ডেল্টাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে ওমিক্রন: গবেষণা দক্ষিণ আফ্রিকার

Dhaka Post Desk

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০১ ডিসেম্বর ২০২১, ০৫:১৫ পিএম


ডেল্টাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে ওমিক্রন: গবেষণা দক্ষিণ আফ্রিকার

এতদিন পর্যন্ত করোনাভাইরাসের সবচেয়ে ছোঁয়াচে ও বিপজ্জনক ধরন বলে মনে করা হতো ডেল্টাকে। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার গবেষকরা জানিয়েছেন, মানুষকে আক্রান্ত করার ক্ষেত্রে ডেল্টাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে ভাইরাসটির নতুন রূপান্তরিত ধরন ওমিক্রন।

দক্ষিণ আফ্রিকার সংক্রামক রোগ গবেষণা সংস্থা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর কমিউনিকেবল ডিজিজেসের (এনআইসিডি) ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক আদ্রিয়ান পুরেন বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে এ সম্পর্কে বলেন, ‘এতদিন পর্যন্ত ডেল্টার কোনো প্রতিদ্বন্দ্বি ছিল না। তবে এবার মনে হয় ব্যাপারটি আর তেমন নেই। বিশেষ করে সংক্রমণ ক্ষমতার বিবেচনা যদি করা হয়, সেক্ষেত্রে সম্ভবত ডেল্টার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি হয়ে উঠবে ওমিক্রন।’

আন্তর্জাতিক জীবাণু বিশেষজ্ঞদের অনেকেরই শঙ্কা, মানবদেহের করোনা টিকার সুরক্ষাকে বেশ দক্ষভাবে ফাঁকি দিতে সক্ষম ওমিক্রন। পুরেন জানান, এই বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করছেন তারা এবং আশা করা হচ্ছে, আগামী ৪ সপ্তাহের মধ্যে তার ফলাফল পাওয়া যাবে।

২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতে প্রথম শনাক্ত হয় করোনাভাইরাসের রূপান্তরিত ধরন ডেল্টা, যা এখন পর্যন্ত ভাইরাসটির সবচেয়ে সংক্রামক ধরন হিসেবে স্বীকৃত। বিশ্বের সব দেশেই ডেল্টায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। ২০২১ সালে এ পর্যন্ত পৃথিবীর কয়েক লাখ মানুষ মারা গেছেন ডেল্টার সংক্রমণে।

অন্যদিকে, গত ২৪ নভেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম শনাক্ত হয় করোনার রূপান্তরিত ধরন ওমিক্রন। ইতোমধ্যে দেশটিতে এই ধরনে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৮৭ জন। আক্রান্ত এই রোগীদের অধিকাংশই দেশটির সবচেয়ে জনবহুল প্রদেশ গাউটেংয়ের।

এই রোগীদের চিকিৎসা করছেন এমন কয়েকজন চিকিৎসক রয়টার্সকে জানান, এখন পর্যন্ত তার ওমিক্রনে আক্রান্ত যত রোগীকে দেখেছেন, তাদের সবারই মৃদু উপসর্গ ছিল। এসব উপসর্গের মধ্যে শুকনো কাশি, জ্বর, রাত্রিকালীন ঘাম প্রভৃতি উল্লেখ করেছেন রোগীরা।

তবে এসব উপসর্গ দেখেই ধরনটির সম্পর্কে চুড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে আসার পক্ষপাতী নন বিশেষজ্ঞরা। আদ্রিয়ান পুরেন এ সম্পর্কে বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় ওমিক্রন ডেল্টাকে ছাপিয়ে করোনার প্রধান ধরন হয়ে উঠবে কি না- সে বিষয়ে মতামত দেওয়ার সময় এখনও আসেনি।

চলতি বছর জুলাই মাসের প্রথম দিকে করোনার তৃতীয় ঢেউ দেখেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ডেল্টার প্রভাবে সে সময় প্রতিদিন দেশটিতে নতুন আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা থাকত ২৬ হাজারেরও বেশি।

পরে অবশ্য ধীরে ধীরে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে সংক্রমণ। বর্তমানে দেশটিতে প্রতিদিন ১০ হাজার বা তার কিছু কম-বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন।

দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মহামারি শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন মোট ২৯ লাখ ৬৮ হাজার ৫২ জন এবং এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন মোট ৮৯ হাজার ৮৪৫ জন।

এসএমডব্লিউ

Link copied