যুক্তরাষ্ট্রের ‘সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক’ রাষ্ট্রের তালিকা থেকে সিরিয়ার নাম সরে যাওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল শারা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট শারা বলেছেন, “সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রের তালিকা থেকে সিরিয়ার নাম আনুষ্ঠানিকভাবে বাদ দেওয়ায় আমি সিরিয়ার জনগণের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং সিরিয়া ও সিরীয় জনগণের পাশে থাকা সব বন্ধু ও ভাতৃপ্রতিম দেশকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। সিরিয়া তার বেদনাদায়ক অতীত পেছনে ফেলে উন্নয়ন, পুনর্গঠন ও দেশ গড়ার যুগে প্রবেশ করছে।”
এক প্রতিবেদনে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, সিরিয়াকে ‘সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক’ রাষ্ট্রের তালিকা থেকে বাদ দিতে গত ৮ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট কংগ্রেস বরাবর সুপারিশ করেছিরেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। মার্কিন বিধি অনুযায়ী ৪৫ দিনের আবশ্যিক পর্যালোচনা শেষে সোমবার তালিকা থেকে সিরিয়ার নাম বাদ যাওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়।
সিরিয়াকে ‘সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষক’ রাষ্ট্রের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল ১৯৭৯ সালে। সে সময় দেশটির প্রেসিডেন্ট ছিলেন হাফেজ আল আসাদ। ২০০০ সালে হাফেজ আল আসাদের মৃত্যুর পর সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট হন বাশার আল আসাদ। বাশারের ২৪ বছরের প্রেসিডেন্সির আমলেও এই কালো তালিকায় ছিল সিরিয়া।
২০২৪ সালে এক ঝটিকা অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন বাশার আল আসাদ। বর্তমানে সপরিবারে রাশিয়ায় অবস্থান করছেন তিনি।
সন্ত্রাসবাদের মদদদাতা রাষ্ট্রের তালিকায় থাকার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক সাহায্য, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয়-বিক্রি, সামরিক-বেসামরিক কাজে ব্যবহারযোগ্য নির্দিষ্ট কিছু সামগ্রী এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেনে সিরিয়ার ওপর ব্যাপকমাত্রায় নিষেধাজ্ঞা ছিল। এছাড়া সিরিয়ায় বিদেশি বিনিয়োগ আসার ক্ষেত্রেও বড় প্রতিবন্ধকতা ছিল মার্কিন কালো তালিকায় সিরিয়ার উপস্থিতি।
সোমবার এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ থেকে সিরিয়াকে পুরোপুরি দূরে রাখার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট শারার সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার ও ইতিবাচক পদক্ষেপের স্বীকৃতি হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সুত্র : আলজাজিরা, রয়টার্স
এসএমডব্লিউ
