ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিশ্বনেতাদের সম্মানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আয়োজিত নৈশভোজের খাবারের তালিকা নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে দেশটির প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। দলটি বলেছে, আমন্ত্রিত বিশ্বনেতাদের সম্পূর্ণ নিরামিষ খাবার পরিবেশন করে বিজেপি সরকার সারা বিশ্বের ওপর নিরামিষাশী সংস্কৃতি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। শনিবারের ওই আন্তর্জাতিক আয়োজনে বিদেশি অতিথিদের কেবল নিরামিষের বিভিন্ন পদে আপ্যায়ন করা হয়।
খাদ্যতালিকায় ‘খুম্ব গালাওটির’ (মাশরুম কাবাব) মতো বিশেষ স্টার্টার এবং ডেজার্ট পর্বে শাহদুত ফিরনি ও জিলাপির সঙ্গে ফ্রুট ক্রিমসহ দশটিরও বেশি পদ রাখা হয়েছিল। তবে মূল খাবারের প্রতিটি পদই ছিল নিরামিষ; যার মধ্যে আধুনিক স্বাদে তৈরি পনির, মাশরুম, মিলেট পোলাও ও বিটরুট রাইতা অন্যতম।
বিদেশি অতিথিদের কেবল নিরামিষ খাওয়ানোর এই বিষয় মানতে পারেনি কংগ্রেস। সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দলটির শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধী বলেছেন, ‘‘তথ্যের খাতিরে জানিয়ে রাখি, ভারতের ৮০ শতাংশ মানুষই আমিষভোজী। ভারতীয় আমিষ পদ অত্যন্ত সুস্বাদু। ঠিক যেমন আমার বোনের তৈরি ছোলা ভাটুরেও বেশ দারুণ।’’
— Rahul Gandhi (@RahulGandhi) September 13, 2026
কংগ্রেসের মুখপাত্র পবন খেরা এক্সে দেওয়া পোস্টে বলেছেন, ‘‘নিজেদের খাদ্যাভ্যাস সহকর্মীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার বিজেপির স্বভাব এমনিতেই বড় সমস্যার বিষয়। এবার তারা এক ধাপ এগিয়ে সারা বিশ্বের বিশিষ্ট অতিথিদের ওপরও নিজেদের পছন্দ চাপিয়ে দিচ্ছে।’’
সমালোচনায় সুর মিলিয়ে ওয়ারিস পাঠান বলেন, আমরা ভারতের বৈচিত্র্য নিয়ে মুখে অনেক বড় বড় কথা বলি। কিন্তু এই মেনুটি এক লহমায় সেই বৈচিত্র্যকেই মুছে দিয়েছে!
তিনি লেখেন, আপনারা নিরামিষ খাবারের প্রচার করতেই পারেন, তাতে কোনো বাধা নেই। কিন্তু ভারতের পুরো খাদ্যসংস্কৃতিকে শুধু নিরামিষ পদে বন্দি করবেন না। ভারতের কোটি কোটি মানুষ আমিষ খাবার খান; আমাদের রন্ধনশৈলীর বৈচিত্র্যে খাসির মাংস, মুরগি ও মাছ সমান গুরুত্ব বহন করে।
পাঠান বলেন, বিশ্বের শীর্ষনেতারা ভারতে এসেছিলেন। তাদের সামনে ভারতের আসল স্বাদের বৈচিত্র্য তুলে ধরা উচিত ছিল। যেমন মাটন মশলা ফ্রাই, হায়দ্রাবাদি বিরিয়ানি, তন্দুরি চিকেন, বাটার চিকেন ও গোয়ান ফিশ কারির মতো জনপ্রিয় পদগুলো। বিশ্বকে দেখানো দরকার ছিল যে, ভারতের বৈচিত্র্য কেবল ভাষা ও সংস্কৃতিতেই সীমাবদ্ধ নয়, তা আমাদের আহারের থালিতেও রয়েছে।
— Pawan Khera (@Pawankhera) September 13, 2026
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরোধীদের কটাক্ষ করে বলা ‘নারাজ ফুফা’ মন্তব্য টেনে রসিকতার সুরে তিনি বলেন, ‘‘...মাটন-চিকেন বাদ পড়েছে... পিসেমশাইরা এবার ঠিকই রুষ্ট হবেন!’’
তবে পাল্টা জবাব দিতে দেরি করেনি শাসকদল বিজেপি। তারা অভিযোগ করেছে, নীতিগত বিষয় বা কূটনৈতিক সাফল্য নিয়ে কথা না বলে খাবার নিয়ে রাজনীতি করে কংগ্রেস একটি বড় আন্তর্জাতিক আয়োজনকে হালকা করার চেষ্টা করছে। বিজেপি বলেছে, সম্মেলনের মূল প্রস্তাব, বৈশ্বিক সংকট কিংবা ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ঐকমত্য তৈরিতে ভারতের যে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে ব্যর্থ হয়েছে বিরোধীরা।
বিজেপি বলছে, বিশ্বমঞ্চে ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রভাবশালী অবস্থান দেখে কংগ্রেস ভেতরে ভেতরে মন খারাপ করে বসে আছে। আর তাই গঠনমূলক সমালোচনার কোনো জায়গা না পেয়ে তারা কেবল নৈশভোজের মেনু কেন্দ্র করে রাজনীতিতে মেতেছে।
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপূজায় আমিষ খাবার খাওয়া নিয়ে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (ভিএইচপি) কয়েকজন নেতার বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে যে তুমুল শোরগোল চলছে, তার মধ্যেই আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এই খাবারের মেনুকে কেন্দ্র করে মোদি-কংগ্রেস রাজনৈতিক লড়াই নতুন মাত্রা পেল।
— Waris Pathan (@warispathan) September 13, 2026
শনিবার রাতের ওই জমকালো নৈশভোজে নিরামিষ খাবারের আয়োজন ছিল। স্টার্টার হিসেবে পরিবেশন করা হয় খাণ্ডভি মিল (বেসন ও নারকেলের রোল) এবং খুম্ব গালাওটি (পুদিনার ফ্লেভারযুক্ত মাশরুম কাবাব)। খাবারের মূল পদে ছিল ‘পনির লাবাবদার’, হিমালয়ের বিরল মাশরুম ও অ্যাসপ্যারাগাস দিয়ে তৈরি ‘গুচ্চি মার্মিক’ এবং ‘ক্যারট বিন পোরিয়াল’।
এ ছাড়া ‘তাক্কালি বেল্লে সারু’ (বিশেষ ডালের স্যুপ), মিলেট পোলাও, বিটরুট রাইতা ও রকমারি ভারতীয় রুটিও ছিল। আর মিষ্টির তালিকায় স্থান পায় ওল্ড দিল্লি ফ্রুট ক্রিম উইথ জিলাপি ও শাহদুত ফিরনি।
সূত্র: এনডিটিভি।
এসএস
