তসলিমা নাসরিনকে ‌‘মৃত’ বলছে ফেসবুক

Dhaka Post Desk

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৮ জানুয়ারি ২০২২, ০৫:২১ পিএম


তসলিমা নাসরিনকে ‌‘মৃত’ বলছে ফেসবুক

নিজের মৃত্যুর খবর যেন চারদিকে ছড়িয়ে দেওয়া হয় এমন চাওয়ার কথা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন ভারতে বসবাসরত বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিন। সেই পোস্টের ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই তাকে ‘মৃত’ দেখাচ্ছে ফেসবুক!

মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টার দিকে নির্বাসিত এই লেখিকার ভেরিফায়েড আইডিতে ঢুকে দেখা যায়, ফেসবুক কর্তৃপক্ষ তাকে মৃত হিসেবে দেখাচ্ছে। তবে বাংলাদেশি এই নির্বাসিত লেখিকা আদৌ মারা গেছেন কি না তা এখনো জানা যায়নি।

‘রিমেম্বারিং তসলিমা নাসরিন’ ট্যাগ যুক্ত করে ফেসবুক তার প্রোফাইলে লিখেছে, আমরা আশা করি যারা তসলিমা নাসরিনকে ভালোবাসেন, তারা তাকে স্মরণ ও সম্মানিত করার জন্য তার প্রোফাইল পরিদর্শন করে সান্ত্বনা খুঁজে পাবেন।

সাধারণত কেউ মারা গেলে মৃত ব্যক্তির আইডি মুছে না দিয়ে স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য আইডি ‘রিমেম্বারিং’ করে রাখে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। এতে তার প্রোফাইলে অন্য কেউ আর লগইন করতে পারেন না।

তবে মৃত কারও অ্যাকাউন্ট রিমেম্বারিং করার ক্ষেত্রে ফেসবুক বন্ধুদের এই লিংকে প্রবেশ করে একটি ফরম পূরণ করে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হয়। যথাযথ প্রমাণ পাওয়ার পর সেই অ্যাকাউন্ট রিমেম্বারিং করে দেয় ফেসবুক। এর ফলে রিমেম্বারিং অ্যাকাউন্টে অন্য কেউ লগইন, এমনকি পাসওয়ার্ড হ্যাক করেও অ্যাকসেস নিতে পারবেন না।

এর আগে, সোমবার বাংলাদেশি নির্বাসিত এই লেখিকা তার মৃত্যুর সংবাদ যেন ছড়িয়ে দেওয়া হয়, সেই আকুতি জানিয়ে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন।

dhakapost
অর্থপূর্ণ মৃত্যু চেয়ে তসলিমা নাসরিনের করা ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট

অর্থপূর্ণ মৃত্যু চেয়ে তসলিমার ফেসবুক পোস্ট

আমি চাই আমার মৃত্যুর খবর প্রচার হোক চারদিকে। প্রচার হোক যে আমি আমার মরণোত্তর দেহ দান করেছি হাসপাতালে, বিজ্ঞান গবেষণার কাজে। কিছু অঙ্গ প্রতিস্থাপনে কারও জীবন বাঁচুক। কারও চোখ আলো পাক। প্রচার হোক, কিছু মানুষও যেন প্রেরণা পায় মরণোত্তর দেহ দানে।

অনেকে কবর হোক চান, পুড়ে যাক চান, কেউ কেউ চান তাদের শরীরের পোড়া ছাই প্রিয় কোনো জায়গায় যেন ছড়িয়ে দেওয়া হয়। কেউ কেউ আশা করেন, তাদের দেহ মমি করে রাখা হোক। কেউ আবার বরফে ডুবিয়ে রাখতে চান, যদি ভবিষ্যতে প্রাণ দেওয়ার পদ্ধতি আবিষ্কার হয়!

অসুখ-বিসুখে আমি আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের ওপর নির্ভর করি এবং জীবনের শেষদিন পর্যন্ত করবো। কোনো প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতিতে আমার বিন্দুমাত্র বিশ্বাস নেই, ঠিক যেমন বিশ্বাস নেই কোনো কুসংস্কারে। জীবনের একটি মুহূর্তেরও মূল্য অনেক। তাই কোনো মুহূর্তই হেলায় হারাতে চাই না।

মরার পর আমরা কিন্তু কোথাও যাই না। পরকাল বলে কিছু নেই। পুনর্জন্ম বলে কিছু নেই। মৃত্যুতেই জীবনের সমাপ্তি। আমার জীবন আমি সারাজীবন অর্থপূর্ণ করতে চেয়েছি। মৃত্যুটাও চাই অর্থপূর্ণ হোক।

এসএস

Link copied