তেহরানকে চাপে ফেলতে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামের যে অর্থনৈতিক অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র, তা থেকে ইরানের আত্মরক্ষার উপায় বলেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকারকে তিনি অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন।
ইরানের সরকার সপ্তাহ উপলক্ষে গত কাল শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি বার্তায় তিনি ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকারকে অভ্যন্তরীণ মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব, মূল্য ব্যবস্থাপনা এবং পণ্য ও পরিষেবা বাজারের নিয়ন্ত্রণসহ পরস্পর সংযুক্ত অর্থনৈতিক ও জীবন-জীবিকার চ্যালেঞ্জগুলোর প্রতি মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এক্সবার্তায় মোজতবা বলেছেন, “এখন গুরুত্বপূর্ণ হলো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া, উৎপাদন বৃদ্ধি করা, মার্কিন ডলারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পর্যায়ক্রমে কমিয়ে আনা এবং পরিশেষে, প্রতিরোধ অর্থনীতিকে কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসা—এগুলো সবই সেবা-ভিত্তিক সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।”
— Ayatollah Mojtaba Khamenei (@MKhamenei_ir) August 28, 2026
বার্তায় খামেনি আরও বলেন, আমদানি ও মূল্য নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি উৎপাদনকে উৎসাহিত করা গেলে ইরানের অর্থনীতির ‘অন্ধকার দিকগুলো’ ধীরে ধীরে কমে সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে যেতে পারে।
“এই সমস্ত সমস্যা সমাধানের মূল চাবিকাঠি হলো অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের ওপর ক্রমবর্ধমান হারে নির্ভরতা বাড়ানো।”
উল্লেখ্য, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে আলোচনা-হুঁশিয়ারি পর গত ২৪ আগস্ট ইরানের বিরুদ্ধে বিশেষ অর্থনৈতিক অভিযান ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।
সংবাদ সম্মেলনে স্কট বেসেন্ট বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে আগে থেকেই বেশকিছু নিষেধাজ্ঞা কার্যকর আছে; অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্টের আওতায় নিষেধাজ্ঞার মাত্রা অভূত মাত্রায় বৃদ্ধি করা হবে, বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধ অব্যাহত হবে এবং কোনো দেশ যদি ইরানকে সহায়তা করে, তাহলে সেই দেশের ওপরও নেমে আসবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা।
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার জেরে চলতি সপ্তাহে মুক্ত বাজারে ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের দর ২০ লাখ রিয়াল ছাড়িয়ে গিয়ে এযাবৎকালের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
মোজতবা খামেনি ইরানের প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মেজো ছেলে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন বিমান বাহিনীর হামলায় স্ত্রী, পুত্রবধু এবং নাতনিসহ নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং মোজতবা খামেনি হন গুরুতর আহত।
আয়াতুল্লাহ খামেনি নিহত হওয়ার পর মোজতবা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হন। বর্তমানে ইরানের ইসলামপন্থি সরকারের তত্ত্বাবধানে অজ্ঞাত স্থানে আছেন তিনি।
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি
এসএমডব্লিউ
