দ. আফ্রিকায় সিংহের তীব্র করোনা, নতুন ভ্যারিয়েন্টের শঙ্কা

Dhaka Post Desk

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৯ জানুয়ারি ২০২২, ০১:৩৭ পিএম


দ. আফ্রিকায় সিংহের তীব্র করোনা, নতুন ভ্যারিয়েন্টের শঙ্কা

দক্ষিণ আফ্রিকার রাজধানী প্রিটোরিয়ার একটি চিড়িয়াখানায় কয়েকটি সিংহ এবং বনবিড়ালের তীব্র কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে। এসব প্রাণী করোনায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায় দেশটিতে নতুন ভ্যারিয়েন্টের জন্ম হতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীরা।

চিড়িয়াখানার অ্যাসিম্পটোমেটিক কর্মীদের মাধ্যমে এসব প্রাণীর দেহে গুরুতর কোভিড-১৯ ছড়িয়েছে। দেশটির স্থানীয় একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় বলা হয়েছে, এই রোগের প্রাণী আধার থেকে নতুন ভ্যারিয়েন্ট আবির্ভূত হতে পারে।

এর আগে, ২০২০ সালের এক গবেষণায় দেশটিতে ডায়রিয়া, সর্দি এবং ক্ষুধামন্দায় অসুস্থ হয়ে পড়া দু’টি বনবিড়ালের মল পরীক্ষায় দেখা যায়, বিড়াল দু’টি কোভিড-১৯ আক্রান্ত। করোনা শনাক্ত হওয়ার পর পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে সময় লেগেছিল ২৩ দিন।

এর এক বছর পর দক্ষিণ আফ্রিকায় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের প্রাদুর্ভাবে শুরু হওয়া তৃতীয় ঢেউয়ের সময় তিনটি সিংহের করোনা পরীক্ষার ফল পজিটিভ এসেছে। এই তিন সিংহের মধ্যে একটির নিউমোনিয়া ছিল।

প্রাণী থেকে মানুষের দেহে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আধিপত্যশীল যে তত্ত্ব রয়েছে সেটির উল্টো ঘটনাও ঘটতে পারে বলে গবেষকরা বলেছেন। তথ্য-উপাত্তে দেখা গেছে, চিড়িখানায় সিংহ তিনটি অসুস্থ হয়ে পড়ার সময়ই সেখানে পশুপাখির দেখভালের দায়িত্বে থাকা কর্মীদের মধ্যে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে।

পরে তাদের মাধ্যমে চিড়িয়াখানার একটি সিংহের দেহে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটে। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ইউনিভার্সিটি অব প্রিটোরিয়ার গবেষকরা বলছেন, এর ফলে ভাইরাসটি প্রাণীর দেহে মিউটেশন ঘটিয়ে মানবদেহে পুনরায় সংক্রমণ ঘটাতে পারে।

সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের জন্য চিড়িখানায় বন্দী প্রাণী দেখভালের সময় মাস্ক পরার পাশাপাশি এমন প্রতিবন্ধকতা তৈরির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে; যাতে দর্শনার্থীরা পশুপাখির কাছে যেতে না পারেন। বিবৃতিতে প্রিটোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই অধ্যাপক মারিয়েৎজি ভেন্টার এবং কাৎজা কোয়েপ্পেল বলেছেন, এটি বিপন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণীর অসুস্থ হয়ে পড়া এবং প্রাণহানি ঠেকাবে।

গবেষকরা বলছেন, এসব পদক্ষেপ অবশ্য গুরুত্বপূর্ণ; কারণ ভাইরাসটি অন্যান্য প্রাণীর দেহে আধার হিসেবে জায়গা করে নিলে সেখানে নতুন নতুন ভ্যারিয়েন্টের জন্ম হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এসব ভ্যারিয়েন্ট প্রাণী থেকে মানবদেহে সংক্রমণ ঘটাতে পারে।

মহামারি শুরু হওয়ার পর ইউরোপের কিছু দেশে বেজি জাতীয় আধা জলজ প্রাণী ‘মিঙ্ক’ করোনায় আক্রান্ত হয়েছিল। ডেনমার্কে প্রথম এই প্রাণীর দেহে করোনা শনাক্ত হয়। পরে সেখানে হাজার হাজার মিঙ্ক মেরে ফেলা হয়।

মঙ্গলবার হংকংয়ে হ্যামস্টারসহ প্রায় ২ হাজার ইঁদুর মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, ছোট এই প্রাণীর মাধ্যমে হংকংয়ে করোনা ছড়িয়ে পড়ায় মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সূত্র: ব্লুমবার্গ।

এসএস

Link copied