লজ্জায় উচ্চারণ করা দায়, গ্রামের নাম বদলের দাবি বাসিন্দাদের

Dhaka Post Desk

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৮ জানুয়ারি ২০২২, ০৩:১২ পিএম


লজ্জায় উচ্চারণ করা দায়, গ্রামের নাম বদলের দাবি বাসিন্দাদের

আমরা যেখানে জন্মগ্রহণ করি, সবসময় সেখানকার নাম গর্বের সঙ্গে উচ্চারণ করি। কিন্তু বিশ্বে এমন জায়গাও রয়েছে যেখানকার নাম স্থানীয় বাসিন্দারা উচ্চারণই করতে চান না। এমনই একটি গ্রাম রয়েছে ইউরোপের দেশ সুইডেনে। দেশটির সেই গ্রামের বাসিন্দারা, নিজেদের গ্রামের নাম উচ্চারণ করতে লজ্জা পান।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুইডেনের ওই গ্রামের বাসিন্দাদের কাছে তাদের গ্রামের নাম সমস্যার সৃষ্টি করেছে। তারা নিজেদের গ্রামের নাম অন্য কোথাও উচ্চারণ করতে পারেন না। এছাড়াও সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো- গ্রামবাসীরা তাদের গ্রামের নাম সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যবহারও করতে পারে না। সেন্সরশিপের জন্য সুইডেনের সেই গ্রামের বাসিন্দারা, তাদের গ্রামের নাম সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখতেও পারেন না।

আরেক সংবাদমাধ্যম ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুইডেনের ওই গ্রামের নাম ‘ফাক’ (Fucke)। অদ্ভূত নামের ওই গ্রামের বাসিন্দারা তাদের গ্রামের নাম পরিবর্তনের জন্য এক ক্যাম্পেইন শুরু করেছেন। এর আগে ২০০৭ সালে এমন আবেদন করেছিলেন ফাকবাই (Fjuckby) গ্রামের লোকেরা। কিন্তু সেই গ্রামের নাম বদলানো হয়নি।

Dhaka Post

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুইডেনের ফাক গ্রামের নামটি ঐতিহাসিক এবং ১৫৪৭ সালে এই নাম দেওয়া হয়েছিল। এর জন্য সুইডেনের জাতীয় ল্যান্ড সার্ভে ডিপার্টমেন্ট সেই গ্রামের নাম পরিবর্তন করতে সমস্যায় পড়েছে। কিন্তু সেই গ্রামের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, যতদিন তাদের গ্রামের নাম পরিবর্তন করা হবে না ততদিন তাদের এই ক্যাম্পেইন চলবে। গ্রামের মোট ১১টি বাড়ির বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ‘ফাক’ নাম বলতে তাদের লজ্জা লাগে।

স্থানীয় এক টিভি চ্যানেলের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ওই গ্রামের এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, তাদের গ্রামটি খুবই ভালো ও শান্ত। গ্রামের সকলেই এখানে থাকতে পেরে খুব খুশি। কিন্তু এরপরও তারা গ্রামের নাম বদলাতে চান।

কারণ হিসেবে ওই বাসিন্দা সোশ্যাল মিডিয়ার সেন্সরশিপের কথা বলেন। তার দাবি, কেবল নামের কারণে তাদের সুন্দর গ্রামকে আপত্তিজনক ও অশালীন মনে হয়। ফলে তারা তাদের গ্রামের নাম সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যবহারও করতে পারে না।

অবশ্য সুইডেনে কোনো গ্রাম বা এলাকার নাম বদল করাটা বেশ জটিল। সুইডেনে কোনো গ্রামের নাম বদলানোর জন্য সেখানকার জাতীয় ল্যান্ড সার্ভে ডিপার্টমেন্ট, ন্যাশনাল হেরিটেজ বোর্ড এবং লোক-কথার মাধ্যমে সম্মিলিত ভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকে।

এছাড়া কোনো এলাকার নাম বদল করার আগে সেখানকার ইতিহাস সম্পর্কে বিবেচনা করা হয়। আর এখানেই হতে পারে সমস্যা। কারণ সুইডেনের ওই গ্রামের নামের একটি ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে, তাই সহজেই বদলানো যাবে না নামটি। যদিও নিজেদের দাবি থেকে পিছু হটছেন না গ্রামবাসীও!

টিএম

Link copied