বিজ্ঞাপন

জানাল জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের মনিটরিং টিম

বাংলাদেশে সেল গঠনের চেষ্টা করছে আল-কায়েদা ভারত উপমহাদেশ শাখা

বাংলাদেশে সেল গঠনের চেষ্টা করছে আল-কায়েদা ভারত উপমহাদেশ শাখা

বাংলাদেশে সেল গঠনের চেষ্টা করছে জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার ভারত উপমহাদেশ শাখা (একিউআইএস)। গত ১০ আগস্ট জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের মনিটরিং টিম এমন তথ্য জানায়। এ টিমটি সন্ত্রাসবাদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞায় নজরদারি চালায়।

আল-কায়েদা ও ইসলামিক স্টেটের ওপর নিষেধাজ্ঞায় নজরদারি করা মনিটরিং টিম জানিয়েছে, গত বছরের ২৫ নভেম্বর ভারতের দিল্লির লালকেল্লায় যে গাড়ি বোমা হামলা হয় সেটি চালায় ‘আল-কায়েদা ভারত উপমহাদেশ’ শাখা। আর তারা এখন বাংলাদেশেরও সেল গঠনের চেষ্টা করছে।

রক্তক্ষয়ী ওই হামলার পর ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা চলতি বছরের মে মাসে ১০জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেয়। এ ১০ জন আনসার গাজাত-উল হিন্দ নামে একটি দলের বলেও উল্লেখ করা হয়। আর এ দলটির সঙ্গে আল-কায়েদা ভারত উপমহাদেশ শাখার সংশ্লিষ্টতা আছে।

ভারতীয় তদন্তকারীরা জানায়, ওই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন উমর উন-নবী। তিনি ফরিদাবাদের আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের সহকারী প্রসেফর হিসেবে কাজ করেছেন। উমর উন-নবী ওই বোমা হামলায় নিহত হন।

ভয়াবহ ওই হামলায় সেদিন ১১ জনের মৃত্যু হয়। অসংখ্য মানুষ আহত হন এবং সম্পদের ক্ষতি হয়। এখন এই হামলার জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সহায়ক সংস্থা জানাল ওই হামলার জড়িত ছিল আল-কায়েদা ভারত উপমহাদেশ শাখা।

নিরাপত্তা কাউন্সিলের সহায়ক সংস্থার এ প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আল-কায়েদা ভারত উপমহাদেশ একটি বিক্ষিপ্ত গ্রুপ থেকে এখন একটি আঞ্চলিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীতে রূপ নিচ্ছে। এরজন্য তারা বিভিন্ন জায়গায় লজিস্টিক এবং অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে। তারা বড় গ্রুপ হওয়ার বদলে বিকেন্দ্রীভূত ছোট দল ও বিক্ষিপ্ত হয়ে কাজ করছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

আর এই সন্ত্রাসী সংগঠনের নেতারা বর্তমানে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে রয়েছেন। তাদের আফগানিস্তানের জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছে। যা নির্দেশ করছে আল-কায়েদা ভারত উপমহাদেশ শাখার সঙ্গে তালেবানের সম্পর্ক রয়েছে।

এছাড়া তারা পাকিস্তানে ইত্তেহাদ-উল-মুজাহিদিন পাকিস্তান নামে একটি সন্ত্রাসী দলের শক্তি বাড়াতে কাজ করেছে। যারা গত ৯ মে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়ায় একটি হামলা চালিয়ে ২১ জনকে হত্যা করে।

নিরাপত্তা পরিষদের সহায়ক সংস্থার এ প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আল-কায়েদা ভারত উপমহাদেশ শাখা এবং ইসলামিক স্টেট এখন রাসায়নিক এবং জৈব অস্ত্র তৈরির দিকে মনোযোগ দিয়েছে। এরমধ্যে ভারত এক চিকিৎসকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছিল যারা রিসিন নামে একটি বিষ তৈরির চেষ্টা করছিল।

এছাড়া এই সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো গত ফেব্রুয়ারিতে তাদের সদস্যদের জন্য রাসায়নিক ও জৈব অস্ত্র তৈরির নির্দেশনা দিয়েছিল।

সূত্র: ডিএনএ

এমটিআই