করোনায় বিপর্যস্ত রাশিয়ায় পঞ্চম দিনের মতো মৃত্যুর রেকর্ড

Dhaka Post Desk

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৩ অক্টোবর ২০২১, ০৬:১১ পিএম


করোনায় বিপর্যস্ত রাশিয়ায় পঞ্চম দিনের মতো মৃত্যুর রেকর্ড

মহামারিতে ইউরোপে সবচেয়ে বিপর্যস্ত রাশিয়ায় টানা পঞ্চম দিনের মতো করোনাভাইরাসে প্রাণহানির রেকর্ড হয়েছে। দেশটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন রেকর্ড ১ হাজার ৭৫ জন।

টিকাদানের নাটকীয় কম হারে বিপর্যয়ের মুখোমুখি রাশিয়ায় আগামী সপ্তাহ থেকে লকডাউন জারির ঘোষণা দিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বারবার টিকা নেওয়ার আহ্বান এবং দেশীয় টিকা স্পুটনিক-৫ সহজলভ্য হওয়া সত্ত্বেও রাশিয়ার মাত্র ৩৬ শতাংশ মানুষকে পুরোপুরি টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।

গত কয়েক দিন ধরে দেশটিতে করোনায় দৈনিক মৃত্যুর রেকর্ড হচ্ছে। যে কারণে দেশজুড়ে এই ভাইরাসের ছড়িয়ে পড়া রোধে নতুন করে বিধি-নিষেধ আরোপের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

দেশটির সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, শনিবারও নতুন করে রেকর্ড ৩৭ হাজার ৬৭৮ জনের করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। রাশিয়ার সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মহামারির তীব্রতা নিয়ে লুকোচুরির অভিযোগ রয়েছে। দেশটিতে মহামারি শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত করোনায় মারা গেছেন ২ লাখ ২৯ হাজার ৫২৮ জন; যা ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।

কিন্তু পরিসংখ্যানবিষয়ক সংস্থা রোসট্যাট বলছে, গত আগস্টের শেষ পর্যন্ত রাশিয়ায় করোনায় ৪ লাখের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। 

রাশিয়ায় করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের উপকেন্দ্র হয়ে উঠেছে মস্কো। আগামী ২৮ অক্টোবর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত মস্কোতে সব ধরনের অপ্রয়োজনীয় সেবা বন্ধ থাকবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। গত মঙ্গলবার মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন গ্রীষ্মের পর প্রথমবারের মতো শহরটিতে করোনাভাইরাস বিধি-নিষেধ আরোপের আদেশ দেন।

তিনি বলেন, রাজধানী মস্কোতে বসবাসকারী টিকা না নেওয়া ষাটোর্ধ্ব বয়সী লোকজন বাড়ি থেকে কাজ করবেন। এছাড়া সেবা খাতের কর্মীদের টিকা নেওয়া বাধ্যতামূলক বলে জানিয়েছেন তিনি। আগামী সোমবার থেকে এসব আদেশ কার্যকর হবে এবং এক সপ্তাহ ধরে বলবৎ থাকবে।

মস্কোর এই মেয়র নিয়োগদাতাদের ৩০ শতাংশ কর্মীকে বাড়ি থেকে কাজ করার অনুমতি দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যদিকে, সংক্রমণের দ্রুত বিস্তার ঠেকাতে আগামী ৩০ অক্টোবর থেকে দেশজুড়ে ছুটির নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

সূত্র: এএফপি।

এসএস

Link copied