যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রলম্বিত যুদ্ধের প্রভাবে হু হু করে বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম। আজ বুধবার অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের প্রধান বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ দশমিক ১৯ ডলারে উঠে গিয়েছিল।
পরে অবশ্য তা খানিকটা নেমে আসে। এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, আজ বুধবার আন্তর্জাতিক সময় সকাল ৮টা ২ মিনিট (বাংলাদশে সময় দুপুর ২টা ২মিনিট) থেকে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড বিক্রি হচ্ছে ৯৯ দশমিক ৯৩ ডলারে এবং এবং অপরিশোধিত তেলের অপর বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) প্রতি ব্যারেল বিক্রি হচ্ছে ৯৪ দশমিক ৫২ ডলারে।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর গত ১৭ জুন ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান। তবে ৬০ দিন পার হওয়ার অনেক আগেই, ১৩ জুলাই চুক্তি থেকে বের হয়ে যায় ইরান।
তারপরও মেয়াদ থাকা অবস্থায় চুক্তিতে ফিরে আসার সুযোগ ছিল; কিন্তু আগস্টের ১৮ তারিখ সেই চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যায় এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। ক্রমবর্ধমান সেই উত্তেজনার প্রভাব পড়ে জ্বালানি পণ্যের বাজারেও। আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে বাড়তে শুরু করে অপরিশোধিত তেলের দাম।
তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি সম্পর্কে বাজার পর্যবেক্ষক সংস্থা ক্যাপিটাল ইকোনোমিক্সের জলবায়ু ও পণ্য বিষয়ক অর্থনীতিবিদ হামাদ হোসাইন রয়টার্সকে বলেন, “তেলে দাম বৃদ্ধির একমাত্র কারণ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়া এবং এই যুদ্ধের জেরে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেলের সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটা। তাই যুদ্ধ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে তেলের দাম হ্রাসের সম্ভাবনা কম।”
বাজার পর্যবেক্ষক সংস্থা অ্যাবেক্স মার্কেটসের কো-চেয়ারম্যান জেফরি কুরি শীর্ষ রয়টার্সকে এ প্রসঙ্গে বলেন, “"আমার মনে হয়, বাজার জ্বালানির দামের এই বৃদ্ধিকে একটি বিচ্ছিন্ন বা সাময়িক ঘটনা হিসেবে দেখার চেষ্টা করছে; কিন্তু আসলে ব্যাপারটি এমন নয়। এটি একটি কাঠামোগত বিষয়। এই পরিস্থিতি সহজে কাটবে না এবং আমি একে 'নিরাপত্তা-জনিত অতিরিক্ত মূল্য' (সিকিউরিটি প্রিমিয়াম)-এর অংশ হিসেবেই বিবেচনা করব। আর সময়ের সাথে সাথে এর মাত্রা আরও বাড়বে।”
সূত্র : রয়টার্স
এসএমডব্লিউ
