ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে তুরস্কের আঙ্কারায় গিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এক মাস আগের সেই সম্মেলন শেষে তিনি অনেকটা লুকিয়ে তুরস্ক ছাড়েন। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রথমে বিমানবাহিনীর এয়ারফোর্স ওয়ান বিমানে ওঠেন। কিন্তু সেটি থেকে নেমে খাবারের ট্রাকে করে আরেকটি সামরিক বিমানে ওঠেন। যেটিতে করে তিনি তুরস্ক ছাড়েন। আর এয়ারফোর্স ওয়ান বিমানে ছিলেন সাংবাদিক ও অন্যান্যরা।
সংবাদমাধ্যম মিডেল ইস্ট আই বুধবার (১২ আগস্ট) জানিয়েছে, তুরস্কে ট্রাম্পের নিরাপত্তারক্ষীরা এমন কাণ্ড ঘটিয়েছেন দখলদার ইসরায়েলের দেওয়া একটি খবরের কারণে। তাদের কাছে ইসরায়েল বার্তা দেয় ইরানের একটি সেল ট্রাম্পের বিমানকে টার্গেট করতে পারে। এরপরই তার নিরাপত্তার জন্য তারা বিমান পরিবর্তন করেন।
কিন্তু তুরস্কের কয়েকজন কর্মকর্তা মিডেল ইস্ট আইকে বলেছেন, ইসরায়েল এ নিয়ে ভুয়া তথ্য দিয়েছিল বলে তাদের ধারণা। কারণ ইসরায়েল ইরান যুদ্ধের আলোচনা ভেস্তে দেওয়ার চেষ্টা করছিল। একইসঙ্গে তুরস্ক যেন তাদের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান না পায় সেটিও চাইছিল।
তাদের মতে, ট্রাম্প যেন ইরান যুদ্ধের আলোচনা থেকে সরে যান এবং তুরস্ককে যুদ্ধবিমান না দেন সেজন্য এমন ভুয়া তথ্য ছড়িয়েছে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকার।
তুরস্কের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মার্কিন নিরাপত্তাবাহিনীর কাছে ইসরায়েল তথ্য দেয় ইরানের একটি আততায়ী দল ট্রাম্পের নতুন এয়ারফোর্স ওয়ান বিমানকে টার্গেট করতে পারে। আর এক্ষেত্রে তারা ব্যবহার করতে পারে কাঁধ থেকে ছোড়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মিসাইল। যেগুলো ম্যানপ্যাডস নামে পরিচিত।
তার্কিস কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্পের প্রথমে তুরস্ক ছাড়ার কথা ছিল আঙ্কারা বিমানবন্দর থেকে। কিন্তু পরবর্তীতে তার বিমান নিয়ে যাওয়া হয় এসেনবোগা বিমানবন্দরে। কারণ আঙ্কারা বিমানবন্দরের কাছেই বেসামরিক মানুষের ঘরবাড়ি রয়েছে। অপরদিকে এসেনবোগা বিমানবন্দর থেকে মানুষের ঘরবাড়ি কিছুটা দূরে।
তারা বলেছেন, বিমানবন্দরের কাছে এতটাই নিরাপত্তা জোরদার করা ছিল যে সেখানে কোনো ইরানি সেলের হামলা চালানো সম্ভব ছিল না। এছাড়া ন্যাটো সম্মেলনের জন্য আঙ্কারায় লকডাউন আরোপ করা হয়। সব অফিস এক সপ্তাহের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়। জায়গায় জায়গায় বসানো হয় চেকপোস্ট। সেগুলো পার হয়ে কারও পক্ষে সেখানে ম্যানপ্যাড আনা সম্ভব ছিল না।
সূত্র: মিডেল ইস্ট আই
এমটিআই
