বিজ্ঞাপন

নবদম্পতির বাড়িতে মাদক পাঠিয়ে পুলিশকে গোপনে জানালেন সাবেক প্রেমিক

নবদম্পতির বাড়িতে মাদক পাঠিয়ে পুলিশকে গোপনে জানালেন সাবেক প্রেমিক

প্রেমিকার বিয়ে হয়ে গেছে অন্য এক পুরুষের সঙ্গে। বিষয়টি মেনে নিতে পারছিলেন না প্রেমিক। যে কারণে নববধূর স্বামীকে ফাঁসানোর জন্য তার বাড়ির ঠিকানায় মাদকের চালান পাঠিয়ে দেন নববধূর সাবেক প্রেমিক। শুধু তাই নয়, মাদকের চালান পাঠানোর পর গোপনে এই বিষয়ে পুলিশকে জানিয়ে দেন তিনি। ঘটনার তদন্তে নেমে এমন তথ্য পায় পুলিশ। পরে নববধূর সাবেক সেই প্রেমিককে গ্রেপ্তার করা হয়। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা ঘটেছে ভারত-নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মিরের গান্দারবাল জেলায়।

মঙ্গলবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, চলতি মাসের শুরুর দিকে জম্মু-কাশ্মিরের পুলিশ গোপন সূত্রে গান্দারবাল জেলায় মাদকের একটি বড় চালান পাঠানোর তথ্য পায়।

মাদক পাচারের বিরুদ্ধে পুলিশের চলমান কঠোর অভিযানের কারণে তথ্যটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সম্প্রতি মাদক পাচারে জড়িত সন্দেহে কয়েকজনের বিরুদ্ধে ভারতের পাবলিক সেফটি অ্যাক্টের (পিএসএ) আওতায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে মাদকপাচারকারীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও কয়েকজনের বসতবাড়িও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাদকের চালান আটক করার পর পুলিশ নির্দিষ্ট সেই ঠিকানায় হাজির হয়। যে বাড়িতে মাদকের ওই চালান পাঠানো হয়, সেটি একজন সাধারণ পোলট্রি খামারির; যিনি মাত্র কয়েক মাস আগে বিয়ে করেছেন। পুলিশকে ওই খামারি বলেন, এই পার্সেলে মুরগির খাবার থাকার কথা ছিল এবং মাদকের বিষয়ে তার কোনো ধারণাই নেই।

• একটি অস্বাভাবিক ফোন কল

তবে তিনি আরেকটি কৌতূহলোদ্দীপক তথ্যও জানান। চলতি বছরের শুরুর দিকে সৌদি আরবের একটি নম্বর থেকে ফোন করে তার বর্তমান স্ত্রীকে বিয়ে না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছিল।

পুলিশ তার স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করতেই আসল অপরাধীর খোঁজ মেলে। অপরাধী শ্রীনগরের বাসিন্দা তারিক আহমেদ সোফি। জয়নাকোট এলাকার বাসিন্দা সোফি ওই পোলট্রি খামারির স্ত্রীর সাবেক প্রেমিক। পুলিশ বলেছে, খামারিকে মাদকের মামলায় ফাঁসিয়ে গ্রেপ্তার করানোর জন্য এই ছক এঁকেছিলেন তিনি। গত ৯ আগস্ট সোফিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

কাশ্মির পুলিশের এক কর্মকর্তা দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেছেন, ৮ আগস্ট পুলিশের কাছে জম্মু ও কাশ্মিরের বাইরে থেকে কুরিয়ারের মাধ্যমে মাদকের একটি পার্সেল পাঠানোর তথ্য আসে। পার্সেলটি গান্দারবালের ডাকঘরে জব্দ করে একজন ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে খোলা হয়। এতে ৪ কেজি কোকেন, ৮০ গ্রাম গাঁজা এবং কিছু সাইকোট্রপিক ড্রাগসহ বিপুল পরিমাণ মাদক পাওয়া যায়।

পার্সেলটি পাঠানো হয়েছিল প্রায় ১ হাজার ৩০০ কিলোমিটার দূরের উত্তর প্রদেশের কানপুর থেকে।

পুলিশকে খামারি বলেন, প্রেরক হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ করে পোলট্রি ফিডের নমুনা পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকে বোকা বানিয়েছিল। তিনি তদন্তকারীদের কাছে প্রেরকের ফোন নম্বর দেন; যা সৌদি আরবের সেলফোন নম্বর বলে নিশ্চিত হয় পুলিশ।

কাশ্মিরের ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, তদন্তকারী কর্মকর্তাদের কিছুদিন আগে একই ধরনের নম্বর থেকে একটি কল পাওয়ার কথা জানান খামারি। ফোন কলে ওই নারীকে বিয়ে না করার জন্য হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এই তথ্যকে কেন্দ্র করে তদন্ত একেবারে নতুন মোড় নেয়।

তিনি বলেন, ‌‌‘‘তখনই আমরা ষড়যন্ত্রের দিক এবং তাকে ফাঁসানোর চক্রান্তের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শুরু করি।’’ পরে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত সোফি স্বীকার করেন যে, কানপুরের প্রেরক আরিফ তার বন্ধু এবং তার অনুরোধেই আরিফ পার্সেলটি পাঠিয়েছিলেন।

কাশ্মির পুলিশের অপর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘‘সোফিই প্রথম তার বন্ধুর মাধ্যমে পার্সেলটি পাঠানোর ব্যবস্থা করেন এবং পরে পুলিশকে খবর দেন। যেহেতু তিনি সতর্ক ছিলেন, তাই সরাসরি পুলিশকে তথ্য দেননি। বরং অন্য কিছু মানুষের মাধ্যমে তা করিয়েছেন।’’

সোফির বিরুদ্ধে এনডিপিএস আইনের ৮/২০ এবং ২১ ধারায় মামলা করা হয়েছে। পুলিশ বলেছে, সোফির বন্ধু আরিফের বাড়ি কানপুরে হলেও তিনি কিছুদিন ধরে সৌদি আরবে বসবাস করছেন।

আরিফ কীভাবে খামারির কাছে পাঠানো মাদকের ব্যবস্থা করেছিলেন তা পুলিশ তদন্ত করে দেখছে। এই ষড়যন্ত্রের বিষয়টি আরিফ জানতেন কি না, সেই বিষয়েও তার ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

এসএস