৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপরাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়া। এতে এখন পর্যন্ত ২ জনের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া গেছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ৫৮ মিনিটে ভয়াবহ এ ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল বা এপিসেন্টার ছিল দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় পূর্ব নুসা তেঙ্গারা প্রদেশের এন্দে শহর থেকে ৬৮ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে সাগরের তলদেশে এবং ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে।
৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পের পর কয়েকটি ‘আফটার শক’ হয়েছে বলেও জানা গেছে। পূর্ব ইন্দোনেশিয়ার শহরগুলোতে অনেক বাড়িঘর আংশিক কিংবা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
ভূমিকম্পের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ কিছু ভিডিও পোস্ট হয়েছে। সেসবে ভবন ও বাড়িঘর ধ্বংসের পাশাপাশি লোকজনকে আতঙ্কিত হয়ে ছোটাছুটি করতে দেখা গেছে।
— RT (@RT_com) August 14, 2026
পূর্ব নুসা তেঙ্গারা প্রদেশের সিক্কা শহরের বাসিন্দা ইয়োহান্না এমবু এএফপিকে বলেছেন, “আমাদের শহরে অনেকগুলো বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে গেছে। ভূমিকম্পের সময় লোকজন খুবই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল। আমি নিজের চোখের সামনে বন্দর এলাকার একটি ভবন ভেঙে পড়তে দেখেছি।”
নাগেকেও শহরের এক বাসিন্দা এএফপিকে বলেছেন, ভূমিকম্পের সময় তিনি একটি মার্কেটে অবস্থান করছিলেন। এএফপিকে তিনি বলেন, “কম্পণ খুব শক্তিশালী ছিল। মানুষ আতঙ্কে দিশেহারা হয়ে চিৎকার করছিল, এদিক-সেদিকে ছোটাছুটি করছিল। আমার সৌভাগ্য যে (ভূমিকম্পের সময়) আমি বাড়ির বাইরে ছিলাম।”
এদিকে ভয়াবহ এ ভূমিকম্পের জেরে পূর্ব ইন্দোনেশিয়াজুড়ে সুনামি হতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছিলো ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু এবং ভূ-পদার্থবিজ্ঞান সংস্থা। চার পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ পূর্ব নুসা তেঙ্গারা, পশ্চিম নুসা তেঙ্গারা, দক্ষিণ সুলাওয়েসি ও দক্ষিণপূর্ব সুলাওয়েসি প্রদেশে সুনামি সতর্কতাও জারি করা হয়েছিল। তবে পরে সেই সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
দ্বীপরাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়া আসলে ১ হাজার ৭০০ দ্বীপের সমষ্টি। ভৌগলিকভাবে প্রশান্ত মহাসাগরের ‘আগ্নেয় মেখলা’ বা রিং অব ফায়ার অঞ্চলের ওপর অবস্থানের কারণে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার এই দেশটিতে ভূমিকম্প প্রায় নিয়মিত একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
ইন্দোনেশিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্পটি হয়েছিল ২০০৪ সালে। ৯ দশমিক ১ মাত্রার সেই ভূমিকম্প ও তার ফলে সৃষ্ট সুনামিতে দেশটিতে মৃত্যু হয়েছিল ১ লাখ ৭০ হাজার মানুষের।
সূত্র : এএফপি, দ্য গার্ডিয়ান
এসএমডব্লিউ
