যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রণে থাকা আটলান্টিক মহাসাগরের দ্বীপ ফকল্যান্ডকে নিজেদের ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করেছেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট জাভিয়ার মিলেই। তিনি বলেছেন, যদি কোনো তেল কোম্পানি এই ব্রিটিশ ভূখণ্ডের কাছে তেল উৎপাদন করতে যায় তাহলে তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ফকল্যান্ড নিয়ে তাদের যে অবস্থান আছে সেটি তারা পুনর্বিবেচনা করবেন।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে মিলেই বলেন, “পরিবর্তনের হাওয়া’ আর্জেন্টিনার পক্ষে আছে। তিনি বলেছেন, ওই দ্বীপের কাছের সি লায়ন তেলক্ষেত্রে ব্রিটিশ ও ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠান তেলের সন্ধানে যে অনুসন্ধান শুরু করতে যাচ্ছে তা আর্জেন্টিনার জন্য একটি স্পষ্ট ও বিরাজমান ঝুঁকি।
যুক্তরাজ্য আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্টের দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, ফকল্যান্ড তাদের বিদেশি ভূখণ্ড হিসেবে আছে এবং থাকবে। এ নিয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এছাড়া সেখানকার বেশিরভাগ বাসিন্দা যুক্তরাজ্যের অধীনেই থাকতে চায় বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইডি মিলিব্যান্ড।
অপরদিকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর বলেছে, যতদিন এ দ্বীপের বাসিন্দারা চাইবেন ততদিন এটি ব্রিটিশ ভূখণ্ড হিসেবে থাকবে।
৪০ বছর আগে দক্ষিণ-পূর্ব আটলান্টিক মহাসাগরের এ এই দ্বীপ নিয়ে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে জড়িয়েছিল যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনা। এতে জয় পেয়েছিল যুক্তরাজ্য। কিন্তু এখনো এটি তাদের মধ্যে বড় দ্বন্দ্বের অন্যতম উৎস।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, ফকল্যান্ড দ্বীপ থেকে ১৩০ মাইল দূরে সি লায়ন তেলক্ষেত্র অবস্থিত। ধারণা করা হয় এখানে ১৭ লাখ ব্যারেল তেল আছে।
আগামী দুই বছরের মধ্যে সি লায়ন তেলক্ষেত্র থেকে ব্রিটিশ ও ইসরায়েলের দুটি কোম্পানির তেল উৎপাদন শুরুর কথা আছে। তবে আর্জেন্টিনার মিলেই বলেছেন, তারা এটি কখনো মেনে নেবেন না।
সূত্র: বিবিসি
এমটিআই
