বিজ্ঞাপন

পাল্টা ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’, নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার হুমকি ইরানের

পাল্টা ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’, নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার হুমকি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্রকে পাল্টা অর্থনৈতিক যুদ্ধের হুমকি দিয়েছে ইরান। পাশাপাশি দাবি করেছে, সম্প্রতি হরমুজ প্রণালিতে টহলরত মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো লক্ষ্য করে একটি অগ্রসর ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরানের সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।

গত কাল সোমবার ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেল আইআরআইবিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের শীর্ষ নির্বাহী অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মোহসিন রেজায়ী। ১৯৮১ সাল থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত আইআরজিসির কমান্ডার-ইন-চিফ ছিলেন তিনি।

আজ মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে এ তথ্য জানিয়ে একটি পোস্টও করেছেন রেজায়ী। এক্সপোস্টে তিনি বলেছেন, “রেজাই বলেন, “সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র থেকে ওয়াশিংটন একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা পেয়েছে। শিগগিরই অর্থনৈতিক যুদ্ধের জবাবে পারস্য উপসাগর জুড়ে অবরোধের পরিধি পর্যন্ত একটি সামুদ্রিক প্রবেশ-নিষিদ্ধ অঞ্চল ঘোষণা করা হবে। মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে আমাদের অভিযানগত অবস্থান মৌলিকভাবে পুনর্বিন্যস্ত করা হয়েছে।”

ধারণা করা হচ্ছে, রেজায়ি ‘নতুন ক্ষেপণাস্ত্র বলতে’ কাসেম বসির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের কথা বলেছেন। সম্প্রতি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে এই ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে আইআরজিসি। তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী বলেছে, তাদের যুদ্ধজাহাজগুলো যেকোনো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এড়াতে সক্ষম হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের গোলাবর্ষণ ইরানের প্রচলিত সামরিক শক্তিকে দুর্বল করে দিলেও এবং দেশটির আগে থেকেই দুর্বল অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করলেও, ইরান তার অনুমতি ছাড়াই হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী তেল ট্যাঙ্কারগুলোকে হুমকি দিতে এবং মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকা উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলা চালানোর জন্য ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা বজায় রেখেছে।

কাসেম বসির ক্ষেপণাস্ত্র

কাসেম বসিরকে একটি উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে প্রচার করছে ইরান। এটি বেশ অগ্রসর একটি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম) এড়াতে সক্ষম। এই দিকনির্দেশনা ব্যবস্থাটি ইলেকট্রনিক যুদ্ধের বিরুদ্ধেও কার্যকর। ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন মাসে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রথম কাসেম বশির ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইরান।

আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একাংশের ধারণা, হরমুজ প্রণালীতে ইরানের প্রভাব কমে আসছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ইরানের পক্ষে প্রতিরোধ করা ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে।

তবে তাদের এই ধারণার সঙ্গে দ্বিমত পোষণকারীদের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের বিমান অভিযানে ইরানের সামরিক শক্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং অর্থনৈতিক চাপ দেশটির দুর্বল অর্থনীতিতে গভীর প্রভাব ফেল্লও এখনও আইআরজিসি প্রতিবেশী মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সক্ষমতা রাখে।

সূত্র : রয়টার্স

এসএমডব্লিউ