বিজ্ঞাপন

অপারেশন সিঁদুর নিয়ে তৈরি তথ্যচিত্র নিয়ে বলল পাকিস্তানের সেনাবাহিনী

যুদ্ধের প্রকৃত সত্য আড়ালে বলিউড সিনেমার আদলে ডকুমেন্টারি বানিয়েছে ভারত

যুদ্ধের প্রকৃত সত্য আড়ালে বলিউড সিনেমার আদলে ডকুমেন্টারি বানিয়েছে ভারত

২০২৫ সালের মে মাসে চারদিনের যুদ্ধে জড়িয়েছিল ভারত ও পাকিস্তান। এরআগে আগের মাসে এপ্রিলে ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মিরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হন।

এ হামলার পরিকল্পনাকারীর পাকিস্তানে অবস্থান করছে এমন দাবি করে পাকিস্তানে প্রথমে হামলা চালায় ভারত। এর জবাবে পাকিস্তানও ভারতে হামলা চালায়। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় পারমাণবিক শক্তিধর দুই দেশ যুদ্ধ থামাতে সম্মত হয়।

সম্প্রতি ওই যুদ্ধ নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি প্রকাশ করেছে ভারত। পাকিস্তানের সেনাবাহিনী এর জবাবে বলেছে, এই ডকুমেন্টারির বেশিরভাগ তথ্য অসত্য এবং ভারতীয় কনটেন্ট ক্রিয়েটররা ডকুমেন্টারিতে বলিডউ সিনেমার স্টাইলে আবেগ ব্যবহার করে নতুন ইতিহাস তৈরির চেষ্টা করেছে। যার সঙ্গে বাস্তবের কোনো মিল নেই।

পাক সেনাবাহিনী আরও বলেছে, ভারতীয় কনটেন্ট ক্রিয়েটররা বিভিন্ন ইন্টারভিউ বিকৃত করে এই ডকুমেন্টারিতে ব্যবহার করেছে।

গতকাল সোমবার (১৭ আগস্ট) এক্সে দীর্ঘ এক পোস্টে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এ ব্যাপারে বলেছে, “যুদ্ধের এক বছরেরও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও ভারত বাস্তবতা স্বীকার করতে চাইছে না। ব্যর্থ অভিযানের পরাজয় মেনে নেওয়ার বদলে ভারত ইতিহাসকে নিজের পছন্দের রঙে সাজানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতিহাস বিকৃতির এই প্রয়াসে ভারতীয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটরা 'অপারেশন সিঁদুর' নামের একটি মনগড়া, অতি-নাটকীয় ও তথ্যগতভাবে ভুল তথ্যে ভরা তথাকথিত ডকুমেন্টারি তৈরি করেছে, যেখানে ভারতের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বকে উপস্থাপন করা হয়েছে। সুনির্দিষ্ট তথ্যের  অভাব থাকায় এই ডকুমেন্টারিটিকে একটি ট্র্যাজেডি এবং কমেডি হিসেবে আখ্যায়িত করা যায়। প্রতিষ্ঠিত সত্যকে বিকৃত করতে এবং সামরিক ফলাফলের ইতিহাস নতুন করে লিখতে বেছে বেছে সাজানো ইন্টারভিউ, আবেগঘন বর্ণনা এবং বলিউড সিনেমার স্টাইল ব্যবহার করা হয়েছে।”

“লক্ষণীয় বিষয় হলো, নিজ দেশের জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি মনগড়া গল্প দাঁড় করানোর জন্য তৈরি ডকুমেন্টারির তথ্যেই গরমিল রয়েছে।”

পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আরও বলেছে, “ডকুমেন্টারিটিতে ২০২৫ সালের ১৬ এপ্রিলে দেওয়া পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের একটি বক্তব্য এবং ২২ এপ্রিলের পেহেলগাম ঘটনার মধ্যে একটি যোগসূত্র স্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে, যা বস্তুত ভিত্তিহীন ষড়যন্ত্র। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভারত পরবর্তীতে দাবি করে যে পেহেলগাম ঘটনায় জড়িত তথাকথিত তিন অপরাধীকে ২০২৫ সালের ২৮ জুলাই—অর্থাৎ তথাকথিত 'অপারেশন সিঁদুর'-এর ৮২ দিন পর শনাক্ত ও হত্যা করা হয়েছে। তথাকথিত অপরাধীদের যদি ২৮ জুলাই হত্যা করা হয়ে থাকে, তবে ২০২৫ সালের ৭ মে কাদের সাজা দেওয়া হয়েছিল, ভারতকে অবশ্যই সেটি স্পষ্ট করতে হবে।”

ভারতকেই পাকিস্তান ওই সময় নাকানিচুবানি খাইয়েছিল এমন দাবি করে পাক সেনাবাহিনী আরও বলেছে, “ডকুমেন্টারিতে বলা হয়েছে ভারতের ওই মিশন ১০০ শতাংশ সফল হয়েছিল। এই দাবির সঙ্গে যুদ্ধের আসল হিসাবের সাথে কোনোভাবেই মিলে না। যুদ্ধের সময় পাকিস্তানের বাহিনী ভারতের হামলা আটকে দেয় এবং ভারতের ৮টি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে। এরপর পাকিস্তান 'অপারেশন বুনিয়ানুম মারসুস' চালিয়ে ফাতাহ রকেট, মিসাইল, ড্রোন আর নিখুঁত কামান দিয়ে ভারতের ২৬টি সেনা ঘাঁটিতে আঘাত করে। যেসব জায়গা থেকে পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালানো বা সন্ত্রাসবাদ ছড়ানো হতো, সেসব জায়গাতেই হামলা চালানো হয়েছিল।”

ডকুমেন্টারিতেই আবার পাকিস্তানের শক্তি সামর্থের কথা উল্লেখ করা হয়েছে বলে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী বলেছে, “ভারত বলেছে তারা যুদ্ধে একক আধিপত্য দেখিয়েছে। কিন্তু আবার এতে ভারতের সেনা কর্মকর্তারাই আবার নিজে স্বীকার করেছেন পাকিস্তান থেকে প্রচুর মিসাইল, ড্রোন ও বিমান হামলা হয়েছিল। সীমান্তে টানা লড়াই চলেছিল এবং ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করতে হয়েছিল। তাদের বক্তব্যেই ফুটে উঠেছে পাকিস্তান হেরেছে বলে যে দাবি করা হয় সেটি সত্য নয়।”

পাক সেনাবাহিনী আরও বলেছে, “ডকুমেন্টারিতে যুদ্ধ থামার যে বিবরণ দেওয়া হয়েছে—সেটির বিবরণ থেকেও আসল সত্য বেরিয়ে এসেছে। এতেই নিশ্চিত করা হয়েছে যে দুই দেশের ডিজিএমও-র আলোচনা ও পারস্পরিক সম্মতির মাধ্যমেই যুদ্ধ বন্ধ হয়। ফলে 'অপারেশন সিঁদুর' ভারতের একতরফা জয় ছিল—এই দাবিটি ভুয়া প্রমাণিত হয়। আমেরিকার মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতিকে কখনোই একক বিজয় হিসেবে চালিয়ে দেওয়া যায় না।”

বলিউড ধাঁচ দিয়ে বাস্তবতা পরিবর্তন করা যায় না উল্লেখ করে পাকিস্তানি বাহিনী বলেছে, “সিনেমাটিক নাটক তৈরি করে ইতিহাসের সময়ক্রম বদলে দেওয়া যায় না, বিমান ধ্বংসের ঘটনা মুছে ফেলা যায় না, ক্ষয়ক্ষতি ঢাকা যায় না বা হারকে জয়ে রূপান্তর করা যায় না। এই যুদ্ধ নিয়ে পাকিস্তানের কোনো মিথ্যা গল্পের প্রয়োজন নেই। যুদ্ধের আসল রেকর্ড, সরেজমিন প্রমাণ, কূটনৈতিক যোগাযোগ ও ভারতের নিজেদের বক্তব্যেই সব স্পষ্ট এবং আন্তর্জাতিক বিশ্বও তা স্বীকার করে।”

“পাকিস্তান অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখতে চায়। তবে একই সঙ্গে যেকোনো মূল্যে দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ড রক্ষায় পাকিস্তানি বাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত। ভবিষ্যতে কোনো সামরিক দুঃসাহস দেখালে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে, যা কোনো সিনেমাটিক মিথ্যাচার দিয়ে ঢেকে রাখা যাবে না।”— বিবৃতির শেষে বলেছে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী।

সূত্র: টিআরটি

এমটিআই