ব্যারিস্টার দম্পতি এখন অস্ট্রেলিয়ান কোর্টের আইনজীবী

Mahidi Hasan Dalim

০৬ মার্চ ২০২২, ০৮:৫৪ এএম


মায়িশা ইসলাম ধূসরিমা ও মোহান্নাদ এফ ভূইয়া রোমিও। ব্যারিস্টার দম্পতি। ধূসরিমা আইনপেশার পাশাপাশি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের এইচ আর ডিপার্টমেন্টে লিগ্যালের সিনিয়র ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত। অন্যদিকে রোমিও শপ-আপ মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির লিগ্যাল স্পেশালিস্ট। এছাড়া লন্ডন কলেজ অব লিগ্যাল স্টাডিজের (সাউথ) আইন বিভাগে শিক্ষকতা করছেন। চিকিৎসক বাবার মেয়ে ধূসরিমা মাস্টার মাইন্ড স্কুল থেকে ‘ও’ লেভেল, ‘এ’ লেভেল পাস করেন। ব্যারিস্টার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ভর্তি হন ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের অধীনে লন্ডন কলেজ অব লিগ্যাল স্টাডিজে।

অন্যদিকে ব্যারিস্টারি পড়ার স্বপ্ন নিয়ে একই প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হন রোমিও। সেখানে আইন পড়তে গিয়ে দুজনের পরিচয়। পরিচয় থেকে ভালোলাগা-ভালোবাসা। তারপর বিয়ে। স্বামী-স্ত্রী দুজনই ইংল্যান্ডের লিংকন্স ইন থেকে ব্যারিস্টারি ডিগ্রি নিয়েছেন। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন। ভবিষ্যতে দুই দেশেই আইন প্র্যাকটিস করতে চান এ ব্যারিস্টার দম্পতি। তারা তাদের জীবনের গল্প বলেছেন ঢাকা পোস্টের কাছে। ঢাকা পোস্টের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ব্যারিস্টার দম্পতির গল্প তুলে ধরেছেন পাঠকের কাছে।

সোনালী দিনগুলোর গল্প

মায়িশা ইসলাম ধূসরিমা : আমাদের গ্রামের বাড়ি রংপুরে হলেও আমার জন্ম ঢাকাতে। আমার বাবা প্রফেসর ডা. তাজুল ইসলাম। এখন তিনি আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালের প্রফেসর। রেডিওলজি এবং ইমাজিং বিভাগের প্রধান তিনি। মা গৃহিণী। ছোট বেলা ধানমন্ডিতে কেটেছে। ছোট বেলা থেকে সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে বড় হয়েছি। অনেক ছোট বেলা থেকেই বাবা বাসায় গানের টিচার রেখে দিয়েছিলেন। বাবাই আমাকে গানে ইনভলব করেছেন। রেজোয়ানা চৌধুরী বন্যার সুরের ধারা স্কুলে ভর্তি হয়েছিলাম। ভায়োলিনেরও আমি কোর্স করেছিলাম। পিয়ানোটা আমি নিজে নিজে ঘরে বসে শিখেছি। আমরা দুই বোন। ছোট বোন বনান্ত। আর্কিটেকচারে অস্ট্রেলিয়াতে পড়ছেন। ক্লাস ওয়ান থেকে এ লেভেল পর্যন্ত মাস্টার মাইন্ডে পড়েছি। মাস্টার মাইন্ড থেকে এ লেভেল শেষ করে ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের অধীনে এলসিএলসে আইনে ভর্তি হই। এলসিএলএস থেকে এলএলবি কমপ্লিট করি। তারপর ২০১৫ সালে বার অ্যাট ল’ করতে লন্ডন গেলাম। ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্ট অব ইংল্যান্ডে বিস্টল থেকে বিপিটিসি কোর্স শেষ করি। ২০১৬ সালে বার অ্যাট ল’ শেষ করে দেশে আসি। বাংলাদেশে এসে চেম্বারে প্র্যাকটিস শুরু করি। 

মোহান্নাদ এফ ভূইয়া রোমিও : এই ঢাকা শহরেই আমার  জন্ম। শৈশব ঢাকা শহরেই কেটেছে। বাবা মো. ফখরুদ্দিন ভূঁইয়া। পেশায় ইঞ্জিনিয়ার। মা রহিমা আফরোজ। তিনি একজন আর্টিস্ট। বড় ভাই অমিও ফিল্ম মেকার। লরিটো নামে একটি স্কুলে ও-লেভেল, এ-লেভেল শেষ করে এলসিএলএসে ভর্তি হই। ২০১৩ সালে এলএলবি শেষ করি। তারপর বার অ্যাট ল করতে ইংল্যান্ডে চলে যাই। ইংল্যান্ডের বিস্টল ইউনিভার্সিটি থেকে বার প্রফেশনাল কোর্স শেষ করি। ২০১৪ সালে লিংকনস ইন থেকে কল টু দ্যা বার নিয়ে দেশে ফিরে আসি। দেশে এসে লন্ডন কলেজ অব লিগ্যাল স্টাডিজে (সাউথ) লেকচারার হিসেবে জয়েন করি। সঙ্গে খালেদ হামিদ চৌধুরী স্যারের চেম্বারে আইন প্র্যাকটিস শুরু করি। তার কিছুদিন পর ব্যারিস্টার আসিফ বিন আনোয়ার স্যারের চেম্বারে জয়েন করি।

dhakapost
ব্যারিস্টারি ডিগ্রি নেওয়ার দিনে লন্ডনে

আইন পড়ার গল্পটা শুনতে চাই…

মায়িশা ইসলাম ধূসরিমা: যেহেতু  বাবা ডাক্তার, সেহেতু ন্যাচারালি ও-লেভেল পর্যন্ত ইচ্ছে ছিল ডাক্তারি পড়বো।   ও-লেভেলের পরে বাবা বললেন, তোমার যে ডাক্তার হতেই হবে এটা কিন্তু বাধ্যতামূলক না। অনেকেই আশা করে ছেলে-মেয়েরা তার (বাবার) পেশায় আসবে। কিন্তু আমার কোনো এক্সপেকটেশন নেই। তুমি চাইলে অন্য কোনো পেশা চুজ করতে পার। বাবা বললেন, মেডিকেলে অনেক কষ্ট করতে হয়। অনেক স্ট্রাগল।  তিনি চান না আমি তার মত কষ্ট করি। তখন আমি ভাবলাম আর কি পেশা আছে।   আমার পারসোনালিটির সঙ্গে কোনটা যায়। এ সময় ল, প্রফেশনটা আমার কাছে আকর্ষণীয় মনে হলো। মানুষ হিসেবে আমি কম কথা বলি। তবে আমি চেষ্টা করি লজিক্যালি কথা বলতে। তখন ভাবলাম আমি তো  ল’ পড়তে পারি। বাবার সঙ্গে শেয়ার করলাম বিষয়টা। বাবা বললেন, তুমি যদি ব্যারিস্টার হতে পার এর থেকে গর্বের বিষয় তো আমার কাছে কিছু হতে পারে না।  তখন এ লেভেলে ল’ সাবজেক্ট নিলাম। এভাবে ল’ পড়ার জার্নিটা আমার শুরু।

মোহান্নাদ এফ ভূইয়া রোমিও : আমি যখন স্কুলে ছিলাম তখন ডিবেটিং করতে বেশ ভালো লাগতো। ডিবেট করাটা আমি খুব ইনজয় করতাম। আমার বাবার ইচ্ছে ছিল আমি যেন ব্যারিস্টারি পড়ি। আমি চিন্তা করলাম যেহেতু আমার ডিবেট করতে ভালোই লাগে সেহেতু আমি ল’ইয়ার হতে পারি। এ জিনিসটা মাথায় রেখে আইনে ভর্তি হই। প্রথম থেকে আইন পড়া আমি ইনজয় করেছি।

অস্ট্রেলিয়া কোর্টে আইনজীবী হওয়ার গল্প যেভাবে শুরু

মায়িশা ইসলাম ধূসরিমা-মোহান্নাদ এফ ভূঁইয়া রোমিও : ২০১৮ সালের আগস্ট মাসে অস্ট্রেলিয়ার লিগ্যাল প্রফেশন এডমিশন বোর্ডে আবেদন করি। আবেদন করার দুই মাসের মধ্যে বোর্ড রিপ্লাই দেয়। আমাদের ব্যারিস্টারি ডিগ্রি কাউন্ট করে টোটাল ৫টা সাবজেক্ট করতে বলে। তখন আমরা ভাবলাম ৫টা সাবজেক্ট যেহেতু, তাহলে করেই ফেলি। কোনো অসুবিধা নাই। তখন আরেকটা কনফিউশন ছিল আমরা অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে পড়বো নাকি দেশ থেকেই পড়বো। দেশ থেকে পড়ার যে একটা অপশন আছে সেটা আমরা জানতাম না। অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে পড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। আমরা চার-পাঁচটা ইউনিভার্সিটিতে মেইল করাতে একটা ইউনিভার্সিটি  আমাদের ইমেইল করে জানালো তোমরা ডিসটেন্স লার্নিং এ অনলাইনে পড়তে পারবা।  তখন আমরা চিন্তা করলাম যেহেতু ডিসটেন্স লার্নিং এ করতে পারব যেহেতু আমরা বাংলাদেশ থেকেই করে ফেলি।

তারপর কমপ্লিটলি অনলাইনেই পড়াশুনা করলাম। পাঁচটা সাবজেক্ট আমরা দেড় বছরের মধ্যে জাস্ট প্যানডেমিকটা শুরু হওয়ার আগেই করে ফেললাম। এনএসডব্লিউ আমাদের ল’ইয়ার হিসেবে এনরোলমেন্ট দিল। উই আর ল’ইয়ার অব সুপ্রিম কোর্ট অব এনএসডব্লিউ। নিউ সাউথ ওয়েলস অস্ট্রেলিয়া। ওদের পাঁচটা স্টেটের মধ্যে একটা হলো নিউ সাউথ ওয়েলস। ওই স্টেটের ল’ইয়ার হিসেবে আমরা এনরোল হলাম। ওই কোর্টে আমরা প্র্যাকটিস করতে পারব ডেফিনিটলি। সলিসিটর হিসেবে মেম্বরশিপ নিতে হয় অ্যাসোসিয়েশনের। সেই অ্যাসোসিয়েশনের মেম্বরশিপ আমরা এখন পর্যন্ত নেইনি। অস্ট্রেলিয়া গিয়ে আবেদন করে একটা ফি দিলে মেম্বরশিপটা পেয়ে যাব। প্র্যাকটিস করতে চাইলে একটা চেম্বারের সঙ্গে নিযুক্ত হয়ে প্র্যাকটিস করতে হবে। ওটাকে ওরা সুপার-ভাইস প্র্যাকটিস বলে। ব্যারিস্টারি ডিগ্রিটা কাউন্ট করার ফলে আমরা এত তাড়াতাড়ি অস্ট্রেলিয়ার ডিগ্রিটা অর্জন করতে পেরেছি।

dhakapost
ঢাকা পোস্টের প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে ব্যারিস্টার দম্পতি

দু’জনের পরিচয়, ভালোবাসা-বিয়ে

মায়িশা ইসলাম ধূসরিমা : লন্ডন কলেজ অব লিগ্যাল স্টাডিজ সাউথে (এলসিএলস) দু’জনের পরিচয়। আমরা ব্যাচ-মেট ছিলাম। রোমিওকে প্রথম ক্লাসমেট হিসেবেই দেখতাম। সেভাবে পরিচয় ছিল না। আমি একটা গ্রুপের সঙ্গে এলসিএলএসে ভর্তি হয়েছিলাম। সেই গ্রুপের সঙ্গেই থাকতাম সব সময়। রোমিও এলসিএলএসের অন্য গ্রুপের সঙ্গেই ছিল। রোমিও ক্লাসের শিক্ষকদের প্রতিনিধি ছিল।  একদিন সে আমার ইমেইল নম্বর নিতে আসে। সেদিন প্রথম কথা শুরু হয়। তারপর ফেসবুকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠালো। এভাবে আস্তে আস্তে কথাবার্তা শুরু হলো। কথা বার্তা চলতে চলতে তারপর ভালোবাসা।  

মোহান্নাদ এফ ভূইয়া রোমিও : স্যার আমাকে বলেছিলেন ক্লাসের সবার ইমেইলে নিয়ে একটা গ্রুপ করতে। ইমেইল এড্রেস নিতে গিয়ে  ধূসরিমার সঙ্গে পরিচয়। তখন  আমরা একসাথে চলাফেরা শুরু করি। আমরা দুজনই সময় নিচ্ছিলাম। কথা বলতে বলতে একদিন রাতে আমি রিয়ালাইজ করলাম তাকে যে ভালোবাসি এটা জানানো উচিত। সেদিন রাতের বেলা আমি তার সঙ্গে ফোনে কথা বলছি। কথা বলতে বলতে এক পর্যায়ে তাকে থামিয়ে দিয়ে বললাম আমি তোমাকে ভালোবাসি। পর মুহূর্তেই ধূসরিমাও বললো আমিও তোমাকে ভালোবাসি। ২০১৬ সালে আমাদের বিয়ে হয়।

dhakapost

রোমিওর চোখে ধূসরিমা কেন সেরা

ধূসরিমা ট্যালেন্ট ও আমার গাইড ইন ফোর্স। সে একজন মিউজিসিয়ান। পিয়ানো বাজান সুন্দর করে। অনেক ছোটকাল থেকেই গানের চর্চা করে আসছেন। ভায়োলিন বাজাতে জানেন। তার মিউজিকে দক্ষতা অনেক বেশি। সুস্বাদু রান্নাও করেন। আমি বলবো এটা তার হিডেন ট্যালেন্ট।

ধূসরিমার চোখে রোমিও কেন সেরা

রোমিও নামটার জন্য সে অনেক পরিচিত। তার ব্যাপারটা শুধু আমার বলতে হবে না। আমাদের লিগ্যাল ফ্যাটানিটির সবাই জানে। এলসিএলএসের প্রত্যেকটা অনুষ্ঠানে তার ব্রেক ড্যান্স থাকা চাই। স্টুডেন্ট বলেন, টিচার বলেন সবাই জানে রোমিও যে ব্রেক ড্যান্স করেন, এ ড্যান্স সাধারণত সবাই পারে না। সে এটাতে আবার অনেক দক্ষ। ইভেন এখনও যদি এলসিএলএসে কোনো প্রোগ্রাম হয় সবাই বলে রোমিওর নাচ দেখতে চাই। তার ড্যান্সিং স্কিলের ব্যাপারে সবাই জানে। এটা তার একটা স্পেশালিটি।

দেশে এখন কি কাজ করছেন?

মায়িশা ইসলাম ধূসরিমা: ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে এইচ আর ডিপার্টমেন্টের লিগ্যালের সিনিয়র ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছি। এখন তো অ্যাডভোকেট হয়েছি। আমার অফকোর্স কিছু ক্লায়েন্ট আছে। ক্লায়েন্টদেরও ডিল করি। আসিফ বিন আনোয়ার স্যারের চেম্বারেও কাজ করে আসছি। বলতে পারেন এ মুহূর্তে আমরা এক্সপেরিয়ান্স গেদার করছি। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ এবং অস্ট্রেলিয়া দুই দেশ মিলেই আইন প্র্যাকটিস করব।

মোহান্নাদ এফ ভূইয়া রোমিও : শপ-আপ মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির লিগ্যাল স্পেশালিস্ট হিসেবে কাজ করছি। আমার পদ হচ্ছে লিগ্যাল অ্যান্ড কমপ্লাইন্স স্পেশালিস্ট। আর ব্যারিস্টারি পাস করে দেশে আসার পর থেকে লন্ডন কলেজ অব লিগ্যাল স্টাডিজে (এলসিএলএসে) শিক্ষকতা করছি।

স্মরণীয় ঘটনা…

মায়িশা ইসলাম ধূসরিমা : ‘কল টু দ্যা বার’ আমার জীবনের স্মরণীয় ঘটনা। আমার ফুল ফ্যামিলিকে সেখানে নিয়ে গিয়েছিলাম। ওইদিন আমার বাবার চেহারায় যে খুশির ভাবটা দেখেছি এটা আমার জন্য বড় পাওয়া। এছাড়া ইংল্যান্ডের বিস্টল ইউনিভার্সিটির  গ্রাজুয়েশন সনদ আমি ও রোমিও একসঙ্গে নিয়েছি, এটাও আমার জীবনের স্মরণীয় ঘটনা।

যারা আইন পড়তে চান তাদের জন্য পরামর্শ…

মায়িশা ইসলাম ধূসরিমা : যখন আমাকে জিজ্ঞেস করা হয়, আমি আইন পেশাকে হেলপিং পিপলস আউট হিসেবে দেখি। যেমন আমাদের প্র্যাকটিসে অনেক রকমের ক্লায়েন্ট আসে। একেকজনের একেক রকম সমস্যা নিয়ে আসে। আমার মনে হয় যে ল’ইয়ার হলো একটা নোবেল প্রফেশন। যেটা দিয়ে আমরা সাধারণ মানুষকে হেল্প করতে পারি। এটা আমি একটা ল স্টুডেন্টকে বলবো, তুমি যদি মানুষকে হেল্প করতে চাও, তাহলে আইন পড়।

মোহান্নাদ এফ ভূইয়া রোমিও : আমার মনে হয় যে মানুষ ক্রিটিক্যালি চিন্তা করতে ইনজয় করে তারা লিগ্যাল প্রফেশন ইনজয় করে। এলসিএলএসে যখন আমার  কাছে স্টুডেন্টরা আসে তারা যখন এডভাইস চায় তখন তাদের বলি তোমরা যদি প্রবলেম সলভিংটা ইনজয় করো, যদি মানুষ হেল্প করতে চাও তাহলে ল’ তোমার প্রফেশন। যার ভেতরে ক্রিটিক্যাল থিংকিং স্কিলটা নাই, সে কিন্তু সাকসসিড করতে পারে না। এটাই আমি আমার স্টুডেন্টদের বলি।

dhakapost
বিশেষ কোনো দিনে ব্যারিস্টার দম্পতি

আইন পড়ে কি শুধু আইনজীবীই হতে হবে?

মায়িশা ইসলাম ধূসরিমা-মোহান্নাদ এফ ভূঁইয়া রোমিও : আইন পড়লে যে শুধু আইনজীবীই হতে হবে, এমন নয়। আইন পড়লে অনেক কিছুই করা যায়। অনেক অনেক চাকরির অপশন তো থাকেই। কর্পোরেট সেক্টরেও অনেক সুযোগ আছে। বাংলাদেশে এখন স্টার্টআপ বিজনেস শুরু হয়েছে।  প্রত্যেকটা বিজনেসের ক্ষেত্রেই একজন লিগ্যাল অ্যাসিসট্যান্ট দরকার হয়। বড় বড় মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে আইন পড়ুয়াদের জবের সুযোগ রয়েছে। টিচিং করতে পারে।  আইন পড়ে কি করব এটার কোনো লিমিটেশন নেই। আমরা এরকম  উদাহরণ দেখেছি বিভিন্ন দেশে আইন পড়ে, কিন্তু সে প্রাইম মিনিস্টারও হয়ে গেছে। আইন পড়ুয়াদের ক্যারিয়ার গড়ার অপশন আনলিমিটেড।

সমাজের অসহায় মানুষের জন্য পরিকল্পনা…

আমাদের পরিচিতদের মধ্যে যাদের আর্থিক অবস্থা তত ভালো না তারা যখন লিগ্যাল সার্ভিসের জন্য আমাদের কাছে আসে তাদের যতদূর সম্ভব আর্থিকভাবে সহযোগিতা করি। কিছু ক্ষেত্রে বিনামূল্যে তাদের সার্ভিস দিয়ে থাকি। তাকে রাইট ওয়েতে গাইড করে নিয়ে তার প্রবলেম থেকে বের করে নিয়ে আসি। ভবিষ্যতে এটার পরিধি আমরা আরও বৃদ্ধি করব।

এছাড়া আমাদের দেশে পপুলেশন অনেক। এডুকেটেড মানুষের সংখ্যা কম। যদিও এখন বাড়ছে। আমার মনে হয় আরও বাড়া উচিত। ভবিষ্যতে ইচ্ছে আছে এমন একটা এডুকেশন সিস্টেম তৈরি করে দিয়ে যাব, যেখানে অস্বচ্ছল মানুষের ছেলে মেয়েরা পড়তে পারবে। শিক্ষার প্রসারের জন্য কাজ করব। 

এমএইচডি/এসএম

Link copied