বিজ্ঞাপন

দ্বিপাক্ষিক ড্রোন চুক্তি করতে সৌদি যুবরাজের সঙ্গে আলোচনা জেলেনস্কির

দ্বিপাক্ষিক ড্রোন চুক্তি করতে সৌদি যুবরাজের সঙ্গে আলোচনা জেলেনস্কির

নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং যৌথভাবে ড্রোন ও ড্রোন হামলা থেকে সুরক্ষা নিশ্চিতে বিশেষ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম উৎপাদন করতে সৌদি আরবের সঙ্গে ড্রোন চুক্তি করতে চায় ইউক্রেন। প্রস্তাবিত এ চুক্তির ব্যাপারে সায় রয়েছে সৌদি আরবেরও।

সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যে এ ইস্যুতে টেলিফোনে আলোচনাও হয়েছে। গত কাল মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে পোস্ট করা এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি এ তথ্য জানিয়েছেন।

টেলিগ্রাম পোস্টে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেছেন, “দ্বিপাক্ষিক ড্রোন চুক্তির ব্যাপারে সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান আল সৌদের সঙ্গে টেলিফোনে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। আমরা এই মর্মে একমত হয়েছি যে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ইউক্রেন এবং সৌদি আরবের পারস্পরিক সহযোগিতা উভয় দেশের সামরিক সক্ষমতাকে শক্তিশালী করতে পারে।”

“ড্রোন এবং ড্রোন হামলা থেকে সুরক্ষা নিশ্চিতের উপযোগী এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম তৈরিতে নিকট ভবিষ্যতেই সৌদি আরব এবং ইউক্রেন দ্বিপাক্ষিক ড্রোন চুক্তি করতে চায়। এই চুক্তি বিষয়ক পদক্ষেপগুলো নিয়ে আমাদের আলোচনা হয়েছে।”

উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৬ মার্চ সৌদি আরব সফরে গিয়ে মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন জেলেনস্কি। যে সময় জেলেনস্কি রিয়াদ সফরে গিয়েছিলেন, সে সময় সৌদিসহ মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় ৬ দেশের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ইরান মুহুর্মুহু ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পরিচালনা করছিল।

নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষরের সময়েই মোহাম্মদ বিন সালমানকে ড্রোন সহায়তা চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছিলেন জেলেনস্কি। তিনি বলেছিলেন, ইরান থেকে নিক্ষিপ্ত ড্রোন থেকে সৌদিকে সুরক্ষা দিতে প্রস্তুত আছে ইউক্রেন। আরও বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের শুরু থেকে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত এবং জর্ডানে কাজ করছেন ইউক্রেনীয় বিশেষজ্ঞরা ইতোমধ্যে তারা তাদের কাজে পারদর্শিতা দেখিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত চার বছরেরও বেশি সময় ধরে রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনের যুদ্ধ চলছে। এই যুদ্ধে ইরানি ড্রোনের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করছে রাশিয়া। এমনকি ইরানি বিভিন্ন পাল্লার ড্রোন তৈরির জন্য কারখানাও স্থাপিত হয়েছে রাশিয়া।

ইরানি ড্রোনের আঘাত সহ্য করতে করতে এই ড্রোনের প্রযুক্তি সম্পর্কে ব্যপারে রীতিমতো বিশেষজ্ঞ হয়ে উঠেছে ইউক্রেন। বর্তমানে ড্রোন-বিধ্বংসী এয়ার ডিফেন্স প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ইউক্রেনকে ‘বৈশ্বিক নেতা’ বলে বিবেচনা করা হয়। এমন কিছু বিশেষ এয়ার ডিফেন্স প্রযুক্তি ইউক্রেন তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে— যেগুলো শুধুমাত্র ইরানি ড্রোন ধ্বংসের ক্ষেত্রে অব্যর্থ।

সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি

এসএমডব্লিউ