তাপমাত্রা এবং স্পর্শের গবেষণা পেল চিকিৎসার নোবেল

Dhaka Post Desk

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৪ অক্টোবর ২০২১, ০৩:৩৯ পিএম


তাপমাত্রা এবং স্পর্শের গবেষণা পেল চিকিৎসার নোবেল

তাপমাত্রা এবং স্পর্শের জন্য রিসেপ্টর আবিষ্কারের গবেষণায় চিকিৎসাবিজ্ঞানে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন লেবানিজ বংশোদ্ভূত মার্কিন বিজ্ঞানী আর্ডেম পাতাপুতিয়ান ও মার্কিন বিজ্ঞানী ডেভিড জুলিয়াস। সোমবার বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৩ টার দিকে সুইডেনের ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট চিকিৎসা বিজ্ঞানে চলতি বছরের বিজয়ী হিসেবে তাদের নাম ঘোষণা করেছে।

পুরস্কারের ঘোষণায় নোবেল কমিটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমাদের তাপ, ঠান্ডা ও স্পর্শ অনুভব করার ক্ষমতা বেঁচে থাকা এবং চারপাশের বিশ্বের সাথে মিথস্ক্রিয়ার জন্য অপরিহার্য।

মানবদেহ কীভাবে স্নায়ুতন্ত্রের সাহায্যে স্পর্শের অনুভূতি এবং চাপ অনুভব করে; সেটি বোঝার জন্য রিসেপ্টর আবিষ্কারের গবেষণা করে এবারে চিকিসায় নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন আর্ডেম পাতাপুতিয়ান ও ডেভিড জুলিয়াস। নোবেল কমিটি বলেছে, আমরা দৈনন্দিন জীবনে তাপমাত্রা, স্পর্শের মতো অনুভূতি স্বাভাবিকভাবেই গ্রহণ করি। কিন্তু কীভাবে স্নায়ুতন্ত্র তাপমাত্রা এবং চাপ অনুভব করে; সেই প্রশ্নের সমাধান করেছেন চলতি বছরের নোবেল পুরস্কার বিজয়ীরা।

বিজ্ঞানী ডেভিড জুলিয়াস মরিচে পাওয়া ক্যাপসাইসিন ব্যবহার করে এক ধরনের সেন্সরের উপস্থিতি প্রমাণ করেছেন, যা তাপমাত্রার প্রতি সংবেদনশীল এবং মানবদেহে তাপমাত্রার অনুভূতি দেয়। এই সেন্সর বা রিসেপ্টর টিআরপিভি১ নামে পরিচিত। মানবদেহের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা, অঙ্গপ্রত্যঙ্গে ব্যথা এমনকি স্নায়বিক সমস্যার কারণে কোনও ব্যথা হলেও এই রিসেপ্টর শনাক্ত করে।

নোবেলজয়ী অপর বিজ্ঞানী আর্ডেম পাতাপুতিয়ান চাপ-সংবেদনশীল কোষ ব্যবহার করে এক ধরনের নতুন সেন্সর আবিষ্কার করেছেন; যা ত্বক এবং মানবদেহের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের উদ্দীপনায় সাড়া দেয়। তাদের এই যুগান্তকারী আবিষ্কারের ফলে ব্যাপক গবেষণা কার্যক্রম শুরু হয়েছে; যার ফলে স্নায়ুতন্ত্র কীভাবে তাপ, ঠান্ডা এবং যান্ত্রিক উদ্দীপনা অনুভব করে তা দ্রুত বুঝতে পারে।

মানবদেহের বিভিন্ন ধরনের শরীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় এসব সেন্সরের কাজ নিয়ে গবেষণা চলছে। এসব গবেষণার ওপর ভিত্তি করে বিজ্ঞানীরা দীর্ঘমেয়াদি ব্যথার সমস্যাসহ নানা রোগের চিকিৎসা আবিষ্কারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

বরাবরের মতো এবারও নোবেল পুরস্কারের ১ কোটি সুইডিশ ক্রোনার ভাগাভাগি করে নেবেন এ দুই বিজ্ঞানী। এর আগে, গত বছর হেপাটাইটিস সি ভাইরাস আবিষ্কারের গবেষণায় চিকিৎসা বিজ্ঞানে নোবেল পেয়েছিলেন মার্কিন বিজ্ঞানী হার্ভি জে অল্টার ও চার্লস রাইস এবং ব্রিটিশ বিজ্ঞানী মাইকেল হটন।

করোনা মহামারির কারণে গত বছরের মতো চলতি বছরও সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে ছোট আকারের অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে; গতবারের মতো সেই অনুষ্ঠানে আয়োজক কমিটির বাইরে অন্য কোনও অতিথি উপস্থিত ছিলেন না।

টেলিভিশন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নোবেল পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান সম্প্রচার করেছে নোবেল ফাউন্ডেশন। বিজয়ীদের প্রাপ্ত পদক ও সনদ পৌঁছে যাবে তারা যেসব দেশের নাগরিক, সেসব দেশের কূটনীতিকদের কাছে। বিজয়ীরা দেশে তাদের কাছ থেকে পদক ও সনদ সংগ্রহ করবেন।

প্রতি বছর শান্তি, সাহিত্য, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, চিকিৎসা ও অর্থনীতি— এই ৬ বিষয়ে যারা বিশেষ অবদান রেখেছেন; তাদের পুরস্কার প্রদান করে সুইডেনভিত্তিক নোবেল ফাউন্ডেশন। সোমবার থেকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত ২০২১ সালের নোবেল পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে।

পুরস্কার প্রদানের পর তা উদযাপনে উৎসবের আয়োজন করে নোবেল কমিটি। নোবেল কমিটির সদর দফতর নরওয়েতে। চলতি বছর নোবেল পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান অনলাইনে হলেও নোবেল কমিটির অনুষ্ঠানের আয়োজন হবে কি-না তা এখনও নিশ্চিত হয়নি। তবে গত সপ্তাহে এক বিবৃতিতে নোবেল ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হতে পারে।

উনবিংশ শতাব্দিতে সুইডিশ বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেল আবিষ্কার করেছিলেন ডিনামাইট নামের ব্যাপক বিধ্বংসী বিস্ফোরক; যা তাকে বিপুল পরিমাণ অর্থ-সম্পত্তির মালিক করে তোলে। মৃত্যুর আগে তিনি উইল করে যান— প্রতি বছর ৬টি বিষয়ে যারা বিশেষ আবদান রাখবেন; তাদের যেন এই অর্থ থেকে পুরস্কার প্রদান করা হয়। ১৯০১ সাল থেকে শুরু হয় নোবেল পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান। চলতি বছরে সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান শেষ হবে আগামী ১১ অক্টোবর।

আগামীকাল (মঙ্গলবার) পদার্থে, বুধবার রসায়নে, বৃহস্পতিবার সাহিত্যে চলতি বছরের নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে। এরপর শুক্রবার শান্তি এবং আগামী সোমবার (১১ অক্টোবর) অর্থনীতি বিজ্ঞানে এবারের নোবেল পুরস্কার জয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে।

এসএস

Link copied