হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যে দাবি করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, তা প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটির সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।
গত ১১ আগস্ট মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনীর ঘাঁটি জয়েন্ট বেইস অ্যান্ড্রুজ পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “ইরান ইস্যুতে আমরা ভালোভাবে এগোচ্ছি, খুবই ভালোভাবে এগোচ্ছি। হরমুজ প্রণালি এখন আমরা নিয়ন্ত্রণ করছি। ওই প্রণালি সম্পূর্ণ আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে। আমাদের নৌবাহিনী অবিশ্বাস্য এবং ভবিষ্যতে যা ঘটবে— তা আমাদের দেশের জন্য ভালো হবে।”
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর রেভল্যুশনারি গার্ড মুখপাত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল এএফপি। আইআরজিসির অন্যতম মুখপাত্র এবং অঙ্গসংস্থা বাসিজ আধা সামরিক বাহিনীর প্রধান হোসাইন তায়েব প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, “পরমাণু প্রকল্প ইস্যুতে যুদ্ধে নেমে জব্দ হওয়ার পর এখন হরমুজ প্রণালিকে ইস্যু করে ফের সংঘাত শুরু করতে চাইছেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছিলেন যে ইরানের কোনো বিমান বাহিনী বা নৌবাহিনী নেই, তারপরও যুক্তরাষ্ট্র পরাজিত হয়েছে। এখন তিনি হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিতে চান।”
“হরমুজ প্রণালি ইরানের ইসলামি প্রজাতান্ত্রিক সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনার অধীনে আছে এবং ভবিষ্যতেও তা-ই থাকবে।”
উল্লেখ্য, ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বাণিজ্যপথ। বিশ্বের মোট জ্বালানি পণ্যের এক পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই প্রণালীর একপাশে ইরান এবং অপর পাশে ওমান অবস্থিত।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তকরাষ্ট্র ইরানে অভিযান শুরুর পর হরমুজে বিদেশি জাহাজ চলাচলে অবরোধ জারি করে তেহরান। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরানের সামুদ্রিক বন্দরগুলোতে অবরোধ ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্রও।
তারপর পাকিস্তানের মধ্যস্থতার ভিত্তিতে গত ১৭ জুন ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক চুক্তি স্বাক্ষর করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এই চুক্তি স্বাক্ষরের পর হরমুজ থেকে অবরোধ তুলে নেয় ইরান। ইরানের বন্দরগুলো থেকেও প্রহরা তুলে নেয় মার্কিন নৌবাহিনী।
কিন্তু ১৩ জুলাই ইসলামাবাদ চুক্তি থেকে বের হয়ে যায় ইরান এবং হরমুজ প্রণালিতে ফের অবরোধ জারি করে। এখনও সেই অবরোধ চলছে।
সূত্র : এএফপি
এসএমডব্লিউ
