বিজ্ঞাপন

সৌদির জ্বালানি স্থাপনায় হামলার পর তেলের দাম বাড়ল প্রায় ৩ শতাংশ

সৌদির জ্বালানি স্থাপনায় হামলার পর তেলের দাম বাড়ল প্রায় ৩ শতাংশ

সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনে হামলা এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরানি কার্গো জাহাজে হামলার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছে। আজ সোমবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।

রয়টার্সের তথ্য অনুসারে, আজ সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড প্রতি ব্যারেল বিক্রি হচ্ছে ১০৭ দশমিক ৫৪ ডলারে এবং প্রতি ব্যারেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) বিক্রি হচ্ছে ১০২ দশমিক ৯৩ ডলারে। গত কাল রোববারের তুলনায় সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম (প্রতিব্যারেল হিসেবে)  ২ দশমিক ৯৮ ডলার  এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ২ দশমিক ৮৮ ডলার বেড়েছে।

শতকরা হিসেবে এই দাম বৃদ্ধির হার যথাক্রমে ২ দশমিক ৮০ শতাংশ এবং ২ দশমিক ৯ শতাংশ।

জ্বালানির আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইএনজি-এর কমোডিটি স্ট্র্যাটেজি বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, “তেলের এই মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো, বিশেষ করে পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনে হামলা। এ হামলার কারণে সৌদি থেকে তেলের সরবরাহ আসা বন্ধ রয়েছে।”

গত ১১ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ এবং মদিনায় ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন লক্ষ্য করে বেশ কয়েকটি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী। সৌদির জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, হামলায় পাইপলাইনের বেশ ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় সেটি বন্ধ রাখা হয়েছে। মেরামতের আগে সেটি ফের চালু করা সম্ভব নয়।

আরব উপদ্বীপজুড়ে বিস্তৃত ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইনটি সৌদি আরবের তেল রপ্তানির সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা; যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের জেরে পাইপলাইনটির গুরুত্ব আরও বেড়ে গিয়েছিল। কারন হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ থাকার কারণে সেই পথ দিয়ে জ্বালানি পাঠানো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাওয়ায় এই পাইপলাইন দিয়েই সাগরে জাহাজ থেকে জাহাজ পদ্ধতিতে তেল রপ্তানি করে আসছিল সৌদি আরব।

এমন এক সময়ে এই হামলা করল হুথিরা, যখন হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় প্রায় প্রতিদিন বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম।

বিশ্বের যেসব দেশের ভূখণ্ডে জ্বালানি তেলের মজুত সবচেয়ে বেশি, সৌদি আরব তাদের মধ্যে অন্যতম। বিশ্বের মোট জ্বালানি চাহিদার একটি বড় অংশ একসময় আসত সৌদি থেকে। এখনও মোট বৈশ্বিক চাহিদার ৫ থেকে ৬ শতাংশ সরবরাহ করে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশটি।

সূত্র : রয়টার্স

এসএমডব্লিউ