সব নয়, কিছু ইমিউনিটি ফাঁকি দিতে পারে ওমিক্রন: দ. আফ্রিকা

Dhaka Post Desk

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০২ ডিসেম্বর ২০২১, ০৪:০১ পিএম


সব নয়, কিছু ইমিউনিটি ফাঁকি দিতে পারে ওমিক্রন: দ. আফ্রিকা

• দক্ষিণ আফ্রিকায় দ্রুত আধিপত্য বিস্তারকারী হয়ে উঠছে ওমিক্রন
• দেশটিতে দৈনিক করোনা সংক্রমণ দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে
• কিছু ইমিউনিটিকে ফাঁকি দেয় ওমিক্রন, বলছেন দ. আফ্রিকার বিজ্ঞানীরা
• ৩৬ জনের ওমিক্রন শনাক্ত হওয়ার পর উৎসব বাতিল

দক্ষিণ আফ্রিকার সর্বশেষ তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী, করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন কিছু ইমিউনিটিকে পরাস্ত করতে সক্ষম বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ভ্যাকসিনগুলো এখনও এই ভ্যারিয়েন্টের গুরুতর অসুস্থতার বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিতে পারে।

শনাক্ত হওয়ার চার সপ্তাহেরও কম সময়ে করোনাভাইরাসের ব্যাপক রূপান্তরিত এই ভ্যারিয়েন্ট দক্ষিণ আফ্রিকায় দ্রুত আধিপত্য বিস্তারকারী হয়ে উঠছে। প্রাথমিকভাবে করোনাভাইরাসের আগের সব ভ্যারিয়েন্টের তুলনায় ওমিক্রন আরও বেশি সংক্রামক হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের আতঙ্কে বিশ্বের আর্থিক বাজারে ঝাঁকুনি শুরু হয়েছে। নতুন এই ভ্যারিয়েন্টের কারণে ফের বিধি-নিষেধ জারি হওয়ায় প্রায় দুই বছর ধরে চলে আসা মহামারির অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার যে আশা তৈরি হয়েছিল তাতে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বুধবার দক্ষিণ আফ্রিকার সরকারি এক পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, দেশটির ৯টি প্রদেশের অন্তত ৫টিতে নতুন ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে এবং এটি এখন দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে থাকতে পারে বলে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার দেশটিতে ৪ হাজার ৩৭৩ জনের করোনা শনাক্ত হলেও বুধবার সেই সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে ৮ হাজার ৫৬১ জনে পৌঁছেছে।

তবে তাদের মধ্যে কতজনের ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে তা এখনও জানা যায়নি। পরীক্ষাকৃত সব নমুনার এখনও জিনোম সিকোয়েন্সিং করা হয়নি। তবে দেশটির সরকারি প্রতিবেদন বলছে, দেশে ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট ‘দ্রুত আধিপত্যশীল’ হয়ে উঠছে।

দক্ষিণ আফ্রিকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর কমিউনিকেবল ডিজিজেস (এনআইসিডি) বলছে, গত নভেম্বরে দেশটিতে ২৪৯টি জিনোম সিকোয়েন্স করা হয়েছে। এতে ৭৪ শতাংশেরই ওমিক্রন ধরা পড়েছে।

প্রতি সপ্তাহে সংগ্রহ করা সব নমুনার ছোট একটি অংশের জিনোম সিকোয়েন্স করা হয় দেশটিতে। তবে দক্ষিণ আফ্রিকায় এখন পর্যন্ত কতজনের ওমিক্রন সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে সে বিষয়ে এনআইসিডি কিছু জানায়নি।

ওমিক্রনের প্রোফাইল এবং মহামারিবিষয়ক আগাম তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে এই ভ্যারিয়েন্ট মানুষের শরীরের কিছু ইমিউনিটিকে ফাঁকি দিতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে বিদ্যমান ভ্যাকসিনগুলো এখনও এই ভ্যারিয়েন্টে গুরুতর অসুস্থতা অথবা মৃত্যুর বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেবে।

গত ২৪ নভেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম এই ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। গত ৮ নভেম্বর দেশটির সবচেয়ে জনবহুল প্রদেশ গোয়েটেং থেকে সংগৃহীত একটি নমুনায় ভ্যারিয়েন্টটি প্রথম পাওয়া যায়। এই প্রদেশের পাশেই জোহানেসবার্গ এবং প্রিটোরিয়া অবস্থিত।

এরপর থেকে দেশটির ইস্টার্ন কেপ, কাওয়াজুলু নাটাল, পুমালাঙ্গা এবং ওয়েস্টার্ন কেপে এই ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে।

দক্ষিণ আফ্রিকায় করোনার অতি-সংক্রামক ধরন ডেল্টার প্রকোপ গত জুলাইয়ে চূড়ায় পৌঁছায়। ওই সময় দেশটিতে দৈনিক ২৬ হাজারের বেশি মানুষের করোনা শনাক্ত হয়।

উৎসব বাতিল

দক্ষিণ আফ্রিকার পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলের ডারবানের উত্তরাঞ্চলের বালিটো এলাকায় তরুণদের এক সংগীত উৎসব শুরু হয়েছে। কিন্তু ওই এলাকায় ৩৬ জনের করোনা পজিটিভ হওয়ায় সেই উৎসব বাতিল করা হয়েছে।

উৎসব শুরুর প্রথম ৮ ঘণ্টার মধ্যে ৯৪০ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৩২ জন অতিথি এবং চারজন কর্মীর করোনা শনাক্ত হয়েছে। এই ৩৬ জন ওমিক্রন নাকি অন্য কোনো ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত তা জানা যায়নি।

মহামারি শুরু হওয়ার পর থেকে দক্ষিণ আফ্রিকায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০ লাখ মানুষের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে এবং মারা গেছেন ৮৯ হাজারের বেশি মানুষ; যা আফ্রিকা মহাদেশের মধ্যে একক কোনো দেশের হিসেবে সর্বোচ্চ।

সূত্র: রয়টার্স।

এসএস

Link copied