সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশ কর্মকর্তা হত্যার অভিযোগে আফগানিস্তানের এক নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান। চলতি বছরের জানুয়ারিতে দেশটির ইসফাহান প্রদেশের বিক্ষোভে পুলিশ হত্যায় জড়িত অভিযোগে বৃহস্পতিবার ওই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দেওয়ার যে ধারাবাহিক ঘটনা ঘটছে, এটি তার মধ্যে ৩০তম।
ইরানের বিচার বিভাগের পরিচালিত সংবাদমাধ্যম মিজান অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভ চলাকালীন চার পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় কায়েম হোসেইনি নামের ওই আফগান নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
তবে এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য না জানিয়ে মিজান অনলাইন বলেছে, তিনি একজ।ন বিদেশি নাগরিক ছিলেন। নরওয়েভিত্তিক ইরানি মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) বলেছে, ২১ বছর বয়সী ওই তরুণ আফগানিস্তানের নাগরিক এবং ইসফাহানের কেন্দ্রীয় কারাগারে তার ফাঁসি কার্যকর করেছে কর্তৃপক্ষ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোসেইনিকে অস্ত্র উঁচিয়ে আতঙ্ক তৈরি, ব্যাপক নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি এবং জনশৃঙ্খলা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করে দেশের নিরাপত্তাসহ সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন করার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল।
তবে আইএইচআর বলেছে, হোসেইনির বিরুদ্ধে এক পুলিশ সদস্যকে লাথি মারার অভিযোগ ছিল। সংস্থাটি বলেছে, কর্তৃপক্ষ এমন কোনো প্রমাণ হাজির করতে পারেনি; যা থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় যে তার কোনো পদক্ষেপে ওই পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছিল।
আইএইচআরের পরিচালক মাহমুদ আমিরে-মোকাদ্দাম বলেন, এই ঘটনাটি একটি সম্মিলিত শাস্তির উদাহরণ এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পক্ষ থেকে মৃত্যুদণ্ডের যথেচ্ছ ব্যবহারের স্পষ্ট প্রমাণ।
গত জানুয়ারিতে চরম রূপ নেওয়া দেশব্যাপী বিক্ষোভের সময় ইসফাহানে চার পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন। সেই মামলায় হোসেইনি হলেন পঞ্চম ব্যক্তি, যার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলো।
একই মামলায় গত জুলাই মাসে গোল মোহাম্মদ মোহাম্মদী নামে আরেক আফগান নাগরিককে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল। এই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দ্বিতীয় আফগান নাগরিক হলেন হোসেইনি। আইএইচআর বলেছে, এই মামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে তেহরান।
সূত্র: এএফপি।
এসএস
