বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত রাখা অভিবাসী ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়া ফের চালু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির ফেডারেল আদালতের এক আদেশের পর অভিবাসীদের ভিসা স্থগিতের রায় বাতিল করে নতুন ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুযোগ-সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন; এমন আবেদনকারীদের বাছাই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত জানুয়ারিতে এই ভিসা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে বিশ্বের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। ওই অভিবাসী ভিসার মাধ্যমে দেশটিতে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ বা গ্রিন কার্ড পাওয়া যায়। ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্কের (ক্লিনিক) এক মামলায় দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বিরুদ্ধে নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের মার্কিন জেলা বিচারক জিনেট ভার্গাস রায় দেওয়ার পর ২১ আগস্ট ওই নীতির বিলুপ্তি ঘটে।
আদালত বলেছে, কেবল জাতীয়তার ওপর ভিত্তি করে অভিবাসী ভিসা প্রত্যাখ্যান করা ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্টের আওতায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এখতিয়ারবহির্ভূত কাজ। পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে ২৮ আগস্ট হালনাগাদ করা নতুন তথ্যে ওই স্থগিতাদেশ ‘আর কার্যকর নেই’ বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
• তালিকায় যে ৭৫ দেশ
বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, আলবেনিয়া, আলজেরিয়া, অ্যান্টিগুয়া ও বার্বুডা, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বাহামা, বার্বাডোস, বেলারুশ, বেলিজ, ভুটান, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, ব্রাজিল, মিয়ানমার, কম্বোডিয়া, ক্যামেরুন, কেপ ভার্দে, কলম্বিয়া, কোত দিভোয়ার, কিউবা, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, ডোমিনিকা, মিসর, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, ফিজি, গাম্বিয়া, জর্জিয়া, ঘানা, গ্রানাডা, গুয়াতেমালা, গিনি, হাইতি, ইরান, ইরাক, জ্যামাইকা, জর্ডান, কাজাখস্তান, কসোভো, কুয়েত, কিরগিজ প্রজাতন্ত্র, লাওস, লেবানন, লাইবেরিয়া, লিবিয়া, মলদোভা, মঙ্গোলিয়া, মন্টিনিগ্রো, মরক্কো, নেপাল, নিকারাগুয়া, নাইজেরিয়া, উত্তর মেসিডোনিয়া, পাকিস্তান, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, রাশিয়া, রুয়ান্ডা, সেন্ট কিটস ও নেভিস, সেন্ট লুসিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট ও দ্য গ্রেনাডিন্স, সেনেগাল, সিয়েরা লিওন, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান, সুদান, সিরিয়া, তাঞ্জানিয়া, থাইল্যান্ড, টোগো, তিউনিশিয়া, উগান্ডা, উরুগুয়ে, উজবেকিস্তান এবং ইয়েমেন।
• আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে কী ঘটবে?
স্থগিতাদেশ উঠে যাওয়ার অর্থ হলো সাধারণ সব নিয়মকানুন সাপেক্ষে এখন থেকে এই ৭৫ দেশের আবেদনকারীদের জন্য আবার অভিবাসী ভিসা ইস্যু করা হবে। আগের দেওয়া ভিসার ওপর এই স্থগিতাদেশের কোনো প্রভাব পড়বে না। ফলে নীতিটি কার্যকর থাকাকালীন আবেদনকারীরা তাদের আবেদন জমা এবং সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে স্থগিত রাখা হয়েছিল চূড়ান্ত ভিসা প্রদান প্রক্রিয়া।
যাদের দ্বৈত নাগরিকত্ব আছে এবং তালিকায় থাকা ৭৫ দেশের বাইরের কোনো দেশের বৈধ পাসপোর্ট ছিল, তারা এই বিধিনিষেধের বাইরে ছিলেন। এ ছাড়া প্রেসিডেন্সিয়াল প্রোক্লেমেশন ১০৯৯৮-এর আওতায় বিশেষ ছাড়ের আওতায় মার্কিন পরিবারগুলোর দত্তক নেওয়া শিশুরাও এই নীতি থেকে ছাড় পেয়েছিল। তবে পর্যটক, শিক্ষার্থী এবং অস্থায়ী কর্মীদের মতো অ-অভিবাসী ভিসা এই নির্দিষ্ট স্থগিতাদেশের আওতায় ছিল না।
সূত্র: এনডিটিভি।
এসএস
