সুনামির আঘাতে টোঙ্গায় ‘নজিরবিহীন বিপর্যয়’

Dhaka Post Desk

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৮ জানুয়ারি ২০২২, ০৭:৪২ পিএম


সুনামির আঘাতে টোঙ্গায় ‘নজিরবিহীন বিপর্যয়’

প্রশান্ত মহাসাগরে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের পর সুনামির আঘাত দ্বীপরাষ্ট্র টোঙ্গায় ‘নজিরবিহীন বিপর্যয়’ সৃষ্টি করেছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। তিন দিন আগে (শনিবার) প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশের আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ও সুনামির আঘাতের পর প্রথমবারের মতো মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে টোঙ্গা।

গত বৃহস্পতিবার (১৩ জানুয়ারি) থেকে সক্রিয় হওয়া শুরু করে টোঙ্গার আগ্নেয় পর্বত হুঙ্গা টোঙ্গা-হুঙ্গা হাপেই। শনিবার থেকে শুরু হয় লাভা, গ্যাস ও ছাইয়ের উদ্গীরণ। আগ্নেয়গিরির সক্রিয় হয়ে ওঠা এবং এর ফলে সৃষ্ট ভূমিকম্পের প্রভাবে সাগরে সুনামি দেখা দেয়, যার ফলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা ও জলোচ্ছাসে টোঙ্গার প্রায় সব দ্বীপ ভয়াবহ দুর্যোগের মধ্যে পড়ে।

সোমবার জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে অগ্ন্যুৎপাত ও সুনামি বিধ্বস্ত টোঙ্গার কিছু স্যাটেলাইট ইমেজ প্রকাশিত হয়। সেসব ছবিতে দেখা যায়, টোঙ্গার নমুকা, কোলোমোতুয়া, টোঙ্গাটাপু, ফাফা ও কোলোফৌ দ্বীপ সম্পূর্ণ ঢেকে গেছে আগ্নেয় ছাইয়ের পুরু স্তরে। গাছ-পালা, শহর, গ্রাম- কোনো কিছুই আর আলাদা করে চেনা যাচ্ছে না ছাইয়ের স্তরের কারণে।

dhakapost
স্যাটেলাইট চিত্রে টোঙ্গার আগ্নেয় পর্বত হুঙ্গা টোঙ্গা-হুঙ্গা হাপেইর অগ্নুৎপাত

সুনামিতে দু’জন স্থানীয় বাসিন্দা এবং একজন ব্রিটিশ নাগরিক মারা গেছেন বলে টোঙ্গার সরকারের বিবৃতিতে নিশ্চিত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কিছু ছোট দূরবর্তী দ্বীপ বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার একটিতে সব বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে এবং অন্যটিতে মাত্র দু’টি বাড়ি অক্ষত আছে।

আগ্নেয়গিরি থেকে ছাই উদগীরণ অব্যাহত থাকায় ত্রাণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। স্বেচ্ছাসেবকরা দেশটির প্রধান বিমানবন্দরের রানওয়ে পরিষ্কার করছেন; যাতে বাইরে থেকে আসা সব বিমান কোনও ধরনের ঝামেলা ছাড়াই অত্যন্ত প্রয়োজনীয় পানীয় এবং ত্রাণ সহায়তা সরবরাহ করতে পারে।

অগ্নুৎপাতের কারণে সাগরের তলদেশের একমাত্র ক্যাবল সংযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাইরের দুনিয়ার সঙ্গে টোঙ্গার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। 

হালনাগাদ তথ্যে টোঙ্গার সরকার বলছে, ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন আছে। তবে স্থানীয় কিছু টেলিফোন সেবা সচল হয়েছে। পুরো যোগাযোগব্যবস্থা পুনরায় সচল করার কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে: 

• সুনামিতে ৬৫ বছরের এক নারী, ৪৯ বছরের এক পুরুষ এবং অ্যাঞ্জেলা গ্লোভার নামের একজন ব্রিটিশ নারী নিহত হয়েছেন। আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে

• প্রধান দ্বীপ টোঙ্গাতাপুতে কয়েক ডজন বাড়িঘরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে

•  সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দ্বীপগুলো থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলমান আছে

• আগ্নেয়গিরির ছাইয়ের কারণে পানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে

• অনেক ফ্লাইটের চলাচল সাময়িক স্থগিত রাখা হয়েছে। সমুদ্র পরিবহন রুটেও চলাচল ব্যাহত হয়েছে

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলেছে, যোগাযোগ নেটওয়ার্ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তাদের স্থানীয় একজন কর্মকর্তা জাতিসংঘের এই সংস্থা এবং টোঙ্গার সরকারের মধ্যে একটি স্যাটেলাইট ফোন ব্যবহার করে তথ্য সরবরাহ করছেন।

শনিবারের অগ্নুৎপাত এবং সুনামির আঘাতের পর দেশে স্বজনরা কী অবস্থায় আছেন, তা জানার জন্য বিদেশে অনেক টোঙ্গান অধীর অপেক্ষা করছেন।

এদিকে, জাতিসংঘ বলছে, ত্রাণ সহায়তা আসা শুরু হলে তারা টোঙ্গায় কোভিড-মুক্ত অবস্থা বজায় রাখার চেষ্টা করবে। তবে ত্রাণ সরবরাহের মাধ্যমে দেশটিতে করোনা ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন টোঙ্গার কর্মকর্তারা। কারণ বিশ্বজুড়ে মহামারির তাণ্ডব চললেও দেশটিতে গত অক্টোবরে প্রথমবারের মতো মাত্র একজনের করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।

ফরাসি বার্তাসংস্থা এএফপিকে জাতিসংঘের মুখপাত্র জেনস ল্যায়ারক বলেছেন, মানবিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রথম নীতি হলো কারও কোনও ক্ষতি নয়। তাই দেশে ঢোকার সময় প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রোটোকল যাতে মানা হয়, আমরা সেটি নিশ্চিত করতে চাই।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় এই দেশটিতে আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতের প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে হাজার মাইল দূরের যুক্তরাষ্ট্র, নিউজিল্যান্ডেও। এছাড়া টোঙ্গায় সমুদ্রের তলদেশে অগ্নুৎপাতের কারণে পেরুর রাজধানী লিমার কাছের সমুদ্র সৈকতেও হঠাৎ অস্বাভাবিক পানির ঢেউয়ের তোড়ে দু’জন ভেসে গেছেন।

সূত্র: বিবিসি, এএফপি।

এসএস

Link copied