জাপান সাগরের দিকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে উত্তর কোরিয়া। এক সপ্তাহের মধ্যে দেশটি দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে। দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মহড়াকে সামনে রেখে দেশটি এমন পদক্ষেপ নিয়েছে। সিউল ও টোকিও এমন দাবি করেছে। বুধবার (১২ আগস্ট) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, আগামী ১৭ আগস্ট থেকে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র বার্ষিক উলচি ফ্রিডম শিল্ড সামরিক মহড়া আয়োজন করতে যাচ্ছে। এরই মধ্যে এই ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের পাঠানো এক বার্তায় বলা হয়েছে, আমাদের সামরিক বাহিনী সকাল ৬টার দিকে উত্তর কোরিয়ার ওনসান এলাকা থেকে পূর্ব সাগরের দিকে উৎক্ষেপিত একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি ৭০০ কিলোমিটারেরও বেশি পথ পাড়ি দিয়েছে। এ ঘটনায় নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ নিয়ে ওয়াশিংটন ও টোকিওর সঙ্গে নিবিড়ভাবে তথ্য বিনিময় করা হচ্ছে।
জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছে, সন্দেহভাজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রটি ইতিমধ্যেই পতিত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
কিয়ংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তর কোরিয়া-বিষয়ক বিশেষজ্ঞ লিম ইউল-চুল এএফপিকে বলেন, উত্তর কোরিয়া কখনোই কোনো জবাব ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়াকে যেতে দেয়নি। এর মাধ্যমে এই বার্তা দেওয়া হচ্ছে যে, পিয়ংইয়ং আসন্ন মহড়াগুলোর ওপর কড়া নজর রাখছে এবং প্রয়োজন মনে করলে উসকানিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে।
- মার্কিন-দক্ষিণ কোরিয়া মহড়া
উলচি ফ্রিডম শিল্ড সামরিক প্রশিক্ষণ সোমবার থেকে শুরু হয়ে ১১ দিন ধরে চলবে। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, এটি বিগত বছরগুলোর মতোই ব্যাপক আকারে অনুষ্ঠিত হবে। মহড়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার ১৮ হাজার সেনা অংশ নেবে।
উত্তর কোরিয়া বিগত বছরগুলোতে এই মহড়াকে আগ্রাসনের অনুশীলন বলে নিন্দা করেছে। এর জবাবে দেশটি অস্ত্র পরীক্ষা ও কঠোর ভাষায় প্রতিবাদ জানিয়েছে। তবে সিউল ও ওয়াশিংটন বারবার বলেছে, তাদের এই মহড়া মূলত আত্মরক্ষামূলক।
সূত্র : রয়টার্স
এমবি
