যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে ইরানের অর্থনীতিতে। এতে করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন অনেকে।
রাজধানী তেহরানের বাসিন্দা সাঈদ। তিনি বলেছেন, নিজের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে তিনি হতভম্ব। সাঈদ একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। তবে বর্তমানে এখান থেকে যে বেতন পান তা দিয়ে তার সংসার চলছে। এখন এরচেয়ে ভালো বেতনের একটি চাকরি খুঁজছেন তিনি।
রোববার (১৬ আগস্ট) সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে ২৬ বছর বয়সী সাঈদ বলেছেন, বর্তমানে চাকরির বাজারও বেশ খারাপ। অনেকে চাকরি খুঁজেও তা পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, “অনলাইন বা সরাসরি—যেখানেই হোক না কেন, চাকরির বাজারের বর্তমান হালচালের দিকে একবার তাকালেই বুঝতে পারবেন কেন আজকালকার অনেক তরুণ-তরুণী কাজের খোঁজে বের হওয়াটাকেও আর অর্থহীন মনে করে।”
সাঈদ জানিয়েছেন শিক্ষকতা, ক্যাশিয়ার ও বিক্রির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীরা মাসে এখন ২০০ মিলিয়ন ইরানি রিয়াল বা ১০৭ ডলার পান। এমনও কিছু চাকরি আছে যেখানে মাসে ১৬৬ মিলিয়ন রিয়াল বা মাত্র ৮৮ ডলার বেতন দেওয়া হয়। বাংলাদেশি অর্থে এ বেতন ১৫ হাজার টাকারও কম।
আলজাজিরা জানিয়েছে, একজন সাধারণ কর্মী সরকারি সহায়তা ও মাসিক বেতনসহ যে অর্থ পান তা থেকে যদি মাত্র ১ কেজি ভেড়ার মাংস কেনেন তাহলে তার মাসিক আয়ের ১০ শতাংশ চলে যাবে। আর মাত্র ১০ কেজি ইরানি চাল কিনলে মোট অর্থের পাঁচ ভাগের এক ভাগ চলে যায়। যা নির্দেশ করছে বর্তমানে দেশটিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অত্যন্ত চড়া।
এরসঙ্গে বাড়িভাড়া অতিদ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল, যাতায়াত খরচ এবং চিকিৎসা খরচও আগের চেয়ে অনেক বেশি।
সূত্র: আলজাজিরা
এমটিআই
