হরমুজে ফের দুই মার্কিন সামরিক নৌযানে হামলা করেছে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। গত ৭ দিনে এই নিয়ে ৩ বার হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন সামরিক নৌযানে হামলা করল আইআরজিসি।
গত কাল বৃহস্পতিবার রাতে এক বিবৃতিতে আইআরজিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “হরমুজ প্রণালির ওমান উপকূলের কাছে দু’টি চালকবিহীন মার্কিন সামরিক নৌযানে হামলা করা হয়েছে। নৌযান দু’টি মার্কিন বাহিনীর সামুদ্রিক ড্রোন ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।’
পৃথক এক বিবৃতিতে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল ট্র্যাকিং সংস্থা ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম অপারেশন সেন্টার (ইউএকএমটিও) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার গ্রিনিচ সময় সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় রাত ১টা ১০ মিনিট) হরমুজে দু’টি মার্কিন নৌযানে অন্তত ৪টি ক্ষেপণাস্ত্র কিংবা ড্রোন আঘাত হেনেছে। এতে একটি নৌযানে আগুন ধরে গিয়েছে। অপরটির কী অবস্থা, তা এখনও জানা যায়নি।
ইউকেএমটিও’র বক্তব্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির যে এলাকায় হামলা হয়েছে, সেখান থেকে ওমানের মুসান্দাম প্রদেশের রাজধানী আল খাসাবের উপকূলের দূরত্ব ৭ দশমিক ৪ কিলোমিটার।
উল্লেখ্য, পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্তকারী ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য জলপথগুলোর মধ্যে একটি। পৃথিবীর এক পঞ্চমাংশ জ্বালানি পণ্য এই পথ দিয়ে প্রবাহিত হয়।
ভৌগলিকভাবে এই প্রণালি ইরানের ভূখণ্ডে অবস্থিত এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের আগ পর্যন্ত এই প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে কোনো সমস্যা ছিল না। তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজে বিদেশি জাহাজ চলাচলের ওপর ইরানের নিষেধাজ্ঞা এবং ইরানের সামুদ্রিক বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা অবরোধ জারির পর থেকে থেকে হরমুজ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
গত ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর হরমুজে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে মার্কিন নৌবাহিনীর দু’টি ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজ অচল করে দিয়েছিল আইআরজিসি। ৯ ডিসেম্বর ফের দু’টি যুদ্ধ জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা। তার পর গতকাল ১০ সেপ্টেম্বর তৃতীয় দফায় হামলা চালাল ইরান।
সূত্র : আলজাজিরা, আনাদোলু এজেন্সি
এসএমডব্লিউ
