রমনায় বোমা হামলা : আপিল নিষ্পত্তিতে আর কত অপেক্ষা?

Mahidi Hasan Dalim

১৪ এপ্রিল ২০২২, ১১:৫৭ এএম


রমনায় বোমা হামলা : আপিল নিষ্পত্তিতে আর কত অপেক্ষা?

রমনা বটমূলে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলার ২০ বছর পেরিয়ে গেছে। কিন্তু এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলা এখনও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। মামলার প্রধান আসামি মুফতি হান্নানের অন্য মামলায় ফাঁসি কার্যকর হলেও রমনা বোমা হামলা নিষ্পতি না হওয়ায় অন্য আসামিদের দণ্ড কার্যকর করা যাচ্ছে না।

রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, সর্বশেষ ২০২১ সালের ২ নভেম্বর রমনা বোমা হামলা মামলা বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের হাইকোর্ট বেঞ্চের কার্যতালিকায় ছিল। ওইদিন মামলাটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দেন হাইকোর্টের ওই বেঞ্চ। এরপর নিয়মানুযায়ী আপিল মামলাটি চলে যায় প্রধান বিচারপতির কাছে। এখন প্রধান বিচারপতি চাইলে নতুন কোনো ফৌজদারি বেঞ্চে রমনা বোমা হামলা মামলার আপিল ও ডেথ রেফারেন্স নিষ্পত্তির জন্য পাঠাতে পারেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমরা তো শুনানির জন্য প্রস্তুত আছি। আমার মক্কেল দীর্ঘদিন কনডেম সেলে রয়েছেন। তিনি রাষ্ট্রপক্ষকে দ্রুত আপিল ও ডেথ রেফারেন্স শুনানির উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

আসামিপক্ষের আইনজীবীদের অভিযোগ ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে এই মামলার আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষ পর্যায়ে উপনীত হয়। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষের বার বার সময়ক্ষেপণের কারণে‘ বিরক্ত’ হয়ে হাইকোর্টের ওই বেঞ্চ মামলাটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়ে দেন। এরপর হাইকোর্টের আরও দুটি বেঞ্চে মামলাটি শুনানির জন্য কার্যতালিকায় উঠলেও শুনানি হয়নি আলোচিত এ মামলা।

রাষ্ট্রপক্ষের সময়ক্ষেপণের অভিযোগ করেছেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম মুনীর। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, রমনা বোমা হামলা মামলার আপিল ও ডেথ রেফারেন্স শুনানির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলার ঘটনায় করা হত্যা মামলার রায় হয়েছে। ওই হামলার প্রায় ১৩ বছর পর ২০১৪ সালের ২৩ জুন। রায়ে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশের (হুজি-বি) শীর্ষ নেতা মুফতি আবদুল হান্নানসহ আটজনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ এবং ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন আদালত।

একই বছর বিচারিক আদালতের এ রায়ের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তদের মধ্যে মাওলানা তাজউদ্দিন, হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম, মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আবদুল হাই, মাওলানা আবু বকর ও আরিফ হাসান ওরফে সুমন হাইকোর্টে ফৌজদারি আপিল দায়ের করেন।

এছাড়া মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত মুফতি আবদুল হান্নান, মাওলানা আকবর হোসাইন ওরফে হেলাল উদ্দিন, আরিফ হাসান ওরফে সুমন জেল আপিল দায়ের করেন।

২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল রমনা বটমূলে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলায় ১০ জন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হন। ঘটনাস্থলেই মারা যান ৯ জন। তারা হলেন, আল-মামুন হোসেন, রিয়াজুল ইসলাম, জান্নাতুল ফেরদৌস শিল্পী, আবুল কালাম আজাদ, মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, মোহাম্মদ এমরান হোসেন, অসীম চন্দ্র সরকার, ইসমাইল হোসেন স্বপন ও আনসার আলী। একজনের পরিচয় জানা যায়নি। এ ঘটনায় পুলিশ রমনা থানায় মামলা করে। ২০০৬ সালের ১৯ নভেম্বর এ মামলায় মুফতি আবদুল হান্নান আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর ঘটনার জট খোলে। সেনা সমর্থিত সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এ মামলার তদন্তে গতি সঞ্চার হয়। ২০০৮ সালের ২৯ নভেম্বর মুফতি হান্নানসহ ১৪ জনকে আসামি করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) আদালতে ওই ঘটনায় দুটি অভিযোগপত্র দেয়। এর একটি হত্যা ও অপরটি বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে।

১৪ আসামির মধ্যে হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া আসামিরা হলেন মুফতি হান্নান, মাওলানা আকবর হোসাইন ওরফে হেলাল উদ্দিন, আরিফ হাসান ওরফে সুমন ওরফে আবদুর রাজ্জাক, মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আবদুল হাই, মাওলানা আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার, মাওলানা তাজউদ্দিন (সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর ভাই) এবং হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম ওরফে ওস্তাদ জাহাঙ্গীর বদর। এদের মধ্যে প্রথম চারজন কারাগারে এবং শেষের চারজন পলাতক। অপর ছয় আসামিকেই হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। কারাগারে আটক এই ছয় আসামি হলেন হাফেজ আবু তাহের, মাওলানা সাব্বির ওরফে আবদুল হান্নান, হাফেজ ইয়াহিয়া, মাওলানা শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ, মাওলানা আবদুর রউফ ও শাহাদাত উল্লা ওরফে জুয়েল।

একই ঘটনায় বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলাটি ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন।  

সাবেক বিট্রিশ হাই কমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর হামলার ঘটনায় করা মামলায় রমনা হত্যা মামলার প্রধান আসামি মুফতি হান্নানের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে।

এমএইচডি/এসএম

Link copied