বিজ্ঞাপন

কী করলে পাকিস্তানি কাশ্মির ভারতের সঙ্গে যুক্ত হতে পারত, জানালেন ওমর

কী করলে পাকিস্তানি কাশ্মির ভারতের সঙ্গে যুক্ত হতে পারত, জানালেন ওমর

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার যদি সংবিধানের ৩৭০ নম্বর ধারার বিলুপ্তি না ঘটিয়ে জম্মু-কাশ্মিরের স্বায়ত্বশাসিত রাজ্যের মর্যাদা বজায় রাখত, তাহলে এতদিনে পাকিস্তানের অধিকৃত কাশ্মির ভারতের জম্মু-কাশ্মির রাজ্যের সঙ্গে একীভূত হওয়ার মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো বলে মনে করেন জম্মু-কাশ্মিরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ।

আজ ১৫ আগস্ট শনিবার ভারতের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে জম্মু-কাশ্মিরের রাজধানী শ্রীনগরে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন ওমর। সেখানে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মিরের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ও সেখানকার জনসাধারণের ওপর রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিন।

বক্তৃতায় ওমর আবদুল্লাহ বলেন, “যখন আমি সীমান্তের ওপারের পরিস্থিতি দেখি, তখন অনুভব করতে পারি যে আমাদের পূর্বসূরীরা যে বলতেন, ‘হামলাভার খবরদার, হাম কাশ্মিরি হ্যায় তৈয়ার’ (হামলাকারীরা সাবধান, আমরা কাশ্মিরিরা প্রস্তুত আছি), ঠিকই বলতেন। পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মিরের বর্তমান অবস্থায় আমি খুব কষ্ট পাচ্ছি। যদি জম্মু-কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসিত রাজ্যের মর্যাদা বাতিল করা না হতো, তা হলে হয়তো আজ পাকিস্তানি কাশ্মিরের সঙ্গে আমাদের জম্মু-কাশ্মিরের সংযুক্তির পরিবেশ তৈরি হতো।”

“আমরা এখনও আমাদের বিধানসভায় কয়েকটি আসন ফাঁকা রাখি এই আশায় যে কোনো একদিন হয়তো এই আসনগুলো (পাকিস্তানি কাশ্মিরের জনপ্রতিনিধিদের দ্বারা) পূরণ হবে।”

উল্লেখ্য, মুসলিম লীগের নেতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ তার পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রকল্পে অখণ্ড জম্মু-কাশ্মিরকে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। তৎকালীন জম্মু-কাশ্মিরের রাজা হরি সিংকে পাকিস্তানে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণও জানিয়েছিলেন।  

এদিকে ভারতও চাইছিল যে জম্মু-কাশ্মির ভারতের অংশ হোক। জিন্নাহর মতো রাজা হরি সিংকে চিঠি দিয়ে ভারতের অংশ হওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন কংগ্রেসের তৎকাীন শীর্ষ নেতা পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরুও।

তবে হরি সিং স্বাধীন জম্মু-কাশ্মির চেয়েছিলেন। এ কারণে পাকিস্তান কিংবা ভারত— কারো আমন্ত্রণে সাড়া দেননি।

এদিকে ১৯৪৭ সালের আগস্ট মাসে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভের এক মাস পর সেপ্টেম্বর থেকে কাশ্মির দখলে অভিযান শুরু করে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী এবং উপজাতীয় মিলিশিয়ারা এবং মাত্র কয়েক সপ্তাহে জম্মু-কাশ্মিরের প্রায় অর্ধেক এলাকা দখল করে ফেলে। অবস্থা বেগতিক দেখে হরি সিং অক্টোবরে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে সাহায্য চেয়ে চিঠি দেন হরি সিং। পরে ভারতীয় সেনারা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অগ্রযাত্রা রুখে দেয়। ওমর আবদুল্লাহর পিতামহ এবং পরে ভারতীয় জম্মু-কাশ্মিরের প্রথম প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ সে সময় ভারতীয় সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করেছিলেন।

বর্তমানে পুরো জম্মু-কাশ্মিরের ৫৫ শতাংশ ভারতের দখলে, ৩০ শতাংশ পাকিস্তানের দখলে এবং ১৫ শতাংশ চীনের দখলে আছে। পাকিস্তানের দখলকৃত কাশ্মিরের আজাদ জম্মু-কাশ্মিরে গত জুন মাস থেকে তীব্রমাত্রায় সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু হয়েছে।

ভারতের সংবিধানে ৩৭০ ধারার মাধ্যমে জম্মু-কাশ্মিরকে বিশেষ স্বায়ত্বশাসিত রাজ্যের মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামা জেলায় ভারতের আধাসামরিক বাহিনী সিআরপিএফের গাড়ি বহরে আত্মঘাতী বোমা হামলা নিহত হয়েছিলেন ৪০ জন সিআরপিএফ জওয়ান। ওই ঘটনার ৬ মাস পর আগস্ট মাসে পার্লামেন্টে কণ্ঠভোটের মাধ্যমে স্বায়ত্বশাসিত রাজ্যের মর্যাদা বাতিল করে জম্মু-কাশ্মিরকে কেন্দ্রশাসিত রাজ্যের তকমা দেওয়া হয়।

সূত্র : এনডিটিভি

এসএমডব্লিউ

বিজ্ঞাপন