ইরানের ভূখণ্ডে অবস্থিত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য জলপথ হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রে এখন থেকে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ নামে ডাকা হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ ঘোষণা দিয়েছেন।
আগামী নভেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন। সেই নির্বাচন উপলক্ষে নিজের রাজনৈতিক দল রিপাবলিকান পার্টির এক প্রচারণা সভায় যোগ দিতে গত কাল বুধবার টেক্সাসের ডালাস শহরে গিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই সভায় দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেছেন, “আমরা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জয়ী হলেই তেলের দাম কমবে। আমরা এই যুদ্ধ জিতবই; এমকি বলা ভালো— ইতোমধ্যে আমাদের জয় শুরুও হয়ে গেছে। আমরা এখন হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করছি। আমার মনে হয়, হরমুজ প্রণালিকে এখন থেকে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ ডাকা উচিত; কারণ এই যুদ্ধ থেকে তো আমারও কিছু পাওয়া উচিত, আর সেই প্রাপ্তি হবে ‘ট্রাম্প প্রণালি’।”
“ভদ্রমহিলা ও মহোদয়গণ, আজ আমি এখানে ঘোষণা করছি— এখন থেকে আমরা এই জলপথ ট্রাম্প প্রণালি নামে ডাকব। আমি নিশ্চিত যে এটি ইরানের নেতাদের মধ্যে শিহরণ তৈরি করবে।”
ইরান ‘ভেঙে পড়ছে’ উল্লেখ করে সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, “গত ৫১ বছর ধরে তারা মধ্যপ্রাচ্যে গুন্ডামি করে যাচ্ছে। এই গুন্ডমির দিন শিগগিরই শেষ হবে।”
এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে হরমুজ প্রণালির মানচিত্রের একটি ছবি প্রকাশ করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সেখানে হরমুজ প্রণালির নাম ‘ট্রাম্প প্রণালি’ লেখা হয়েছিল।
পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্তকারী হরমুজ প্রণালি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য জলপথগুলোর মধ্যে একটি। পৃথিবীর এক পঞ্চমাংশ জ্বালানি পণ্য এই পথ দিয়ে প্রবাহিত হয়।
ভৌগলিকভাবে এই প্রণালি ইরানের ভূখণ্ডে অবস্থিত এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের আগ পর্যন্ত এই প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে কোনো সমস্যা ছিল না। তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। কারণ, ইরান হরমুজ প্রণালি ব্যবহারে ইচ্ছুক বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজগুলো থেকে টোল আদায়ের ঘোষণা দিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্ব ইরানের এ সিদ্ধান্তের ঘোর বিরোধী। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি বন্দরগুলোতে পাল্টা অবরোধ জারি করার পর থেকে কোনো দেশি-বিদেশি জাহাজ ইরানের বন্দরে প্রবেশ করতে বা বন্দর থেকে বেরিয়ে যেতে পারছে না।
এক মাসেরও বেশি সময় ধরে ‘অনানুষ্ঠানিক বিরতির’ পর ৩০ আগস্ট রোববার থেকে ফের সংঘাত শুর হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে। ২৮ আগস্ট সৌদি আরবের দু’টি ট্যাংকার জাহাজের গোপনে হরমুজ পাড়ি দেওয়ার সময় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জেরে সংঘাতের সূত্রপাত। মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র সৌদি আরব।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবশ্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক জলাশয়ের নাম পরিবর্তনের দিকে ঝোঁক রয়েছে। ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি শপথ গ্রহণের অল্প কিছুদিন পর মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন করে আমেরিক উপাসগর রাখেন তিনি।
তারপর গত জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যকে কানাডার অন্টারিও রাজ্য থেকে পৃথককারী হ্রদ অন্টারিও হ্রদের নাম পরিবর্তন করে তিনি রাখেন আমেরিকা হ্রদ।
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি
এসএমডব্লিউ
