বিজ্ঞাপন

নেপালে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়

বরফ ধসে আটকে যায় নদীর প্রবাহ, ভূমিকম্পের পর হঠাৎ নেমে আসে সব পানি

বরফ ধসে আটকে যায় নদীর প্রবাহ, ভূমিকম্পের পর হঠাৎ নেমে আসে সব পানি

নেপালের সীমান্তবর্তী অঞ্চল রসুয়াতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এখন পর্যন্ত এ বন্যায় ১৬ জন নিহত ও প্রায় ৫০০ মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন। নেপালের ভোতকোশি নদীতে এ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটে। যা চীনের স্বায়ত্ত্বশাসিত তিব্বতের পাশেই অবস্থিত।

নেপালের কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ও জলবায়ু গবেষক রিজান ভক্ত জানিয়েছেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে তারা জানতে পেরেছেন সেখানকার লেন্দে নামে একটি নদীতে বরফ ধসের ঘটনা ঘটে। এতে নদীর পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে পানি আর স্বাভাবিকভাবে নিচে নেমে না এসে জমতে থাকে। আজ বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে যখন আকস্মিক বন্যার পানি নেপালে নেমে আসে; তখন তিব্বতে একটি ৪ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। ধারণা করা হচ্ছে ওই ভূমিকম্পের কারণে বরফ নড়ে যায় এবং লেন্দে নদীর পানি একসঙ্গে ভোতকোশি নদী দিয়ে নিমে নেমে আসে।

কান্তিপুর টিভিকে এ জলবায়ু গবেষক আরও বলেছেন, চীনের বিজ্ঞানীরা তাদের প্রাথমিকভাবে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, “আমাদের কাছে একটি বরফ ধসের তথ্য এসেছে। যেটি নেপাল প্রান্তে ঘটে এবং লেন্দে নদীকে আটকে দেয়। ওই সময় তিব্বতে একটি ভূমিকম্পও হয়।”

এছাড়া ওই সময় কোনো হিমবাহ হ্রদে বিস্ফোরণ ঘটেছে কি না সেটিও দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে এটি জানতে কয়েকদিন সময় লাগতে পারে উল্লেখ করে এ প্রসেফর বলেছেন, পূর্বেও সেখানে হিমবাহ হ্রদে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল।

তিনি আরও বলেছেন, গত বছরও লেন্দে নদীতে বরফধসের পর নদীর প্রবাহ আটকে গিয়েছিল। কিন্তু ওই সময় এমন আকস্মিক বন্যা হয়নি।

বৃষ্টির কারণে আকস্মিক বন্যা হয়নি বলেও জানিয়েছেন প্রফেসর রিজান ভক্ত। তিনি বলেছেন, বন্যার যে দৃশ্য দেখা গেছে এতে বোঝা গেছে, পানির বিস্ফোরণের কারণে এ বন্যার সৃষ্টি হয়েছে।

সূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট

এমটিআই