বিজ্ঞাপন

যুক্তরাজ্যে অভিবাসন-বিরোধী বিক্ষোভ, সরকারের নিন্দা

যুক্তরাজ্যে অভিবাসন-বিরোধী বিক্ষোভ, সরকারের নিন্দা

ফ্রান্স থেকে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের আগমন ঠেকানোর দাবিতে যুক্তরাজ্যে দুই দিন ধরে বিক্ষোভ হয়েছে। রাস্তা বন্ধ করে বিক্ষোভ করায় এর নিন্দা জানিয়েছে দেশটির সরকার। বিক্ষোভকারীদের আচরণকে গুণ্ডামির সৃঙ্গে তুলনা করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন এক মন্ত্রী।

রোববার রাতে ইংল্যান্ডের উপকূলীয় শহর পোর্টসমাউথের রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করে কয়েকশ মানুষ। এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে মন্ত্রী এমা রেনল্ডস বলেন, বিক্ষোভকারীদের আচরণ গুণ্ডাসুলভ।

এর আগে শনিবার ডোভার বন্দরেও একদল মুখোশধারী যান চলাচল ব্যাহত করে বিক্ষোভ করে। বিক্ষোভকারীরা সেখানে নৌকা চলাচল বন্ধ করো স্লোগান দেন। তাদের এমন বিক্ষোভ এবং স্লোগানের মূল লক্ষ্য ছিল আশ্রয়প্রার্থীদের নিয়ে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে আসা নৌযান।

• মুখোশ পরে বিক্ষোভ

শনিবারের বিক্ষোভে কয়েকশ মানুষ অংশ নেয়। বিক্ষোভকারীদের অনেকের মুখে ছিল মুখোশ। সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করায় ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, ডোভার শহরে সৃষ্টি হয় প্রায় চার মাইল (৬.৪ কিলোমিটার) দীর্ঘ যানজট।

এমন বিক্ষোভের নিন্দা জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের লেবার পার্টি সরকার। এক বিবৃতিতে বলা হয়, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকার আমাদের গণতন্ত্রের একটি মৌলিক বিষয়। তবে ডোভারে যা ঘটেছে, যার ফলে যাতায়াত ব্যবস্থাতেও বিঘ্ন ঘটেছে, আমরা তার নিন্দা জানাই।

• বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ

একদিন পর নৌপথে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের আগমন ঠেকাতে আরেকটি বিক্ষোভ হয় পোর্টসমাউথে। সেই বিক্ষোভ সম্পর্কে স্কাই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রেজারির চিফ সেক্রেটারি এমা রেনল্ডস বলেন, বিক্ষোভের এই মাত্রা সম্ভবত আগে দেখা যায়নি। তবে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে।

ব্রিটেনে প্রায়ই অভিবাসনপ্রত্যাশী বোঝাই নৌকা ঢুকে পড়ে। এমন আশ্রয়প্রার্থীর আগমন নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার কারণে লেবার পার্টির সরকার এখন বিরোধী দল ও অভিবাসন-বিরোধীদের তোপের মুখে। তবে এমা রেনল্ডস জানান, ১ জানুয়ারি থেকে গত ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আগত অভিবাসনপ্রত্যাশীর সংখ্যা কমেছে। তিনি জানান, এ সংখ্যা ১৭ হাজারে নেমে এসেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৩ শতাংশ কম।

দুই দিনের ব্যবধানে দুটি বিক্ষোভ হয়েছে মূলত ইংলিশ চ্যানেল দিয়ে ১৪০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী আসায়। সিগনাল এবং টেলিগ্রামের মতো মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার করে কিছু কট্টর ডানপন্থি গোষ্ঠী এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভের আহ্বান জানায়। তাতে সাড়া দেয় অনেকে। তাদের সমালোচনা করে এমা রেনল্ডস বলেন, এমন আচরণ গুণ্ডাসুলব ও ভীতিপ্রদ। তিনি মনে করেন, এত অল্প সময়ে এমন সংগঠিত বিক্ষোভ উদ্বেগজনক।

পোর্টসমাউথ পুলিশ ও অপরাধ বিষয়ক কমিশনার ডোনা জোন্স জানান, বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ হলেও বিপুল লোক-সমাগমের কারণে কাছের অন্যান্য এলাকা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য আনতে হয়েছিল।

এসএস