলেন সাবেক এমপি

আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত বিরোধের জেরে থাইল্যান্ডে প্রকাশ্য দিবালোকে স্থানীয় সরকারের এক কর্মকর্তাকে গুলি করে হত্যা করেছেন দেশটির সাবেক এক সংসদ সদস্য (এমপি)। মর্মান্তিক এই ঘটনার পরপরই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। পরে থানা প্রাঙ্গণেই সাংবাদিকদের কাছে ঘটনার দায় স্বীকার করেন অভিযুক্ত সাবেক ওই এমপি।

রাজধানী ব্যাংককের উত্তরাঞ্চলীয় ননথাবুরি প্রদেশের একটি সরকারি ভবনের বাইরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার কয়েক দিন আগে একই অঞ্চলে একটি স্কুলে নির্বিচারে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছিল; যা পুরো থাইল্যান্ডের আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার চরম ভঙ্গুর পরিস্থিতিকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

গ্রেপ্তারের পর পুলিশ প্রহরায় সাবেক এমপি চালং রিউরাং সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। তিনি বলেন, পাওনা টাকা ফেরত চাওয়া নিয়েই স্থানীয় কর্মকর্তা থংচাই ইয়েনপ্রাসের্টের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।

নিজের অপরাধ স্বীকার করে চালং বলেন, আমি হেঁটে তার গাড়ির কাছে যাই এবং জানালার কাচে টোকা দিয়ে বলেছি, আমি একটু কথা বলতে চাই। কিন্তু তিনি কথা বলতে রাজি না হওয়ায় আমি নিজের কাছে থাকা পিস্তল বের করি।

‘‘আমার গুলি করার কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। কিন্তু তার গাড়িচালক পিস্তল উঁচিয়ে আমার দিকে তাক করায় আমি বাধ্য হয়ে গুলি চালাই।’’

এদিকে ফরা নাং ক্লাও হাসপাতালের পরিচালক সাকন সুকপ্রম বলেছেন, ননথাবুরির স্থানীয় সরকার প্রশাসনের চেয়ারম্যান থংচাইকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন তিনি।

হাসপাতাল এই পরিচালক বলেন, গুলিটি সরাসরি চেয়ারম্যান থংচাইয়ের ঘাড়ে বিদ্ধ হয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে মারা গেছেন তিনি। সাকন সুকপ্রম বলেন, হামলায় থংচাইয়ের গাড়িচালকও ডান হাতে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তবে তার অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

এর আগে আঞ্চলিক পুলিশ প্রধান ওয়াতানা ইয়েচিন সাংবাদিকদের বলেছেন, চালং নিজেকে একমাত্র হামলাকারী হিসেবে দাবি করলেও তদন্তে দেখা গেছে উভয় পক্ষের কাছেই আগ্নেয়াস্ত্র ছিল।

তিনি বলেন, থংচাইয়ের গাড়ির ভেতর থেকে একটি পিস্তল উদ্ধার করা হলেও সেটি থেকে কোনো গুলি ছোড়া হয়নি। অন্যদিকে সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্ট দেখা গেছে, চালং একদম কাছ থেকে একে একে গুলি চালিয়ে যাচ্ছেন।

পুলিশ কর্মকর্তা ওয়াতানা বলেন, মূল বিরোধের কারণ ছিল কয়েক মিলিয়ন বাথ। ঘটনাটি একেবারেই ব্যক্তিগত। চালংয়ের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, নিহত চেয়ারম্যান কয়েক বছর আগে তার কাছ থেকে এই টাকা ধার নিয়েছিলেন। চালং কয়েকবার টাকাটা ফেরত চাইলেও তা পাননি।

অন্যদিকে ননথাবুরির গভর্নর চেস্তা মসিকারাত বলেন, অভিযুক্ত ও ভুক্তভোগী দুজনই দীর্ঘদিনের পুরোনো বন্ধু ছিলেন। পুরো ঘটনাটি কোনো চরম ভুল বোঝাবুঝি থেকে ঘটেছে বলে মনে করছেন তিনি।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ব্যক্তিগত পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের নজির রয়েছে থাইল্যান্ডে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ১ কোটি অবৈধ ও বৈধ অস্ত্র রয়েছে; যার হিসাব দাঁড়ায় প্রতি সাতজন বাসিন্দার বিপরীতে গড়ে একটি করে আগ্নেয়াস্ত্র।

গত শুক্রবারও এই ননথাবুরিতেই মর্মান্তিক এক ঘটনা ঘটে। ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর তাকে লালন-পালন করা দাদা-দাদিকে নিজ ঘরে গুলি করে হত্যা করে। এরপর সে তার স্কুলে গিয়ে তাণ্ডব চালিয়ে আরও ছয়জনকে হত্যা এবং সবশেষে নিজের বুকেও গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করে।

পরপর এসব রক্তক্ষয়ী ঘটনার পর সরকারের পক্ষ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র আইনে কঠোর কড়াকড়ির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তবে দেশটির বিশ্লেষকরা বলছেন, অতীতেও এমন অনেক আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে বারবার ঘটে যাওয়া এসব নৃশংস ঘটনা থামানো যায়নি।

সূত্র: এএফপি।

এসএস