দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইতালিতে একটানা সবচেয়ে বেশি সময় ধরে গণতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতায় থাকার রেকর্ড করলেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। গতকাল এই রেকর্ড করার পর এক ভাষণে মেলোনি বলেছেন, তার নেতৃত্বাধীন সরকারের এই অভূতপূর্ব স্থিতিশীলতা ইতালিকে আরও শক্তিশালী করেছে।
ইতালির রাজনৈতিক দল ব্রাদার্স অব ইতালি (এফডিআই) প্রেসিডেন্ট জর্জিয়া মেলোনি ২০২২ সালের অক্টোবরের নির্বাচনে জিতে ইতালির প্রধানমন্ত্রী হন। তারপর থেকে এখনও এ পদেই আছেন তিনি। ইতালির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গত কাল ৪ সেপ্টেম্বর ১ হাজার ৪১৪ দিন পূরণ করলেন তিনি।
এর আগে একটানা সবচেয়ে বেশিদিন প্রধানমন্ত্রী পদে থাকার রেকর্ড ছিল ইতালির সাবেক প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বারলুসকোনির। ২০০১ সালের ১১ জুন থেকে ২০০৫ সালের ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বারলুসকোনি।
মেলোনি অবশ্য আরও একটি রেকর্ডের অধিকারী। ইতালির ইতিহাসে তিনিই প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী।
টানা সবচেয়ে বেশিদিন ক্ষমতায় থাকার রেকর্ড উপলক্ষে গতকাল ইতালির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর বারি’তে সমাবেশের আয়োজন করেছিল ব্রাদার্স অব ইতালি। সেখানে দেওয়া বক্তব্যে গত প্রায় ৬ বছরের মেয়াদে তার নেতৃত্বাধীন সরকার কী কী লক্ষ্য অর্জন করেছে, তার তালিকা দিয়েছেন তিনি।
বক্তৃতায় তিনি বলেছেন, “বর্তমান সরকার এদেশে যেসব সংস্কার এনেছে, সেসবের মধ্যে প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণটি হলো স্থিতিশীলতা। এই স্থিতিশীলতার কারণেই ইতালি এখন আর ইউরোপের নজরদারির অধীনে থাকা কোনো দেশ নয়।”
প্রসঙ্গত, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়েছে ১৯৪৬ সালে। তারপর গত ৮০ বছরে মোট ৬৮টি সরকার দেখেছেন ইতালীয়রা।
তবে সংঘাত এবং অর্থনৈতিক অভিঘাতের সাম্প্রতিক উত্তাল বৈশ্বিক সময়ে, প্রতিবেশী অন্যান্য ইউরোপীয় রাষ্ট্রের তুলনায় অনেক স্থিতিশীল অবস্থায় আছে ইতালি। ইউরোপের দুই বৃহৎ পরাশক্তি ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের দিকে তাকালে তা বোঝা যায়। ২০২২ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ফ্রান্স ৫ জন প্রধানমন্ত্রী দেখেছে, যুক্তরাজ্য দেখেছে ৪ জন।
শুক্রবারের বক্তব্যে মেলোনি বলেছেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ইতালির সরকারি অর্থব্যবস্থা ও বিপুল ঋণের বোঝা সামলানোর বিষয়ে আর্থিক বাজারকে আশ্বস্ত করেছে, যা সরকারি বন্ডের ওপর ঋণের খরচ কমাতে সাহায্য করেছে।
তিনি বলেন, “সরকারি হিসাবপত্র সুশৃঙ্খল থাকলে বিধিনিষেধ কম থাকে। যারা নিজেদের অর্থব্যবস্থা সুশৃঙ্খল রাখে, তারাই সিদ্ধান্ত নিতে পারে যে তাদের অর্থ কোথায় ব্যয় করবে।”
ইতালির রাজনীতি বিশ্লেষকদের অধিকাংশই অবশ্য একমত যে, ইতালির অর্থব্যবস্থার ওপর আস্থা পুনরুদ্ধার করাই মেলোনির সবচেয়ে বড় সাফল্য, কিন্তু সমালোচকরা অভিযোগ, যে অদক্ষ সরকারি প্রশাসন, স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের জন্য তেমন কিছুই করা হয়নি।
তাদের মতে, সরকারের প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারগুলো, যার মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা শক্তিশালী করার পরিকল্পনাও রয়েছে— সেসব থমকে আছে। অন্যদিকে ভোটাররা এ বছর বিচার বিভাগীয় সংস্কারের বিষয়ে সরকার-সমর্থিত একটি গণভোট প্রত্যাখ্যান করেছে।
শুক্রবার মধ্য-বামপন্থী বিরোধী দল ইতালির দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে ব্যর্থতার জন্য সরকারকে অভিযুক্ত করেছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং ফাইভ-স্টার মুভমেন্টের নেতা জিউসেপ্পে কন্তে দেশের ক্রমাগত মন্থর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দিকে ইঙ্গিত করে এক বার্তায় বলেছেন, “চার বছরের নিষ্ক্রিয়তা ও জড়তা কোনো সম্মানের প্রতীক নয়, বরং এটি পরিস্থিতিকে আরও গুরুতর করে তুলেছে।”
সূত্র : রয়টার্স
এসএমডব্লিউ
